শামীম বললেন-হাত-পা বেঁধে আমাকে পানিতে ফেলা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী এ কে এম শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, তারা (পুলিশ) জামায়াত-বিএনপি-আইভীর কাছ থেকে টাকা খেয়ে আইভীর পক্ষে কাজ করেছে।ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে গতকাল রবিবার বিকেল ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় রাইফেলস্ ক্লাবে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি একটা দল করি। আমি সরকার সমর্থিত প্রার্থী। এ জন্য সরাসরি কিছু বলা যায় না।


কিন্তু দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, কাউকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নদীতে ফেলে সাঁতার কাটতে বললে যে রকম অবস্থা হয়, আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।'সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, র‌্যাবের ভূমিকা ভালো থাকলেও প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ সদস্যরা আইভীর পক্ষে কাজ করেছেন। বেশির ভাগ কেন্দ্রে পুলিশের ভূমিকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা হয়েছে পুরোটাই কালো টাকার দৌরা@ে@@@্যর কারণে।
শামীম ওসমান বলেন, 'এত দিন আমার সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে কোনো সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্রে গেলে কথা উঠবে বলে আমি অনেক কেন্দ্রে যাইনি। তারা যেভাবে কালো টাকা ছড়িয়েছে, তাতে আজ মনে হচ্ছে, যাদের টাকা আছে, কেবল তাদেরই রাজনীতি করা উচিত।'
ভোট কারচুপির অভিযোগ করে সরকারি দল সমর্থিত এই মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, 'সোনাকান্দা ডক ইয়ার্ডে একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মেয়ে ভোট দিতে গেলে পুলিশ বলেছে দোয়াত-কলমে ভোট দিতে। নবীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ঢুকে জামায়াত-বিএনপির ক্যাডাররা দোয়াত-কলমে সিল মারছে। কয়েকটি কেন্দ্র হলেও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু অনেক কেন্দ্রে তারা এই কাজ করছে।'
নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কেন্দ্র থেকে একজনকে হাতেনাতে নিজে আটক করার ঘটনা উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, 'সময়মতো না পেঁৗছালে একটা দুর্ঘটনা ঘটত। আমি হাতেনাতে ধরে ফেলার পরও তাকে সোপর্দ করার জন্য সেখানে কোনো পুলিশ পাইনি। পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয়, সেটাই আমার প্রশ্ন।'
বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীর নির্বাচন বর্জন করা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'শামীমকে ঠেকাতে বিএনপি, জামায়াত, ওয়ান-ইলেভেন ও আইভী একজোট হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি যেসব অভিযোগ জানিয়েছি, তার একটিরও জবাব পাইনি। পুলিশ এমনটা না করলে ফলাফল মেনে নিতে কষ্ট হতো না।'
শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, 'নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিল। তার পরও সেনা মোতায়েন করা হলো না। এর মাধ্যমে একজনকে বিজয়ী করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।'

No comments

Powered by Blogger.