আদিবাসীরা রুখে দাঁড়াচ্ছে

দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্র ইকুয়েডরের আদিবাসী কিচওয়া ইন্ডিয়ানরা নিজেদের অধিকার প্রশ্নে ক্রমশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তাদেরই একটি অংশ সারাইয়াকুর অধিবাসীরা সম্প্রতি অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছে।


একটি আঞ্চলিক মানবাধিকার আদালত রায় দিয়েছে যে সারাইয়াকুতে একটি জ্বালানি প্রকল্প অনুমোদন করে ইকুয়েডর সরকার সারাইয়াকুবাসীর অধিকারকে উপেক্ষা করেছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে আমেরিকানদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে আদিবাসীদের সঙ্গে কথা না বলে কিংবা মতামত না দিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে যাওয়া ঠিক হবে না। সারাইয়াকুবাসীর সঙ্গে ইকুয়েডর সরকারের বিরোধের শুরু ১৯৯৬ সালে যখন রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান পেট্রোইকুয়েডর আর্জেন্টিনার কোম্পানি সিজিসির নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে তেল আহরণ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। চুক্তির আওতাভুক্ত এলাকার সিংহভাগই সারাইয়াকুর অধিবাসীদের পৈত্রিক এলাকা। অথচ তাদের সঙ্গে এরা আগে থেকে কোন আলোচনা করেনি। সিজিসি পরে স্থানীয়দের তাদের সম্মতির বিনিময়ে চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিছু কিছু গ্রাম সেটা মেনে নিলে সারাইয়াকুর মানুষ রাজি হয়নি।
২০০৩ সালের প্রথমভাগে সিজিসি এই শহরটির চারপাশে ভূকম্পন জরিপের জন্য ৪৬৭টি বোরহোন খুলে এবং ১৪৩৩ কেজি উচ্চশক্তির বিস্ফোরক দিয়ে সেগুলো ঠেসে দেয়। এগুলো কখনই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি এবং বনভূমির মধ্যে চাপা পড়েছিল। সিজিসি গাছপালা কেটে সারাইয়াকুর কিছু কিছু পানির উৎস ধ্বংস করে।
সারাইয়াকুর অধিবাসীরা শেষে আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার আদালতে মামলা করে। আদালত লক্ষ্য করে যে রাষ্ট্র গ্রামবাসীদের সঙ্গে আগে থেকে আলোচনা না করে এই প্রকল্প অনুমোদন করে তাদের অধিকার সম্পত্তি ও সাংস্কৃতিক সত্তা লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে সিজিসির পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষা কাজের ফলে তাদের জীবনের অধিকার হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। আদালত আদিবাসীদের ক্ষতি পূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেয় এবং বলে যে, ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রুপগুলোর বক্তব্য পরিকল্পনা প্রথম পর্যায়ে গুনতে হবে। অবশ্য আদালত সারাইয়াকুর জমিতে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা পরীক্ষা বা অনুসন্ধানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
রুলিং থেকে আরও দেখা যায় যে আঞ্চলিক বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব বা আবেদন বিন্দুমাত্র ক্ষুণœ হয়নি। ২০১১ সালে আন্তঃআমেরিকার মানবাধিকার কমিশন বিশাল বেলোমন্টে বাঁধের কাজ বন্ধ করতে ব্রাজিলকে নির্দেশ দিয়েছিল কারণ প্রতিবেশীদের বক্তব্য পেশ করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয়নি। ব্রাজিল অবশ্য সেই নির্দেশ মানেনি। তবে বাঁধ চালু করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রেখেছিল। কলম্বিয়ার আদিবাসীদের প্রতিরোধ ॥ কলম্বিয়ার মানুষ সেনাবাহিনী ও এফএআরসি গেরিলাদের লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে ক্লান্ত ও দিশেহারা। এই লড়াইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে নাসাট্রাইব গৃহযুদ্ধের দুই পক্ষের উপরই চড়াও হয়ে হেনস্থা করে ছেড়েছে। এ জন্য তাদের অবশ্য একটি বুলেটও খরচ করতে হয়নি। হালে টরিবিও শহরটিকে সেনাবাহিনী ও এফএআরসি গেরিলাদের লড়াইয়ের ধকল সইতে হয়। গত ৬ জুলাই গেরিলারা সেখানকার একটি থানায় মর্টার ছুঁড়ে। মর্টার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আশপাশের কয়েকটি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে। শহরে অবস্থানরত সৈন্যরা পাল্টা গুলি চালায়। পরে গেরিলাদের নিক্ষিপ্ত আরেকটি মর্টারের গোলায় টরিবিওর একটি ক্লিনিক বিধ্বস্ত হয়।
এই হানাহানিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় নাসা ট্রাইব নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিক লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে এই অধিবাসীদের বাহিনী ইন্ডিয়ান গার্ডের সদস্যরা থানার চারদিকে প্রতিরক্ষা ব্যূহ হিসেবে স্থাপন করা বালুর বস্তার দেয়াল ভেঙ্গে দেয় এবং বলে যে এর কারণেই শহরটি গেরিলা হামলার শিকার হয়েছে। ক’দিন পর নাসার বাহিনী পাহাড় চূড়ায় স্থাপিত সেনা চৌকি ভেঙ্গে দেয় এবং সেখানকার অল্প সংখ্যক সৈন্যকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এরপর ট্রাইবটি নিকটবর্তী শিবিরের একটি সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপকে উৎখাত করে এবং শহরটিকে বিপন্ন করার জন্য কয়েকজন গেরিলা সদস্যকে প্রকাশ্যে বেত মারার সাজা দেয়। আদিবাসীদের এই অভ্যুত্থান প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যাহুয়েন সান্ডোসাক কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। তিনি নাসাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী লেলিয়ে না দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন। সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

No comments

Powered by Blogger.