যা জানা জরুরী এইচএসসির পর বিভাগ পরিবর্তন

স্কুল, কলেজের পর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন যে কোন শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল ও কলেজ জীবনের পর এখান থেকেই শুরু হয় ক্যারিয়ার গঠনের স্বপ্নপথের যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেয়ার আগে অথবা পরে অনেক শিক্ষার্থীই বিভাগ পরিবর্তন করে থাকে। দেখা যায়, বিভাগ পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি মনোপুুত হচ্ছে না।


এ ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিষয়ের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা চাই।

বিজ্ঞান
বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী সামর্থ্য থাকা চাই। ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে অনেকক্ষেত্রে তত্ত্বীয় বিষয়ের পাশাপাশি পঠিত বিষয়ের ব্যবহারিক হিসেবে এ্যাসাইনমেন্ট থাকে। সেখানে তত্ত্বীয় জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে প্রথমেই ভাবতে হবে শুরু কিভাবে হবে, কতটা সময়ের প্রয়োজন হবে কিংবা কিভাবে তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। উপস্থাপনার কৌশল নিজেকেই ঠিক করতে হবে। কৌশলপত্রে তথ্যসূত্রে উল্লেখ করতে ভুলবেন না। এতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এর ফলে শিক্ষার্থী কতটা মনোযোগসহ করেছে তা প্রমাণ হয়। কর্মকৌশলের গুরুত্ব বোঝাতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি কাজ হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে। দলগত প্রজেক্ট কিংবা এ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষকদের সামনে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দলের সবচেয়ে কুশলী ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে সুযোগ দিতে হবে।

মানবিক
মানবিকের বিষয়সমূহের বৈচিত্র্য ও পরিধি ব্যাপক। এ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের স্মৃতিশক্তি ভাল হতে হবে। মানবিকের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের নেপথ্য বোঝার সক্ষমতার বড় ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচিত বিষয়ে কি কি আছে, এ ব্যাপারে ভালভাবে জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিষয়ে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে পূর্ণমাত্রায়। বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে নিজেকেই। শিক্ষক শুধু জানতে চাইবেন, কী বুঝলে বা জানলে। মানবিক সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে সাফল্য পেতে শিক্ষার্থীদের বেশি পরিশ্রম করতে হবে। এজন্য বেশি করে লেখার চর্চা করতে হবে। এক্ষেত্রে ধৈর্যটাও খুবই প্রয়োজন।

ব্যবসায় শিক্ষা
বর্তমান সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিষয় ব্যবসায় শিক্ষা। কেননা, এ বিষয়ে পড়ালেখা করে দ্রুত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা যায়। ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্স, মার্কেটিং, অপারেশন কিংবা ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রভৃতি বিষয় ব্যবসায় শিক্ষায় ব্যাপকভাবে পড়ানো হয়। এগুলো ভাল করে বুঝতে হবে এবং প্রয়োগ ঘটাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজী। এ জন্য শিক্ষার্থীকে ইংরেজী বলা ও লেখায় দক্ষ হতে হবে। রিপোর্ট লেখা ও উপস্থাপনা করা ব্যবসায় শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ। লেখার পাশাপাশি উপস্থাপন কৌশলও ঠিক করতে হবে। টার্মপেপারের ব্যাপারেও এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। যা অনেকটা গবেষণাধর্মী হয়ে থাকে। এতে তথ্যের যথাযথ উপস্থাপনার পাশাপাশি তথ্যসমূহের সবিশেষ উল্লেখ থাকতে হবে।

পড়ালেখার পাশাপাশি
প্রতিযোগিতার এ যুগে শুধু পড়ালেখা একজন শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সহশিক্ষারও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একজন শিক্ষার্থীর সুযোগ রয়েছে সরব পদচারণার। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে পূর্ণমাত্রায়। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব; যেমন-বিতর্ক, নাটক, সায়েন্স, নেচার, কুইজ ক্লাব। এ ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে ওঠে নেতৃত্বদানের যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা। প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে নিয়োগদাতা পাঠ্য বিষয়ে ভাল ফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ও দক্ষ শিক্ষার্থী চায়। এগুলো শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মোঃ সাইদুর রহমান

No comments

Powered by Blogger.