চরাচর-নয়নাভিরাম মনপুরা by অনিকেত

দ্বীপজেলা ভোলার একটি দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। যোগাযোগব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম নৌযান। প্রায় দেড় লাখ জনসংখ্যা-অধ্যুষিত এই উপজেলাটির সিংহভাগ মানুষের পরিচয় মৎস্যজীবী। মনপুরায় গেলে যেকোনো মানুষের মন জুড়াবে_এমনটি বলা যায় সংশয়াতীতভাবেই। সম্প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চোখ পড়েছে সেখানে।


কিন্তু থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্তের অভাবে মনপুরা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে না। মনপুরার বনে হরিণের দিগ্বিদিক ছুটে চলা, গাছের ডালে ডালে নানা রকম পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর বানরের লাফালাফি মনে করিয়ে দেয়_এ যেন প্রকৃতই অভয়ারণ্য। মেঘনা নদীঘেঁষা এই দ্বীপ উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকতে বড় অনীহা। এ চিত্র মনে করিয়ে দেয় সেই প্রবাদ_'কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই।' এর মাসুল গুনতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। দুর্গম অঞ্চল বিধায় প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সেখানে চাকরি করা মানে তাদের কারো কারো ভাষায় শাস্তি বৈ কিছু নয়। মনপুরার প্রশাসনের বিবর্ণ চিত্র অনুসন্ধানী যেকোনো কারোরই দৃষ্টি এড়ায় না। বর্ষা মৌসুমে মনপুরায় যাতায়াত বড় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদি পর্যাপ্ত সি-ট্রাকের ব্যবস্থা থাকত এবং পর্যটকদের অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যেত, তাহলে এই দ্বীপ উপজেলাটির আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যেত। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আয়ের ক্ষেত্র বিস্তৃত করার এমন অনেক পর্যটন স্থান এ দেশে বড় অনাদর-অবহেলা আর উদাসীনতার বৃত্তবন্দি। বলা যেতে পারে, এর জন্য অদূরদর্শিতাও কম দায়ী নয়। পর্যটন যে কত বড় শিল্প হয়ে উঠতে পারে এই বাংলাদেশে, তা গুরুত্বসহকারে অনুধাবন করার সক্ষমতা থাকলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চেহারা আরো উজ্জ্বল হতো। বাংলাদেশে অনেক পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে, যেগুলো পর্যটনপিপাসুদের খুব টানে, কিন্তু অবকাঠামোগত অনুন্নয়নসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতা তাদের সে আগ্রহ নিমেষে দমিয়েও দেয়। মনপুরা তেমনই একট পর্যটনক্ষেত্র। নয়নাভিরাম মনপুরার বর্ণনা দিয়ে শেষ করার নয়। যাঁরা মনপুরায় একবার গেছেন, তাঁদের মনে মনপুরা অনেকখানি জায়গাজুড়ে রয়েছে। সম্প্রতি আমরা কয়েকজন মনপুরায় গিয়েছিলাম, কিন্তু প্রকৃতির আচরণ হঠাৎ বৈরী হয়ে পড়ায় ফিরতে গিয়ে শঙ্কায় হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। তার পরও মনভোলানো মনপুরা অবিরত তার দিকেই টানে। আমরা সেখানে দেখা পাই দুজন বিদেশির। তাঁরা মনপুরার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রশ্ন, সরকার মনপুরার মতো এমন একটি স্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন? এ প্রশ্ন আমাদেরও, একই সঙ্গে মনপুরাবাসীরও। মনপুরার দিকে পর্যটন মন্ত্রণালয় দৃষ্টি দেবে_এটাই প্রত্যাশা।
অনিকেত

No comments

Powered by Blogger.