ছোট হয়ে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ by তবিবুর রহমান টিপু

ফেনী নদীর ক্রমাগত ভাঙনে ছোট হয়ে যাচ্ছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও পাঁচ হাজার একর ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে আরও অনেক পরিবার। ফেনী নদীর ভাঙনে চরহাজারীর কদমতলা, চরপার্বতী, মুছাপুর, গুচ্ছগ্রাম, চরলেংটা ও চরএলাহী ঘাটের শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে হারিয়ে গেছে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ অসংখ্য স্থাপনা।


ভাঙন অব্যাহত থাকায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চল। এদিকে ভাঙন তীব্র হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। অসহায় এসব মানুষের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে পরিবেশ। উপায় না থাকায় তাদের অনেককে বসবাস করতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ফেনী নদীর ভাঙনে উপকূলের চাষিদের পাঁচ হাজার একর ফসলি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ২শ' মৎস্য খামার ও ২০টি পোলট্রি খামারও হারিয়ে গেছে নদীর পেটে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উপকূলের ১১ কিলোমিটার এলাকা নদীতে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নদীর তীর রক্ষা ও রেগুলেটর চালুর দাবিতে গত ১২ ডিসেম্বর ভাঙনকবলিত কদমতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জনতা এক সভার আয়োজন করে। আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন মোঃ জামাল হক ও মনিরুজ্জামান। বক্তারা বলেন, সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষার ব্যবস্থা না নেয় তাহলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা সমকালকে জানান, নদীর ভাঙন রোধ করতে এবং রেগুলেটর চালুর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.