কলাম লেখকের অস্বস্তি এবং সংসদ বাঁচাতে এসওএস by ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ

শিরোনামের প্রথম অংশটি আজকের লেখার ভূমিকা। অপ্রয়োজনীয় অংশও বলা যেতে পারে। পত্রিকার পাতায় আমরা যারা কলাম লিখি তাঁদের কম-বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে পাঠকের ই-মেইলে বা ফোনে দেয়া প্রতিক্রিয়া জানার।
এসব প্রতিক্রিয়া কখনও এক রৈখিক হয় না। পাঠকের ক্ষোভ, আনন্দ, পরামর্শ, নির্দেশ নানা কিছুই পাওয়া যায় এখানে। হতাশাবাদী অনেক পাঠক এবং পরিচিতজনরা প্রায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন এই যে আপনারা লিখছেন এবং যাঁদের সতর্ক করে পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের কি কিছু ছুঁয়ে যায়! আমি ভাবলাম তাই তো। মুক্তিযুদ্ধের সপ দেশপ্রেমিক মানুষ অনেকদিন পর মহাজোট তথা আওয়ামী লীগকে শাসন মতায় দেখে নতুন করে আশাবাদী হয়েছে। সাধারণ মানুষ জোট সরকারের দুঃশাসনের সমুচিত জবাব দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনেছে গণতন্ত্রকে মর্যাদার আসনে পাবে বলে। এই সরকারের কর্মভূমিকায় সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে আশায়। মাস ছয়েক ধৈর্য ধরে মানুষ লক্ষ্য করছিল। নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সরকার নিজেদের স্লোগানের মতো দিন বদলে দেয়ার পথেই দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাবে। স্বার্থবাদী দলীয় রাজনীতি আর রাজনৈতিক কূপমণ্ডুকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে মেলে ধরবে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে সুখকর করার জন্য জনকল্যাণমুখী নীতিনির্ধারণ ও এর বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নিজের খেয়ে বুনো মোষ তাড়ানো কলাম লেখকরা সাধারণ মানুষের ভাবনাগুলোকে ধারণ করেই নানা সমালোচনার মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দলকে সতর্ক করে থাকেন আর নিজেদের বিবেচনা মতো পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেন। আমার ধারণা জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচা আত্মকেন্দ্রিক 'সুখী' মানুষের মতো দায়িত্ববোধকে এরা এড়াতে পারেন না। কিন্তু আস্বস্তি হয় তখনই যখন দেখা যায় কোন কিছুই বদলে যাচ্ছে না। আর শঙ্কা জাগে এই ভেবে যে আজকে পায়ের নিচে মাটি শক্ত আছে দেখে নেতৃত্ব ভবিষ্যত পরিণতির কথা বেমালুম ভুলে যায়। একবারও ভাবে না মহাজোট সরকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আন্তরিক ভূমিকা না রাখতে পারলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত কতটা বিপন্ন হবে। এই সত্যটিও মানতে চায় না যে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বিচারকের আসনেই বসে।
