পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি

প্রথম আলোর অনলাইনে (prothom-alo.com) প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলা, প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে পাঠকের মতামত প্রকাশিত হয়। তাঁদের এসব মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো।


বিদেশ ঘোরেন দীপু মনি
গত প্রায় চার বছরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে এর যৌক্তিকতা নিয়ে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে পাঠকের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। পাঠক জয়দেব দাস লিখেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তো তাঁর বিদেশেই বেশি সময় দেওয়ার কথা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার জন্য তিনি আরও কয়েক মাস যদি বিদেশে অবস্থান করেন, তাহলেও দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার কোনো অভিযোগ নেই। অন্তত বেফাঁস কথা বলে তো তিনি সময় নষ্ট করেন না বা মিডিয়ায় নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা বা অপচেষ্টা চালান না।
ফুয়াদ মনসুর: দুবাই বিমানবন্দরে বিমানের অপেক্ষায় আছি, এমন সময় দেখি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাঁটাহাঁটি করছেন। ওই সময় আমি একজন দেশি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম, যিনি দুবাই বিমানবন্দরে চাকরি করেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওনাকে স্বাগতম জানাবেন বা দেখা করবেন না?’ তিনি উত্তর দিলেন, আর কত স্বাগত জানাব, দেখা করব! ওনাকে তো কয়েক দিন পরপরই দেখি। ওপরের এ সংবাদ পড়ে দুই বছর আগের কথাটা মনে পড়ল।
অনুপ: মধ্যপ্রাচ্যে বেশি দৌড়াদৌড়ি করে যদি দেশের প্রবাসী-আয় বাড়ানোর জন্য শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে পারতেন, তাহলে ব্যর্থতা কিছুটা হলেও ঢাকা পড়ত। অথচ তিলে তিলে সুনাম কুড়ানো শ্রমবাজারটি পররাষ্ট্রনীতির কারণে নষ্ট হয়ে গেল।
মুক্তা রহমান: আমি দীপু মনির নির্বাচনী এলাকার ভোটার। তিনি কথাবার্তায় খুবই ভদ্র আর প্রাঞ্জল। তবে খুব কাছ থেকে দেখে আমার তাঁকে যত না রাজনীতিবিদ তার চেয়ে বেশি মন্ত্রী মনে হয়েছে। রাজনীতিবিদদের আচরণ কী হতে পারে বা কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক থাকতে পারে। তবে তাঁকে আমার সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী কখনোই মনে হয়নি; বরং তিনি রাজনীতিতে না এসে একজন আদর্শবান সুশীল হতে চেষ্টা করতে পারতেন।

