প্রশ্ন যখন বয়সসীমা

সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। দৈনিক জনকণ্ঠসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ নামীয় একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে সম্প্রতি বয়সসীমা বৃদ্ধির এই দাবি উত্থাপন করেছে।


আমাদের সুবিধা মত দাবি জানানোর বিষয়ে আমরা খুবই পারঙ্গম। এতে কোন সন্দেহ নেই। সরকারী চাকরিতে শুধু প্রবেশ নয়, অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতেও আমরা সোচ্চার। এক সময় চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ২৭ বছর। পরবর্তীতে তা ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়, যা এখনও বহাল আছে। বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান গড় আয়ু, শিক্ষাঙ্গনের বাস্তব অবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেই সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের এই যুগে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে যেমন সহায়ক হয়েছে তেমনি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারী চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবির পক্ষে একটি বড় যুক্তি দেখানো হচ্ছে অব্যাহত সেশনজটের কারণে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরুতে শিক্ষার্থীদের অনেকটা মূল্যবান সময় অযথা নষ্ট হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুতে শিক্ষার্থীদের বয়স ২৭/২৮ বছর, কখনও ৩০ ছুঁই ছুঁই অবস্থা হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বিসিএস বা অন্যান্য সরকারী চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও তাতে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হলে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী সরকারী চাকরিতে ঢোকার সুযোগ যেমন পাবেন, তেমনি দেশের বেকার সমস্যা লাঘবে কিছুটা সহায়ক হবে।
শুধু চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বৃদ্ধি নয়, অবসরের সময়সীমাও আরও কিছুটা বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সরকার অবসর গ্রহণের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করেছে। এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তাই অবসর গ্রহণের সময়সীমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে-কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

No comments

Powered by Blogger.