ম রি বা র হ লো তাঁ র সা ধ

বিচিত্র কারণে বিশ্বখ্যাত অনেক কবি-সাহিত্যিকই বেছে নিয়েছিলেন আত্মহননের পথ। নতুন পাঠকের অনেকেই সেসব প্রিয় লেখকের শেষ পরিণতির কথা জেনে দুঃখিত হন। নিচে আত্মহত্যাকারী বিখ্যাত লেখকদের তেমনই কয়েকজন। লিখেছেন জারা ফাতিমা


ভার্জিনিয়া উলফ [১৮৮২-১৯৪১]
‘আমি নিশ্চিত, আমি আবার পাগল হয়ে যাচ্ছি। বুঝতে পারছি এই ভয়ংকর অসহনীয় সময়টা এ যাত্রা আমি আর পার করতে পারব না। এবার আর আমি সেরে উঠব না। আমি মৃতদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি চারপাশে, কোনো কিছুতেই আমি মনোযোগ বসাতে পারছি না। কাজেই এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার সবচেয়ে উত্তম পথটাই আমি বেছে নিচ্ছি...স্বামীকে লেখা শেষ চিঠি। ১৯৪১ সালের ২৮ মার্চ ভার্জিনিয়া উলফ আত্মহত্যা করেন। গায়ে ওভারকোট চাপিয়ে পকেট ভরে নেন পাথরে, তারপর বাড়ির কাছে আউস নদীতে ডুবে মরেন।

ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি [১৮৯৩-১৯৩০]
লেখক, কবি, নাট্যকার ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কির জন্ম সোভিয়েত রাশিয়ার জর্জিয়ায়। বাবা ছিলেন ইউক্রেনীয় কসাক, পেশায় বনরক্ষী। ১৪ বছর বয়সেই মায়াকোভস্কি সক্রিয়ভাবে সোশ্যালিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
মস্কোয় মায়াকোভস্কি মার্কসিস্ট সাহিত্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ১৪ এপ্রিল ১৯৩০ সালের এক সন্ধ্যায় মায়াকোভস্কি পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। ‘আনফিনিশড পোয়েম’সে তাঁর আত্মহত্যার বিবরণীতে এক অংশে লেখেন:
এবং তারা তাই বলে— দুর্ঘটনা ঘটে গেছে/চুরমার হয়ে গেছে ভালোবাসার তরী/সাঙ্গ প্রিয়তম দিনের কাজ/জীবনের লেনাদেনা চুকিয়ে ফেলেছি/এখন আমরা সবাই বিমুক্ত হব/সব পীড়া, ক্লেদ যন্ত্রণা আর অবসাদ থেকে।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে [১৮৯৯-১৯৬১]
হেমিংয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে, ওক পার্কে। স্কুল ছেড়ে রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্যারিসে বৈদেশিক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সেই সময়কার ফরাসি শিল্পী, লেখক কর্তৃক দারুণভাবে প্রভাবিত হন। এ সময় তিনি রচনা করেন প্রথম উপন্যাস দি সান অলসো রাইজেস।
১৯৫২ সালে হেমিংওয়ে রচনা করেন তাঁর জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দি সি। ১৯৬২ সালের গ্রীষ্মে আত্মহত্যা করেন তিনি।

ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা [১৮৯৯-১৯৭২]
অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রথম নোবেল বিজয়ী জাপানি লেখক। ১৯৬৮ সালে সাহিত্যের এই সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
কাওয়াবাতার নোবেল বক্তৃতা ‘জাপান, দি বিউটিফুল মাইসেলফ’ অনেকভাবেই কৌতূহলোদ্দীপক ও ইঙ্গিতবাহী। স্পষ্টভাবে এতে কাওয়াবাতা আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলেন, স্মৃতিচারণা করেন আরও অনেক জাপানি লেখকের, যাঁদের জীবনাবসান ঘটেছে আত্মহননের মধ্য দিয়ে। যারা তাঁর পারিপার্শ্বিক নিয়ে চিন্তা করে, তাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে একবারও আত্মহত্যার কথা ভাবেনি? প্রশ্ন তুলে ১৯৭২ সালে কার্বন মনোক্সাইড বিষে আত্মহত্যা করেন কাওয়াবাতা।

ইয়োকো মিশিমা [১৯২৫-১৯৭০]
জাপানি সাহিত্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। কিমিতেক হিরায়োকা নামেও লিখতেন। টোকিওর ইয়োটসোয়া জেলায় জন্ম।
মিশিমার লেখালেখি শুধু গল্প-উপন্যাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি একই সঙ্গে লিখেছেন কাবুকি ও নোহ মঞ্চনাটক।
সম্রাটের শাসন পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৯৭০ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন মিশিমা। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। মিশিমার জীবনীকারের মতে, ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ছিল একটা উপলক্ষ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই মিশিমা আত্মহত্যার স্বপ্ন দেখছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.