তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর সমাধান সংলাপে by একেএম সালাহ্উদ্দিন

এক অনিশ্চয়তা ও সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে দেশের সরকার ও প্রধান বিরোধী দল। দুর্নীতি ও দুঃশাসনে জর্জরিত এদেশের মানুষ দেশের গণতন্ত্র রক্ষার্থে সর্বোপরি নিজেদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটকে সাদরে গ্রহণ করে।
ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশ থেকে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস দূরীকরণসহ নানা প্রশংসা নিজেদের ঝুলিতে তুলে নেয় বর্তমান মহাজোট সরকার। তবে এই অগ্রগতি ও প্রশংসা কিছু কিছু ঘটনায় ম্লান হয়ে যায়। যা সরকারের জনপ্রিয়তার লাগামকে উল্টো দিকে টেনে ধরেছে।
এদিকে আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনের বাকি এক বছরের কিছু বেশি সময়। এ নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মূল কারণ নির্বাচন পদ্ধতি তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু পরিবর্তনে অনড় অবস্থানে থাকে। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল দুই ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথার্থই অশনিসংকেত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তিন দিন পরই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টই জানিয়ে দেন, তিনি বা তার সরকার অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আর ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না এবং তার সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষপাতীও নন।
পক্ষান্তরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার দল বা জোট কোনো দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তিনি বর্তমান সরকারের অধীনে প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জোর দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা সত্ত্বেও আপিল বিভাগের রায়ে আগামী দশম ও একাদশ সর্বোচ্চ এই দুটি সাধারণ নির্বাচন জাতীয় সংসদের বিবেচনা অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতে হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মূলত এ রায় দেওয়া হয়েছে দেশে যে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য অর্থাৎ প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য।
এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নাকি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার_ কার অধীনে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা ঠিক করতে হবে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই। সরকার যদি প্রধান বিরোধী দলকে বাইরে রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারও গঠন করে, তবে একদিকে যেমন ওই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হবে, অন্যদিকে সরকারের শুরু থেকেই কঠোর আন্দোলনের মোকাবেলা করতে হবে। জনগণকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই হবে সরকারের বড় অর্জন।
য়একেএম সালাহ্উদ্দিন :শিক্ষার্থী
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
jojsau@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.