শিক্ষা কারও হয় না। সুস্থ চিন্তায় মানুষ ভেবেছিল নির্বাচনে বড় হোঁচট খাওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে সাধারণ মানুষের শক্তির প্রতি ভয় ও ভক্তি দুটোই তৈরি হবে। বিএনপির এবার করণীয় বলে সাধারণ মানুষ যা ভাবছে কলাম লেখকরা তাই উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি দলটি দুর্বল হয়ে যাওয়া এ দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য কখনও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এসব কথা এই কলামে বহুবার লেখাও হয়েছে। সহযোগী আরও অনেক লেখক লিখেছেন। কিন্তু দলগুলো সাত পুরোন আচরণেই মত্ত রয়েছেন। এমন অবস্থা দর্শনে আমার সেই সকল হিতাকাঙ্ক্ষীর আর সহকর্মীদের কথা মনে পড়ে যারা আমাকে শাসন করে বলেন_এইসব ছাইপাশ লিখে সময় নষ্ট না করে তুমি তোমার মধ্যযুগের গবেষণায় আরও বেশি সময় দাও। কিন্তু তাঁদের শাসনও সব সময় মানতে পারি না। মানতে গেলে নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হয়। কলাম লেখক হিসেবে এসব দ্বিধাদ্বন্দ্বে যখন ভুগছি তখন মনটা আরও বিষণ্ন হলো গত ১০ মার্চের প্রথম আলো পত্রিকাটি পড়ে। সেখানে পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। লেখাটি নজরে আনলেন আমার এক বিদগ্ধ সহকর্মী। তিনি পত্রিকার কলামের মনোযোগী পাঠক। বিভিন্ন পত্রিকার অনেক কলাম পড়া তাঁর প্রতিদিনের নেশা। পাঠকের প্রশ্নের উত্তরে জাফর ইকবাল লিখেছেন "কলামিস্ট হচ্ছেন 'সবজান্তা' 'ছিদ্রান্বেষী' 'নিন্দুক' ও 'সমালোচক'। তাঁরা 'সবকিছু' জানেন এবং সবকিছুর সমালোচনা করেন। তাঁরা ভালো কিছু দেখেন না, কারও প্রশংসা করেন না। আমার ধারণা তাঁদের জীবনে কোন আনন্দ নেই।" আমার বন্ধু প্রবোধ দিলেন 'এতে হতাশ হবে না। লেখা প েনা গেলে দলান্ধ মানুষেরাও তো বকাঝকা করে।' আমি বললাম জাফর ইকবালের কথার তো মূল্য আছে। তাছাড়া আমি তাঁর মাঝে মধ্যে লেখা কলামের ভক্ত পাঠক। তার চেয়ে বেশি ভক্ত আমার মেয়ে। জাফর ইকবালের কোন বই সংগ্রহ না করলে ওর স্বস্তি নেই। তবে এই মন্তব্য পড়তে পড়তে বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন প্রবীণ মন্ত্রী মহোদয়ের কথা মনে হলো। তিনি আমার পরিচিত এবং শ্রদ্ধেয়। কয়েক মাস আগে তাঁর কোন একটি বক্তব্য বিষয়ে সমালোচনা করেছিলাম এই পাতায়। সেদিনই তাঁর টেলিফোন পেলাম। মন্ত্রী মহোদয় নিজে একজন বিদগ্ধ লেখক এবং মননশীল মানুষ। খুব চৌকস শব্দবাণে তাঁর লাভে নয়- অসয়োসত্মি প্রকাশ করলেন। আমি মনোযোগী শ্রোতার মতো তাঁর দীর্ঘ বক্তব্য শুনলাম। তাতে যদি আমার এই প্রিয় মানুষটির কষ্ট প্রশমিত হয়। তিনিও কলামিস্টদের বিশেষ করে আমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকের অবস্থান থেকে যাঁরা কলাম লিখি তাঁদের সীমাবদ্ধতার কথা অত্যন্ত ভদ্রোচিত শব্দে বলতে ছাড়লেন না। এই দুই মহান মানুষের কথায় এবার প্রায় অভিন্ন সুর শুনতে পেলাম। ভাবলাম সেই আপ্তবাক্যটির কথা, 'মহান মানুষেরা একইভাবে ভাবেন।' এ কারণেই কলাম লেখক হিসেবে একটি অস্তস্তি অনুভব করছি। এবার বুঝতে পারলাম আমাদের মতো ছিদ্রান্বেষী নিন্দুকদের সমালোচনা আর পরামর্শ কেন রাজনীতির নায়কদের ছুঁয়ে যায় না!
