নাফিস চাইলেই সাহায্য-গ্র্যান্ড জুরিতে পরীক্ষা হবে অভিযোগের

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলাচেষ্টার অভিযোগে আটক বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস চাইলেই তাঁকে আইনি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ দূতাবাস। 'কনস্যুলার অ্যাকসেস'-এর আওতায় তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের বিষয়টিও নির্ভর করছে অভিযুক্তের সম্মতির ওপর।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ খবর দিয়েছে। এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার যৌক্তিকতা আছে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র ওই দেশের গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে জানান, শনি ও রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় নতুন করে ওই দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। গত শুক্রবার রাতে (যুক্তরাষ্ট্র সময় শুক্রবার সকালে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার জন্য কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কনস্যুলার অ্যাকসেসের আওতায় একজন কূটনীতিক তাঁর দেশের আটক নাগরিকের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের নিজেই নাফিসের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন।
কনস্যুলার অ্যাকসেসের আবেদনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কী বলেছেন জানতে চাইলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। শনি ও রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি। এ সপ্তাহে এ ব্যাপারে আরো তথ্য জানা যেতে পারে।
কনস্যুলার অ্যাকসেস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা হলেও একান্তে সাক্ষাতের জন্য আটক ব্যক্তির সম্মতি প্রয়োজন। তিনি দূতাবাস এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনি সেবা নিতে অস্বীকৃতিও জানাতে পারেন। তাই নাফিস রাজি হলেই তাঁর সঙ্গে দূতাবাসের প্রতিনিধির একান্ত সাক্ষাতের প্রস্তাবটি বাস্তবে রূপ নেবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় কিছুটা সময়ও লাগে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের একজন মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার যৌক্তিকতা আছে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র দেশটির গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে হামলা পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগে নাফিসকে অভিযুক্ত করা হবে কি না, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে এখন গ্র্যান্ড জুরিই সিদ্ধান্ত নেবে।
নিউ ইয়র্ক থেকে সাংবাদিক লাভলু আনসারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। বিশেষ বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে ফেডারেল কোর্ট এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। বিশেষ করে যেসব মামলা নিয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে কিংবা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের পরে হেরে গেলে সেটি তাদের জন্য মর্যাদা (প্রেস্টিজ) ইস্যু হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কার মুখেই এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তা গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়।
বিবিসি আরো জানায়, এর মধ্য দিয়ে বিশেষ একটি দলকে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয় যারা মামলার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগ করেছে, শেষ পর্যন্ত সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে কি না, তাও পর্যবেক্ষণ করবে।
বিবিসি জানায়, গ্র্যান্ড জুরিতে যাঁরা থাকেন তাঁরা বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। সাধারণ নাগরিক এবং বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কমিউনিটির মধ্য থেকে বাছাই করে গ্র্যান্ড জুরিতে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন।
সাংবাদিক লাভলু আনসার বিবিসিকে বলেন, ফেডারেল কোর্টের মুখপাত্র রবার্ট ম্যাকডোজা তাঁকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে গ্র্যান্ড জুরিতে সিদ্ধান্ত হতে পারে আবার তিন মাসও তা ঝুলে থাকতে পারে। তিন মাসের মধ্যে হয়তো সেখান থেকে মতামত পাওয়া যেতে পারে।
বিবিসি জানায়, গ্র্যান্ড জুরি যখন তাদের মতামত দেবে তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কেউ থাকতে পারেন না। অতীতে দেখা গেছে, শতকরা ৯৯ ভাগ মামলার ক্ষেত্রেই গ্র্যান্ড জুরি মামলা চালানোর পক্ষেই মতামত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার কথিত 'স্টিং অপারেশন'-এ নাফিসকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ২১ বছর বয়সী নাফিসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দিয়ে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সত্যিকারের বিস্ফোরক না থাকায় নাফিসের 'চেষ্টা' ব্যর্থ হয়।
বিবিসি জানায়, নাফিসকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশিদের অনেকের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। নাফিসকে প্রকৃতই দোষী মনে করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তাঁরা। আবার অনেকে মনে করছেন নাফিস ষড়যন্ত্রের শিকার।

No comments

Powered by Blogger.