এবিসি রেডিও-প্রথম আলো জবস ‘হতে চাই পেতে চাই’- এসিসিএর চাহিদা বিশ্বব্যাপী

এবিসি রেডিওর স্টুডিওতে প্রথম আলো জবস ‘হতে চাই পেতে চাই’ অনুষ্ঠানে গত ৩১ জুলাই এসেছিলেন এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মহুয়া রশীদ। তিনি কথা বলেছেন কথাবন্ধু ব্রতীর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে অতিথি বন্ধু ছিলেন এসিসিএতে অধ্যয়নরত দুই শিক্ষার্থী সারজ ও ফাহাদ।


এসিসিএতে পড়াশোনাসহ এ পেশার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

কথাবন্ধু: এসিসিএ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু বলুন?
মহুয়া রশীদ: এসিসিএ (অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস) বিষয়টি একটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি পেশাগত ডিগ্রি। এর জন্ম হয়েছিল ১৯০৪ সালে। এটি আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (আইফ্যাক) সদস্য। এটাকে ব্রিটিশ কারিকুলামের সিএ ডিগ্রি বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর ১৭০টি দেশে এসিসিএর শিক্ষার্থী ও সদস্য রয়েছেন। এসব দেশে বর্তমানে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী আছেন। এসিসিএর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কথাবন্ধু: এসিসিএতে পড়তে হলে কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার হয়?
মহুয়া রশীদ: এসিসিএতে পড়তে হলে স্নাতক বা এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর সরাসরি শুরু করা যায়। এর পাশাপাশি যাঁরা এইচএসসি পাস করেছেন, তাঁরাও শুরু করতে পারেন। এ জন্য তাঁদের অবশ্য এইচএসসির পরেই ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি করেই এসিসিএতে আসতে হবে।এ ক্ষেত্রে তাঁরা মৌলিক বিষয়গুলো শেখার পর এসিসিএ করার সুযোগ পান।
কথাবন্ধু: এসিসিতে কী কী বিষয়ে পড়ানো হয়? এসিসিএ শেষ করতে কত দিন সময় লাগে?
মহুয়া রশীদ: এসিসিএতে মোট ১৪টি বিষয় আছে। তবে এখানে শুধু বিষয়গুলো পড়াই শেষ কথা নয়। যেহেতু এটি একটি পেশাগত ডিগ্রি, সেহেতু শিক্ষার্থীদের আমরা বলি এখানে তিনটি ‘ই’ সম্পন্ন করতে হবে। তিনটি ‘ই’র মধ্যে প্রথম ‘ই’-তে ১৪টি বিষয় আছে। দ্বিতীয় ‘ই’ হচ্ছে প্র্যাকটিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স অর্থাৎ তিন বছরের হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতা। আর শেষ ‘ই’টা হচ্ছে এথিকস বা নীতিনৈতিকতা। এসিসিএ নৈতিকতার ব্যাপারে জোর দেয়। কাজেই এই তিনটি ‘ই’ সম্পন্ন করতে পারলেই একজন এসিসিএর মেম্বার (সদস্য) হতে পারবেন। স্বাভাবিক নিয়মে সাড়ে তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এসিসিএ সম্পন্ন করা যায়।
কথাবন্ধু: ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু বলুন?
মহুয়া রশীদ: যদি কেউ অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে চান, তাহলে তাঁর অবশ্যই একটি শক্ত ভিত থাকতে হবে। সে জন্য ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি হিসেবে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এখানে বেশ কিছু সার্টিফিকেট কোর্স এবং ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে; যেগুলো আলাদা করেও ব্যবহার করা যায়। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা চাইলেই এসিসিএতেও চলে আসতে পারে। ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সির জন্য এইচএসসি পাস হলে ভালো হয়। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না।
কথাবন্ধু: এসিসিএতে ভর্তি-প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়?
মহুয়া রশীদ: ভর্তি-প্রক্রিয়াটি সাধারণত অনলাইনেই হয়ে থাকে।তবে কাগজপত্রের মাধ্যমেও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে খুব একটা বলি না। কারণ, অনলাইনে এটা যে কেউ ১০-১৫ মিনিটেই করতে পারে। ভর্তি ফি এবং অন্যান্য ফিও তারা অনলাইনে দিতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি হচ্ছে।
কথাবন্ধু: কাজ খুঁজে পেতে আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা করছেন?
মহুয়া রশীদ: আমরা চাকরিদাতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলছি। শিক্ষার্থী অবস্থায় অনেকের চাকরি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, এখানে তাদের হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতার দরকার রয়েছে। নতুন নতুন কোম্পানি বাজারে আসছে। কাজের সুযোগ ও চাহিদাও বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার কোয়ালিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রয়োজন। কিন্তু চাকরির বাজারে তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই।
কথাবন্ধু: যুক্তরাজ্যের এমন একটি অ্যাকাউন্ট্যান্টস আছে কি?
মহুয়া রশীদ: বস্তুনিষ্ঠতা এবং স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজন। গুণগত মান হলো অডিটের চরিত্র এবং অডিটের মানদণ্ডই মূল উদ্দেশ্য, যেখানে এই বিষয়গুলো সমঝোতা অথবা হুমকির মুখে থাকে। যুক্তরাজ্যে এবং অন্যান্য জায়গায় এর একটি কাঠামোই হলো লক্ষ্য, অনুরূপ বাংলাদেশকেও এর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে; যা স্বাধীন অ্যাকাউন্ট্যান্সি সংস্থার সুদৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা জনস্বার্থকে অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে, যা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাজ্যে এবং অন্যত্র নিজস্ব বিধান, নিজস্ব প্রত্যক্ষ স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া এটা মানদণ্ড হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী বিবেচিত হবে না, যা জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে পারে।
ফাহাদ (অতিথি বন্ধু): পিআর সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমাদের কি কোনো সিএ ফার্মেই কাজ করতে হবে, নাকি অন্য কোনো কোম্পানি থেকে করলেও হবে?
মহুয়া রশীদ: পিআর হচ্ছে প্র্যাকটিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স রিকোয়ারমেন্ট। অর্থাৎ তিন বছরের হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো ফাইন্যান্স ফার্মে কাজ করাটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে এসিসিএ। যেখানেই হোক না কেন, ফাইন্যান্স বিভাগে হতে হবে। তবেই তুমি এ ক্ষেত্রে ওই ১৩টি অবজেকটিভ বা উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারবে।
কথাবন্ধু: নতুনদের জন্য আপনার দিকনির্দেশনা কী হবে?
মহুয়া রশীদ: এসিসিএ একটি পেশাগত ডিগ্রি। এই ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য বিশ্বব্যাপী দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য অবশ্য আগ্রহ থাকতে হবে। আশপাশে কী ঘটছে, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে সততা ও নৈতিকতা থাকা উচিত। এসিসিএ বাংলাদেশের হিসাবরক্ষণে পেশাজীবীদের যোগ্য করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
 গ্রন্থনা: সুদীপ দে

No comments

Powered by Blogger.