প্রিয় পাখী by নুরুল করিম নাসিম

এই সকালে কেন এলে
একলা পাখী
কোথায় ছিলে
সোনাপাখী
লক্ষ্মী আমার

হঠাৎ তুমি কেন এলে
এই সকালে
কেন এলে লক্ষ্মী সোনা

বাইরে ভীষণ
শীত যে এখন
খাবে কিছু
কফি কিংবা অন্য কিছু

কত দিনের কত কথা
আমার ভেতর জমে আছে

আমার একটা জীবন ছিল
সেই জীবনে কবিতা ছিল
নারীও ছিল
নারীর ভেতর গল্প ছিল
কান্না ছিল

আমি এখন অনেক একা
চলে গেছে কবিতা এখন
পাখী তুমি ভালো আছো?

এই সকালে
আমার ভীষণ তাড়া আছে
জীবন দৌড়ে ছুটতে হবে
সঙ্গী তোমার কোথায় গেলো?
আমার মতো একলা বুঝি
দূর প্রবাসে অন্যদেশে

পাখী তুমি ভালো থেকো
ভালোবেসে নিঃস্ব হয়ো
নিঃস্ব হয়ে ঋদ্ধ হয়ো
একলা পাখী প্রিয় পাখী
আবার তুমি হারিয়ে যেও

যাচ্ছো কোথায় তুমি এখন
তোমার কথা শুনব কখন
একলা পাখী
প্রিয় পাখী

এমনি করে হারিয়ে যাবে
নদীর মতো একা একা
প্রিয় পাখী
সোনা আমার
হারিয়ে যাবে কোন্ সুদূরে
আমার মতো একা একা



মুখর নৈশব্দ
অরুণ সেন

বিরক্ত করো না,
আলোকে জড়িয়ে ধরে ঘন নীরবতার গভীরে
ঘুমিয়েছে ঘুমোক না শব্দ।
বাড়ুক না, মেঘের জঠরে কঠিন বজ্রের ভ্রƒণ।

অন্ধকার আলো পোহানোর ক্ষুধায় কাতর হলে
যে মাঠে জীবন চরে তার থেকে অনিয়ম আর
অনীতির তীর এসে বিঁধে যায় ত্বকে
সাথে সাথে শিরাগুলো রেগে হয় নীল
তার তাতে ধৈর্যছুট এসব নাড়ীরা
বাধ্য হয়েই ঘুমন্ত শব্দকে জাগায়

যেইমাত্র শব্দায়মান বিদ্যুৎ তমসাকে কেটে
পথের পাড়ায় ফেলে আলো
মুহূর্তেই পথের পল্লীতে দেখা দেয়
কত কত বিপথের ভিড়
তবুও তো ধ্বনির মন্থনে এখানেই
ফাটে নীরবতা
চোখের আলোয় এখানেই হেসে ওঠে
পথের সাহস


সত্যি যদি
জাহিদা মেহেরুননেসা

সত্যিই যদি তোমার, হারাবার সাধ জাগে মনে
কোনও এক জোনাক জ্বলা রাত্রির সন্ধানে;
ঝিঁ ঝিঁ পোকাদের উন্মত্ত-উদাত্ত কলবরে আর
হঠাৎ শান্ত দীঘির স্বচ্ছ ধবল অমল জলে
ঘাই দেওয়া মাছেদের উন্মত্ত আহ্বানে।

আসবেই যদি এসো-
সুনিশ্চিত বিশ্বাসে পেতে দেব হাত,
এখনও তো আকাশের বুকে নিশ্চয়ই কাটে
জোসনাভরা রাতে, বৃক্ষের সোহাগ মাখা রাত।

হয়তো বা না-ই জানি, তুমি আমি
কী-ভাবে ভালবাসাহীন, ব্যর্থ দিন কেটে যায় মানুষের;
এখনও তো পাখিরা স্বপ্ন দেখে, ঘর বাঁধে
বেঁচে থাকে দৃঢ় প্রত্যয়ে
রাতজাগা চাঁদের জোসনায় মুখ চেয়ে চেয়ে।

তবু আমি জানি, তুমি আছো
নক্ষত্রভরা উদার আকাশ বুকে
উন্মুত্ত আলিঙ্গনের আশ্বাসে বাড়িয়ে দু’হাত
সে আশায় স্বপ্নের কাছে মাথা পেতে আছি
আর কবে, কোন কালে হব কাছাকাছি
কোন এক অজানা অচেনা স্বপ্নপুরুষের!

যেহেতু এখনও আছে ক্ষয়ে যাওয়া, মরে যাওয়া
নদীর বিমূর্ত বিশ্বাস
হয়তো আবার নতুন বর্ষার ঘোলাজলে
রূপালি চরের ধূসর বুকে বুনে দেবে
সোনারং ধানের নতুন নিঃশ্বাসের আশ্বাস।

No comments

Powered by Blogger.