পরিবার বলছে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে
নিউইয়র্কের মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এফবিআই গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশি ছাত্র কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে। তিনি সেখানে পড়ার জন্য গিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনো মানতেই পারছেন না যে রেজওয়ানুল আহসান এমন কাজের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন। পাঠকের মধ্যেও এ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ছিল দ্বিমুখী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাঠক লিখেছেন: নাফিসের কারণে এখন অনেক বিদেশি ছাত্রকে, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের আমেরিকায় লাঞ্ছনা ও গঞ্জনা সহ্য করতে হবে। যাঁরা আমেরিকান-বাংলাদেশি তাঁদেরও বাঁকা চোখে দেখা হবে। নাফিস থাকতেন ১৭০-৩৩ ৯০ এভিনিউ জ্যামাইকা হিল সাইড এরিয়ায়। আমি যেখানে থাকি ঠিক আট ব্লক দূরে। যখন তাঁর নিউজ দেখলাম টেলিভিশনে, তখন খুব অবাক লাগল। নাফিসের পরিবার বলছে, তাঁকে কোনোভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আসলে এ কথাটা ঠিক নয়। নাফিস নিজে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন। পৃথিবীর সবাই জানে যে এফবিআই তাদের পাতানো জাল সারা দুনিয়ায় পেতে রেখেছে এবং বেছে বেছে ধরছে। আমার প্রশ্ন, কেন আমি ফাঁদে পা দেব? নাফিস আমেরিকায় এসেছে ভালো শিক্ষা গ্রহণের জন্য। শিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে যাও। কেন বাপু তুমি বোমা মেরে ফেডারেল বিল্ডিং ওড়াতে চাও? এটা কি বাংলাদেশ যে অন্যায় করলেও টাকার জোরে রক্ষা পেয়ে যাবে? এটা আমেরিকা, এখানে তুমি কোনো খারাপ কাজ করে পার পাবে না। ধরা তোমাকে পড়তেই হবে। আসল কথা, এই ছেলেটার কারণে এখন অনেক ভালো ছাত্র আর বাংলাদেশ থেকে সহজে এ দেশে আসতে পারবে না।
মহসিন মোমিন: এই গত শুক্রবারের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে একদল প্রচারকারী আমাদের অফিসে এসে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করে প্রচারপত্র ও একটি কলম দিয়ে গেল। কলমের গায়ে লেখা ছিল—If you suspect anything, Report it or Call Confidential Anti-Terrorist Free Hotline Number। (আমিই ছিলাম অফিসের একমাত্র মুসলিম) তাই মৃদু হেসে নাইজেরিয়ান ভদ্রমহিলা (ব্যবস্থাপক) কলমটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘কলমটি তোমার কাছে রাখো, এটি তোমার কাছে থাকাই হবে যথার্থ।’ এই মন্তব্যের সঙ্গে বাকি সহকর্মীদের প্রচণ্ড অট্টহাসি আমাকে কী যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল! না জানি নিউইয়র্কের এই ঘটনার পর সামনে কী অপেক্ষা করছে।
মাসুদুর: কোনোই সন্দেহ নেই যে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আমেরিকার প্রতি সবারই সুপ্ত ক্ষোভ থাকতে পারে। এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা তার সুপ্ত আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে তাঁকে ফাঁসিয়েছে। আমেরিকার একজন বিচারপতির সুরেই বলতে হয়, আমেরিকা তাঁকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে। এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা তাঁকে সবকিছু সরবরাহ করেছে। তারা সরবরাহ না করলে হয়তো তিনি কোনোদিনই তা সংগ্রহ করতে পারতেন না। বাংলাদেশের উচিত এর প্রতিবাদ করা।
জয়: আমরা কিছু বাংলাদেশি আছি খালি নিজের স্বার্থ দেখি। তাই তো নাফিস গ্রেপ্তার হওয়ায় কিছু মানুষ দেখছি বলতে শুরু করেছে, আর বুঝি ভিসা পাব না, স্বপ্নের আমেরিকা আর যেতে পারব না, আমাদের কী হবে! ইত্যাদি। সবাই আছে নিজের ধান্ধা নিয়ে। আমেরিকায় না গেলে কী হয়? দেশে কী কিছু করা যায় না? কিংবা আমেরিকা ছাড়া লেখাপড়ার জন্য আর কোনো দেশ কি নেই? আর ২১ বছর বয়সটা কি খুব বেশি? এই বয়সে সব তরুণেরই রক্ত গরম থাকে। বিরাট কিছু ঘটিয়ে সারা দুনিয়া কাঁপিয়ে দেব—এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা সবারই থাকে এই বয়সে। কেউ একটু বেশি আবেগী হয়ে ভুল করে বসে। এটা সত্যি, নাফিস বিরাট ভুল করেছেন, বিরাট অন্যায় করেছেন। কিন্তু এর জন্য ২১ বছর বয়সের ছেলেটাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে আমেরিকা আরেকটা ভুল করবে বলে আমি মনে করি। এভাবে শুধু ক্ষোভ আর ঘৃণাই বাড়বে, কোনো লাভ হবে না। তাঁর দরকার যথাযথ কাউন্সেলিং। আমার বিশ্বাস, সুযোগ দিলে অবশ্যই নাফিস স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ভারত থেকে গড়িয়ে পড়ছে গরু!
সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীরা দ্রুত গরু আনার জন্য ২০০ ফুট উঁচু স্থান থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেন এই নিরীহ পশুকে। তাঁদের এই নির্মম কৌশলের কথা পড়ে প্রথম আলোর পাঠকেরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ, যা ফুটে উঠেছে তাঁদের প্রতিটি মন্তব্যে। ফারিয়া তাবাসসুম লিখেছেন: গরু তো আর মানুষ নয়, তাই এর প্রতি মানবিক আচরণ না করে পাশবিক আচরণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভই গরুর প্রতি এই নির্মম আচরণের কারণ। এভাবে গরুকে কষ্ট দেওয়ার অবসান জরুরি। বিজিবির দায়িত্বহীনতা এবং বিষয়টি না দেখার ভান ব্যবসায়ীদের আরও উসকে দিচ্ছে।
আলামিন: মানুষ দিনে দিনে অমানুষে পরিণত হচ্ছে, না হলে এভাবে কেউ কি ২০০ ফুট উঁচু থেকে ফেলে দিয়ে গরুর ব্যবসা করতে পারেন? আর যাঁরা এটা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন, তাঁদের নিজেদের বিবেকের কাছে নিজেরা একবার প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, এটা মানবিক না অমানবিক।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়েও ডাকা হয়নি সাংবাদিকদের!
কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে অধিকাংশ সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি পান না। যদিও আগে তাঁরা এই সুযোগ পেয়ে আসছিলেন। সরকারের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এ সম্পর্কে এস রহমান লিখেছেন: হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা-টেলিভিশন চ্যানেল বাদে সবই তো বর্তমান সরকারের আজ্ঞাবহ। কিন্তু ইদানীং সেই পক্ষের হাতিয়ারও ঠিকভাবে পক্ষে কাজ করছে না। সরকারের যে পারফরম্যান্স, তাতে সরকারের অনুকূলে সেগুলো প্রচার করলে দর্শকেরা সেই সব পত্রিকা-চ্যানেল না দেখে ভিডিও গেম খেলবে এবং সময়-সুযোগ পেলে পচা ডিমও ছুড়ে মারতে পারে।
(পাঠকের মতামত বিস্তারিত পড়তে ও আপনার মতামত জানাতে ভিজিট করুন prothom-alo.com)

No comments

Powered by Blogger.