প্রশ্নপত্র অদল-বদল-সর্বাগ্রে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ

মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কয়েকটি কেন্দ্রে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে নতুন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নজরে আসার পর প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই উদ্বেগে পড়েছে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষা সচিব পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না, এমন আশ্বাস দিয়েছেন। কাদের অসতর্কতায় এমন কাণ্ড, সেটাও জানতে চেয়েছে মন্ত্রণালয়।


ইতিমধ্যে কুমিল্লা ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। এ মনোভাব প্রত্যাশিত। এ ভুল ইচ্ছাকৃত নয়, সম্ভবত অসতর্কতাজনিত। এ বছর নতুন ও পুরনো উভয় ধরনের সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণের কারণেই এ বিপত্তি। কিন্তু পরীক্ষার হলে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের অবশ্যই খুঁটিনাটি সব বিষয়ে মনোযোগ রাখতে হবে। কেন্দ্রগুলোতে একাধিক সিলেবাসের প্রশ্ন কেন পাঠানো হয়েছে এবং কাদের কোন ধরনের প্রশ্ন দিতে হবে, সেটা জানা কথা। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তিন ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও আদৌ ভুল ধরে উঠতে পারেননি। রাজধানীর মিরপুরের একটি কেন্দ্রের চারটি কক্ষে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সবাইকে দেওয়া হয়েছে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র। এ ঘটনা আগামী পরীক্ষাগুলোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা হয়ে উঠবে, এটাই আশা করব। প্রশ্নপত্র অদল-বদল হওয়ার কারণে ফল নিয়ে উৎকণ্ঠা দূর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হওয়া উচিত। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যেন নির্বিঘ্নে দিতে পারে, সে জন্যই এটা করতে হবে। বহু নির্বাচনী অংশের দুটি প্রশ্নে ভুল রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা। সরকারকে নানা ইস্যুতে প্রায়শই আমজনতার কাঠগড়ায় উঠতে হয়। গণমাধ্যমে সমালোচনা হয়। কিন্তু তার মধ্যেও উজ্জ্বল দীপশিখা হয়ে রয়েছে শিক্ষা খাত। নতুন শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে এবং তার বাস্তবায়ন চলছে। প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নতুন ক্লাস শুরুর আগেই ঝকঝকে নতুন বই হাতে পাচ্ছে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত সমাপনী পরীক্ষা শিক্ষার মান বাড়ানোর সহায়ক হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষা বিষয়ে কমছে ভীতি। শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর জন্যও সচেষ্ট রয়েছে সরকার। পরীক্ষায় নকল নয়_ এ ইতিবাচক ধারাও অব্যাহত রয়েছে। ১৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার মাত্র ৩৮ জন_ উৎসাহব্যঞ্জক চিত্র তো বটেই। নকলের মহোৎসব প্রকৃতই অতীতের বিষয়। এমন চিত্রের সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র অদল-বদল হওয়া এবং সময়মতো তা ধরা না পড়ার ঘটনা একেবারেই বেমানান। বিশেষত এর দায় যখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নয়, বরং তাদের শিক্ষকদের। শিক্ষা খাতে আপাত সাফল্য সত্ত্বেও অনেক কিছুই যে বদলানোর বাকি_ এ শিক্ষা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্টরা নেবেন।

No comments

Powered by Blogger.