হরতালে পুলিশি নিষ্ঠুরতা-অনভিপ্রেত, নিন্দনীয়

বিএনপি ও তার মিত্রদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার প্রথম দিন বুধবার জাতীয় সংসদ এলাকায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশি অ্যাকশন নিন্দনীয়। টেলিভিশনে দেশ-বিদেশের অগণিত দর্শক স্তম্ভিত হয়ে দেখেছে ঢিলেঢালা হরতাল পালনকালে রাজপথে একজন সংসদ সদস্যকে পুলিশ কিল-ঘুষি ও বুটের আঘাতে জর্জরিত করছে।


জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই তার ওপর পুলিশ পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। হতে পারে যে, জয়নুল আবদিন ফারুকের পুলিশের প্রতি আচরণে রূঢ়তা ছিল, তিনি হরতালে পিকেটারের ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশি জবাব তো এভাবে হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এ ঘটনাকে অনভিপ্রেত আখ্যায়িত করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠাবেন বলে জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউতে দায়িত্ব পালনকালে আহত দু'জন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি একইভাবে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে সমবেদনা জ্ঞাপনের জন্য গেলে সেটাই হতো নিরপেক্ষ অবস্থান এবং তাতে অন্তত এ আশ্বাস মিলত যে, ঘটনার জন্য যে বা যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংসদ অধিবেশন টানা বর্জন করে হরতাল-অবরোধের কৌশল অনুসরণ সমর্থনযোগ্য নয়। এমনও নয় যে, জনসাধারণ হরতালের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। হরতাল আহ্বানকারী শক্তির নেতাকর্মীদের পিকেটিংয়ের জন্য রাজপথে উপস্থিতির দৃশ্য বিরল। বলা যায়, একেবারেই উত্তাপহীন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সংসদ এলাকায় পুলিশের অতিমাত্রায় সক্রিয়তা কেন প্রয়োজন পড়ল, কীভাবে তা ঘটতে পারল এবং কারা ঘটাল, তার তদন্ত জরুরি। পুলিশ সব আমলেই বিরোধীদের ওপর অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করে, সেটা জানা কথা। সঙ্গত কারণেই সব মহল থেকে অভিযোগের তীর ধাওয়া করে সরকারের প্রতি এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় দারুণভাবে। এখন এটাও বলা যায় যে, হরতালের মতো কর্মসূচি আর জনসমর্থনের মাপকাঠি নয় বরং তার ফলে অনভিপ্রেত ও সহিংস কিছু ঘটনাই কেবল জন্ম দেয়। এটা পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ায়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ দুরূহ করে তোলে। রাজনীতির স্বাভাবিক ধারা বিঘি্নত করে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সহিষ্ণুতার অনুশীলনে তা কোনোভাবেই সহায়ক হয় না। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা হরতালের মতো কর্মসূচিকে অগণতান্ত্রিক ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর আখ্যায়িত করে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় 'আপনি আচরি ধর্ম' প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দেওয়াই সঙ্গত। শুভবুদ্ধির জয় হোক, এটাই প্রত্যাশা থাকবে। আজ শুক্রবার ভোরে দু'দিনের হরতালের পর ৪৮ ঘণ্টার সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হচ্ছে। এ সময়সীমা শেষ হতে না হতেই শুরু হবে কতিপয় ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের আহ্বানে টানা ৩০ ঘণ্টার হরতাল। এ কর্মসূচিও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিরোধীয় ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি কিংবা জনজীবনে বিদ্যমান সমস্যাদির সমাধানে ভূমিকা রাখবে, এমন আশা কেউ করে না। বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তার পালেই তা হাওয়া দেবে। ক্ষতি হতে থাকবে অর্থনীতির। জনজীবন হতে থাকবে বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতির হাত থেকে দেশবাসী সত্যিই নিষ্কৃতি চায়।
 

No comments

Powered by Blogger.