খালেদার সঙ্গে বৈঠক-গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহযোগিতা দেবে চীন সরকার

বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। গতকাল রবিবার বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অন্যতম শীর্ষ নেতা লি চ্যাংচুনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকে সহযোগিতার এ কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোনাদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সহযোগিতা করার আগ্রহের কথা আবারও জানিয়েছেন চীনা নেতা লি চ্যাংচুন। রেলের আধুনিকায়ন এবং সড়ক যোগাযোগ খাতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য লি চ্যাংচুন দলের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। সিপিসির পঞ্চম শীর্ষ ব্যক্তি তিনি। দুই দিনের সফরে তিনি শনিবার ঢাকায় আসেন। গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরী জানান, আঞ্চলিক সংযোগশীলতা তথা চট্টগ্রাম-কুনমিং সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে চীন অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে চীন সরকার উদ্যোগ নেবে বলে চীনা নেতা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানিয়েছেন।
বৈঠকে লি চ্যাংচুনের সঙ্গে পাঁচজন মন্ত্রীসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান।
শমসের মবিন চৌধুরী জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে দুই দলের তৃণমূল নেতৃবৃন্দসহ নারী নেত্রীদের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উভয় নেতা। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চীন এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলে খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আসন্ন ১৮তম কংগ্রেসের সফলতা কামনা করেন তিনি। বৈঠকে লি চ্যাংচুন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলে জানান শমসের মবিন চৌধুরী।
খালেদা জিয়াকে ফের চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান লি চ্যাংচুন। প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর চীন সফরে যান খালেদা জিয়া। শনিবার দুপুরে তিনি দেশে ফেরেন।

No comments

Powered by Blogger.