ঈদ শপিংয়ে দেশের বাইরে গেছেন লক্ষাধিক!- তালিকায় আছেন শিল্পপতি, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিক by এম শাহজাহান

ঈদ শপিং করতে এবার বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে গেছেন। কেউ বা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর কেনাকাটার জন্য পছন্দের দেশ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত, দুবাই ও মালয়েশিয়াকে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে শুধু শপিং করার জন্যই লক্ষাধিক মানুষ দেশত্যাগ করেছেন।


এ তালিকায় আছেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, সরকারী-বেসরকারী উর্ধতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সম্প্রদায়। এছাড়া দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করার জন্য অনেকেই সপরিবারে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বিদেশী বিমান সংস্থা এমিরেটসসহ বিভিন্ন বিমান কোম্পানি যাত্রী চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময় যাত্রীর জন্য হাহাকার থাকলেও এখন বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে। বাস ও রেলের মতো বিমানের টিকেটের জন্যও এখন দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক আবুল কাশেম আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে বিমানের যাত্রী সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিদেশী বিমান সংস্থাগুলোও যাত্রীর চাপে রয়েছে। যাত্রী বিমান কোম্পানিগুলোর জন্য ভাল খবর হলেও এভাবে শপিং করার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। যদিও স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে দেশে বিত্তশালী ও সম্পদশালী মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এরা ভোগ-বিলাসী কেনাকাটার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থ নষ্ট হচ্ছে। তাই ঈদ সামনে রেখে শপিং করার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সীমাবদ্ধ করা যায় কিনা সেটা সরকারের ভেবে দেখা উচিত।
জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে শপিং করার জন্য বিদেশ গমনের বিষয়টি নতুন নয়। ধনীরা বরাবরই এ ধরনের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। তবে দিন দিন দেশের বাইরে শপিং করার প্রবণতা বাড়ছে। বিত্তশালীরা সপরিবারে ঈদের কেনাকাটার জন্য ছুটে যাচ্ছেন বিদেশ বিভূঁয়ে। কিনে আনছেন পশ্চিমা স্টাইল ও ডিজাইনের চোখ ধাঁধানো বাহারি সব পোশাক।
ঈদের কেনাকাটা করার জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ রকম এক পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাইরের কিছু পোশাকের জন্যই বিদেশ যাওয়া। তাছাড়া ওখানে পছন্দসই সব পণ্য পাওয়া যায়। স্বাচ্ছন্দ্যে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেট ঘুরে নিরিবিলি পরিবেশে শপিং করা যাবে। এছাড়া বেশ কয়েকদিন ছুটি পাওয়ায় এ সময়টা ঘুরে ও শপিং করে কাটানো সম্ভব হবে। দেশের বাইরে থেকে আনা হবে থ্রি পিস, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পার্স, ব্যাগ, ঘড়ি, স্বর্ণের গহনা ও দামি কিছু কসমেটিক্স পণ্য।
এছাড়া ঈদ সামনে রেখে বিদেশ যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে বলে স্বীকার করলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার খান মোশারফ হোসেন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বিমানের যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে এটা সত্য। কিন্তু এরা শপিং করার জন্য যাচ্ছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হতে হলে তথ্যের প্রয়োজন। তবে এ সময়টাতে প্রতিবছরই দেশী-বিদেশী বিমান সংস্থাগুলোয় যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকে। তিনি বলেন, রোজার মাসে ওমরা পালনের জন্য অনেকই সৌদি আরব যাচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যিক কাজের জন্যও বিদেশে যাচ্ছেন কেউ কেউ।
অন্য একটি তথ্য মতে ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি রয়েছেন। এর মধ্যে উচ্চবিত্তের কোটিপতি ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া নগদ টাকায় কোটিপতি না হলেও সম্পদশালী অনেক মানুষ রয়েছে যাদের বিদেশে গিয়ে শপিং করার মতো আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। মূলত এরাই ঈদ-পৌষ পার্বণ ও বিয়ে-শাদীতে বিদেশে গিয়ে শপিং করে থাকেন। কিনে আনেন পছন্দসই জিনিসটি। এ প্রসঙ্গে এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জনকণ্ঠকে বলেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভোগ-ব্যয় বাড়বে এটাই সত্য। সেক্ষেত্রে আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা বিদেশ গিয়ে শপিং করতে পারেন। এটা দোষের কিছু নয়। কারণ এর ফলেও সরকারের কিছু আয় হচ্ছে। বিমানের টিকেট বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ক্রেতাকে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট ও শুল্ক দিতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও বড় কথা হলো-ঈদে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

No comments

Powered by Blogger.