সত্যটি আরও প্রামাণ্য হলো ১০ মার্চের সংসদ অধিবেশনের টেলিভিশন সমপ্রচার দেখে। সাত মার্চের আমার এই কলামে সাংসদদের মহান সংসদে অশালীন খিস্তিখেউর থেকে জাতিকে মুক্ত করার কথা বলেছিলাম। সেই লেখাটি পড়ে আমার একজন সরল পাঠক বলেছিলেন 'লেখাটি বেশ কড়া হয়ে গেছে। এবার যদি সংযত হয়।' আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম, বললাম এসব অখাদ্য পড়ার সময় ও রুচি মহাত্মনদের থাকে না। আর পড়লেও এসব অভাজনদের আর্তি তাঁদের হৃদয়ে পৌঁছে না। আমার কথা সত্য প্রমাণিত হতে দেরি হলো না। ১০ মার্চে সংসদে অশ্রাব্য বক্তব্যবাণ ছুড়তে লাগলেন সরকারী ও বিরোধীদলীয় সিনিয়র নেতারা। ১১ মার্চেও বাদ গেল না। ভাবলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হবে। সুতরাং শেষ বেলায় একটি প্রাণবন্ত সংসদ পেয়ে পেছনের কদর্য দিনগুলোর কথা ভোলার চেষ্টা করব। কিন্তু ধর্মের কাহিনী তো আর সবাই শোনে না! ভাগাড় গুলবাগ হবে কেমন করে। ব্যাস শুরু হয়ে গেল দায়িত্বহীন নিকৃষ্ট আক্রমণ। পাল্টাপাল্টির রাজনৈতিক সংস্কৃতি যখন চলছে, তখন ঝগড়ার ইস্যু বানাতে দোষ কি! বিএনপির 'তারুণ্যের অহঙ্কার' তারেক রহমানের দুর্নীতির মহাকাব্য চাউর হয়ে আছে চারদিকে। বিএনপি নেতৃত্ব যে কিছু জানেন বোঝেন না তা তো নয়! তবুও আমাদের রাজনীতিতে 'রাজনৈতিক বক্তব্য' নামে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করার একটি প্রথা চালু আছে। তাই প্রথাসিদ্ধ কথায় বিএনপি বলে যাচ্ছে তারেকের দুর্নীতির সত্য আদালতে এখনও তেমনভাবে প্রমাণিত হয়নি। কথাটি যৌক্তিক। তবে মানুষের মনের ও বোধের আদালতে অনেক কিছুর রায় কিন্তু হয়ে যায়। তবুও প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতিতে যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বিপরীতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার বিপরীতে শেখ হাসিনাকে প্রতিযোগিতায় নামানো হয়, তাহলে দুর্নীতিবাজ তকমাধারী তারেকের বিপরীতেও প্রতিযোগী দরকার। এতদিন সুযোগ মেলেনি। সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনীতিতে যোগদানের পর যেন স্বস্তি পেল বিএনপি। প্রাচীন ব্যাবিলনে আইন সঙ্কলন তৈরি করেছিলেন রাজা হাম্মুরাবি। তাঁর আইন ছিল প্রতিশোধমূলক। চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত_এমনতর। সে বিধান যেন ফিরে এলো। বিএনপি চীফ হুইপ দেখলেন তারেকের প্রায় সমবয়সী এবং যুবরাজ পর্যায়ের আওয়ামী ঘরানার একজনকে দুর্নীতিবাজ বলতে পারলে কাটাকাটি হয়ে যায়। ব্যস, তথ্য নেই প্রমাণ নেই, জনমতও নেই। মহান সংসদে (!) দাঁড়িয়ে জয়কে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দেয়া হয়ে গেল। আর যায় কোথায়! মৌচাকে ঢিল পড়ল। অশান্ত হয়ে পড়ল সংসদ।
আমাদের দুর্ভাগ্য আজকাল বড় বড় দলে দায়িত্বশীল পদে এমন কিছু ব্যক্তি আসীন হন যাদের রাজনৈতিক অতীত তেমন শাণিত নয়। এরা ঝগড়ায় যতটা পটু মেধাবী চৌকস বক্তব্য দিতে বিতর্ক তুলতে ততটাই নিষ্প্রভ। ঝগড়া জিনিসটা এত সংক্রামক যে আমাদের সংসদে দুই শিবিরের তরুণ-প্রাজ্ঞ সকল মহারথীরাই পরস্পরের ছিদ্রান্বেষণ করে বক্তব্য রাখতেই বেশি সময় নিলেন। বিরোধী দল সংসদে যোগ দেয়ার পর যত কর্মঘণ্টা সংসদ চলেছে তার একটা হিসেব বের করলে দেখা যাবে এর সিংহভাগ সময় গিয়েছে ঝগড়া করে, পারস্পরিক কুৎসা গেয়ে আর উভয় পরে প্রয়াত নেতাদের শব নতুন করে ব্যবচ্ছেদ করে। এসব করে করে কান হওয়ার কারণে জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ তেমনভাবে করে নিতে পারেননি। যাও একটু আধটু শক্তি সঞ্চারিত হয় তার বেশিটাই ব্যয় করা হয় 'কবরে জিয়ার লাশ ছিল কিনা,' 'ক্ষমতায় থেকে কে কতবার নাম পাল্টিয়েছিল আমরা তার কত শতাংশ কম পাল্টালাম' এসব নিয়ে। আর এমনই গণতন্ত্র এ দেশে যে সংসদে এসব নিকৃষ্ট 'অনুৎপাদনশীল' কাজে অধিকাংশ সময় ব্যয় করে জনগণের কষ্টের টাকার বহ্নি উৎসব করা হচ্ছে অথচ এর কোন জবাবদিহিতার সুযোগ নেই।
