বিকল্প কর্মসূচির কথাই ভাবতে হবে-আবার হরতাল

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রতিবাদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ৬ ও ৭ জুলাই ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আহ্বান করেছে। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিএনপির ভাষায়, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া এবং তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ হরতালের কর্মসূচি নেওয়া হয়।


এ ছাড়া ১৩টি ইসলামি দল ১০ জুলাই আরেক দফা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিন গতকাল রোববার আধা বেলা হরতাল পালন করল তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সব মিলিয়ে চলতি ও আগামী সপ্তাহ ৭৮ ঘণ্টা হরতালের ফাঁদে পড়ল দেশ। হরতাল আহ্বানকারীরা এর ক্ষতির দিকটি ভেবে দেখেছেন কি?
গত শনিবার রাতে চারদলীয় জোটের বৈঠকে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়ার আগেই কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। বিগত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির জন্য জামায়াতের সঙ্গে দলটির সখ্যও কম দায়ী ছিল না। এখন তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন সাধারণ মানুষ সমর্থন করবে কি না, তা-ও ভেবে দেখার বিষয়। হূত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে বিএনপির উচিত জামায়াতসহ সব মৌলবাদী দলের সংস্রব ত্যাগ করা।
দ্বিতীয় কথা হলো, আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে হরতালের কার্যকারিতা কতটুকু? হরতালে যে সরকারের পতন ঘটে না, তা নিশ্চয়ই বিএনপির নেতাদের অজানা নয়। চারদলীয় জোটের আমলে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা অসংখ্য হরতাল ডেকেও সরকারকে পদচ্যুত করতে পারেনি। এখন বিএনপি-জামায়াতও পারবে না। কিন্তু উপর্যুপরি হরতালে অর্থনীতির সমূহ ক্ষতি হবে, জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে, বিপাকে পড়বে সাধারণ মেহনতি মানুষ।
তা ছাড়া বিএনপি হরতালের কারণ হিসেবে যেসব যুক্তি দিয়েছে, তার কোনো কোনোটির সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। তারা জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কথা বলেছে। এই আঘাত দেওয়ার বিষয়টি তো পঁচাত্তরের পর থেকেই চলে আসছে। আওয়ামী লীগ বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার যে ওয়াদা করেছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিএনপি অন্য যেসব দাবির কথা বলেছে, সেগুলো নিয়ে তারা জনগণের কাছে যেতে পারত, মানববন্ধনের মতো নিয়মতান্ত্রিক অথচ কার্যকর কর্মসূচি নিতে পারত। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনমত তৈরি বা আন্দোলনের জন্য যে হরতাল-অবরোধের প্রয়োজন পড়ে না, আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক গণজাগরণই তার প্রমাণ। ফেসবুকের মাধ্যমে সেসব দেশের তরুণেরা তাঁদের বক্তব্য সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে। অতএব বরাবরের মতো বিরোধী দলের কাছে আমাদের আহ্বান, হরতাল প্রত্যাহার করে আন্দোলনের বিকল্প পথ খুঁজে বের করুন।

No comments

Powered by Blogger.