ঢাকা মেডিকেল কলেজ-কর্মচারীদের আন্দোলনে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

বেলা সোয়া ১১টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকের সামনে পড়ে আছেন মুমূর্ষু এক তরুণ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে একটি ট্রাক তাঁর মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। কিন্তু তাঁর সাহায্যে কোনো নার্স, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এগিয়ে আসছেন না। তাঁদের কর্মবিরতি চলছে।


জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার বিরোধিতা করে মিছিল-মিটিং ও কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে প্রতিদিন কর্মবিরতি পালন এবং এর প্রস্তুতিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে। জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তবিভাগে রোগীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মচারীরা আমাকে কথা দিয়েছিল, যাঁরা সন্ধ্যা ও রাতের পালায় কাজ করছেন, কেবল তাঁরাই আন্দোলন করবেন। কিন্তু তাঁরা কথা রাখেননি।’
সংগ্রাম পরিষদের নেতা আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেবেন। কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা থেকে সরে না এলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
গতকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন রোগীকে জরুরি বিভাগে সেবা নিতে দেখা যায়। ওয়ার্ড বয়ের পরিবর্তে রোগীর স্বজনেরা কিংবা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য ট্রলি ঠেলে হাসপাতালে নিয়েছেন রোগীদের। চিকিৎসকেরা রোগী নিয়ে হিমশিম খেয়েছেন। একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরিচালকের কাছে সাহায্য চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স প্রথম আলোকে বলেন, দিনের পর দিন রোগীরা কষ্ট করছে। জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন পাঁচজন ওয়ার্ড বয় ও ছয়জন নার্স। আজ দুজন ওয়ার্ড বয় ও একজন নার্স আছেন। এভাবে কাজ চালানো যায় না।
দুপুর সোয়া ১২টায় মেডিসিন বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে বেশ বড় লম্বা লাইন দেখা যায়। রাজধানীর আলুবাজার থেকে আসা আঁখি বেগম বলেন, ঘণ্টা খানেক ধরে কাউন্টারে কেউ ছিল না।
টিকিট কাউন্টারে কর্মরত মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, রোগীদের অসুবিধা হয়নি। তাঁর পরিবর্তে আরেকজন ছিলেন। কিন্তু কে ছিলেন, তা তিনি বলতে পারেননি।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা বেকার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্দোলন করছেন। সরকার তাঁদের আশ্বস্ত করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় হলে কর্মচারীরা পছন্দমতো হাসপাতালে সরকারি চাকরিতে থাকতে পারবেন, বিশ্ববিদ্যালয়েও যোগ দিতে পারবেন।

No comments

Powered by Blogger.