সাংসদদের ঝগড়া, অশালীন ভাষা প্রয়োগ ও ফাইল ছোড়াছুড়ির পর ১০ মার্চ জনপ্রতিক্রিয়া জানতে মাঠে নেমেছিল একটি টিভি চ্যানেল। রাতে তা প্রচার করা হয়। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংসদ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের বক্তব্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, সন্ত্রাসের বাড়বাড়নত্ম, গ্যাস সঙ্কট, পানি সঙ্কট, বিদ্যুত সঙ্কট এসব জনগুরুত্বপূর্ণ কথা নিয়ে সংসদে তেমন বক্তব্য নেই। দুই পরে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি, একপক্ষ অন্যপক্ষকে অপদস্ত করার বাড়াবাড়ি আর মন্ত্রী-এমপিদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করার দায়িত্ব পালন ছাড়া সংসদের যেন করণীয় কিছু নেই। টকশোতে কোন এক বক্তা বলছিলেন সংসদে সরকারী ও বিরোধী পক্ষে অসংস্কৃত আচরণ করছে তার তুলনা অন্য কোন দেশে আছে কিনা সন্দেহ। এভাবে আমাদের 'গণতন্ত্রী' রাজনীতিকরা গণতন্ত্রকে হেয় করে সংসদকে ডুবনত্ম তরী বানিয়ে ফেলেছেন। এই তরী বড় ঘূর্ণিতে যে ঘুরপাক খাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এর ফল হিসেবে গণতন্ত্রের দৈন্যদশা আরও বিপন্ন হবে।
বিএনপি রাজনীতিতে যুক্ত আমার এক বন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলাম এই যে দুই দলের নেতা সাংসদরা সংসদে অসংস্কৃত আচরণ করছেন_তারা কি বুঝতে পারছেন না সাধারণ মানুষ এতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তিনি বললেন, না বোঝার কোন কারণ নেই। 'সাধারণের' প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। তারা বিশ্বাস করেন প্রতিপক্ষকে শব্দবাক্যে ঘায়েল করতে পারলে যার যার দলের নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হয় আর নিজেদের জেদ হয় প্রশমিত। নেতা কর্মীরাই রাজনীতির হাতিয়ার ও লাঠিয়াল। ওরাই তাদের 'জনগণ'। জাতীয় নেতাদের নানা বক্তৃতায় 'জনগণ' শব্দের বিশেষ ব্যবহার দেখে বন্ধুর কথাটির সত্যতা অনুধাবন করা যায়। এই সেদিন 'জিয়া উদ্যানের' নাম ফলক ভেঙ্গে 'চন্দ্রিমা উদ্যানে' ফিরিয়ে এনেছে সরকার। এক সময় শক্তিতে, স্বেচ্ছাচারী আচরণে বিএনপি চন্দ্রিমাকে জিয়া বানিয়েছিল। এখন সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া জানাতে যখন শক্ত কোন যুক্তি নেই তখন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন বললেন 'জনগণই এই উদ্যানের নাম জিয়া উদ্যান দিয়েছিল।' আমি স্মরণ করতে পারলাম না এই নামকরণের প্রস্তাবে কবে গণভোট হয়েছিল এবং জনগণ রায় দিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের মৃতু্ঘণ্টা বাজিয়েছিল।
এমন সঙ্কীর্ণ রাজনীতি এ দেশে গণতন্ত্র বিকাশের সম্ভাবনা ক্রমে ক্ষীণ করে তুলছে। জাতীয় সংসদ এর মহীমা হরালে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা তিরোহিত হয়। তাই দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সংসদকে বাঁচানো এখন সবার আগে জরুরী। ফলে দরকার মুক্তমনের দেশপ্রেমিক দলীয় 'জনগণ' এবং অবহেলিত অপমানিত 'সাধারণ জনগণের' সরব প্রতিবাদ। আজ দাবি হোক সংসদ হবে শালীন, মেধাবী ও শাণিত বিতর্কের জায়গা। পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ গণতন্ত্রেরই শিক্ষা। সংসদের মূল্যবান কর্মঘণ্টাগুলো একমাত্র জনকল্যাণ দেশকল্যাণের উদ্দেশ্যেই ব্যয়িত হোক। ডুবন্ত সংসদকে বাঁচাতে সকলের কাছে এই এসওএস পাঠানো ছাড়া আর তো কোন বিকল্প দেখছি না আমরা।
shahnawazju@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.