পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তে দুদকে নতুন কমিটি

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দুদকের পুরোনো অনুসন্ধান দলে এ পরিবর্তন আনা হয়। এ কমিটি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এ কমিটি করা হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার সকালে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অনিয়মে উচ্চপর্যায়ের কেউ জড়িত থাকলেও কমিশন যেন তাঁর প্রতি নরম না হয়। সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কমিটিকে। চার সদস্যের নতুন কমিটি গতকাল সোমবার সৈয়দ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
দুদকের চার উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ, মীর মো. জয়নাল আবেদীন, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও মীর্জা জাহিদুল আলম নতুন তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন। আগামী ১৫ কার্যদিবস শেষে পদ্মা সেতুর বিষয়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে গতকাল দুপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের কমিশনার এম বদিউজ্জামান। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু করা হবে।
বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৈয়দ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান কার্যক্রম মোটামুটি শেষ হলো। যত দ্রুত সম্ভব এই প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে পরবর্তী তদন্তে প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, জানতে চাইলে বদিউজ্জামান বলেন, ‘অনুসন্ধানে অর্থ উপদেষ্টার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তাই এখন পর্যন্ত আমরা মসিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে পরে প্রয়োজন হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
সেতু মূল্যায়ন কমিটির সব সদস্যকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে বলেও জানান কমিশনার। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তদন্ত বা তথ্য ভাগাভাগির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

No comments

Powered by Blogger.