সোনারগাঁয়ে ক্রেন ভেঙে শ্রমিক নিহত-বিক্ষোভ, হামলা-ভাঙচুর আগ্নি সংযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনা শিল্পাঞ্চলে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ নামের একটি জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানের এক শ্রমিক ক্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম শাহাবুদ্দিন। তাঁর লাশ রাত সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার রাতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর ও গাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়।শ্রমিকরা জানান, গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে একটি জাহাজ থেকে প্রায় ৪০ টন ওজনের লোহা সরানোর সময় ক্রেন ভেঙে পানিতে পড়ে যায়। এ সময় শাহাবুদ্দিন (৩০) নামের ক্রেনের এক হেলপার পানিতে পড়ে যান।


শ্রমিকদের অভিযোগ, যে ক্রেনটি দিয়ে লোহা সরানো হচ্ছিল তার ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১০ টন। ফলে ক্রেনটি লোহা এবং ওই শ্রমিকসহ পানিতে পড়ে। শাহাবুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার বেলকানা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মোজাফফর। শ্রমিকরা আরো জানান, দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায় শ্রমিকদের তোপের মুখে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. দুলাল মিয়া ক্রেন ও শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য অপর একটি ক্রেন ভাড়ার চেষ্টা করেন। ক্রেনের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা চাওয়ায় সেই ক্রেনটি ভাড়া নেয়নি। এক পর্যায়ে দুলাল শ্রমিকদের নিকট থেকে দুই ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়ে ক্রেন ও শ্রমিককে না উঠিয়ে পালিয়ে যান। পরে শ্রমিকরা বিকেলে ঢাকায় যোগাযোগ করলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হেড কোয়ার্টার থেকে একটি ডুবুরি দল পাঠানো হয়। তবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চেষ্টা করে তারা জানায়, লাশ ও ভেঙে পড়া লোহা উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এরপর প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠে। রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পুলিশের সামনেই শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা বিভিন্ন লোহা পানিতে ফেলে দেয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতর গ্যারেজে থাকা অন্তত ৮-১০টি গাড়ি (প্রাইভেট কার, নোয়া ও হাইএঙ্) ও প্রতিষ্ঠানের জানালার কাঁচ, দরজা ও কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় একটি গাড়িতে এবং প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে সোনারগাঁ থানার ওসি মো. ইউনুস আলী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পেঁৗছান।
ওসি ইউনুস আলী জানান, দুপুর ১২টায় ঘটনা ঘটলেও তাঁরা খবর পান রাতে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।?

No comments

Powered by Blogger.