ফেলপস এরপর

অলিম্পিক শেষ না হতেই অভিসার নিয়ে খবরে এসেছেন মাইকেল ফেলপস । সাঁতারপুলের বাইরের কিংবদন্তি এই সাঁতারুকে নিয়ে লিখেছেন রাজীব হাসান প্রেমের মড়া নাকি জলে ডোবে না। আসলেই ডোবে কি না সেটা নিয়ে আপাতত মাথা ঘামাক বিজ্ঞান।


তবে একজন কিন্তু প্রেমের অথৈ সমুদ্রে কোনো দিনও ডুববেন না, তিনি যে মাইকেল ফেলপস !
প্রেমের উত্তাল সাগরে ফেলপসও সাঁতরান বৈকি। এবারের লন্ডন অলিম্পিক শুধু এই প্রশ্নটিরই উত্তর দেয়নি—লারিসা লাতিনিনার রেকর্ড ফেলপস ভাঙতে পারবেন কি না; দিয়েছে আরেকটি উত্তর—সারা পৃথিবীর মানুষের মন জয় করে নেওয়া এই জলমানবের মনটাই বা জিতে নিয়েছেন কে? কে? মেগান রোজি!
লস অ্যাঞ্জেলেসের অখ্যাত মডেল রোজির সঙ্গে ফেল্পেসর প্রেমের ফুল পাঁচ মাস আগেই ফুটেছে। সুবাসও পাওয়া যাচ্ছিল। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ট্রায়াল চলার সময় টুইটারে ফেল্পেসর বাহুলগ্না অবস্থায় তোলা বেশ কিছু রোমান্টিক ছবি রোজি নিজেই পোস্ট করেছিলেন। তাঁদের ‘ডেট’-এর আপডেট দিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিত।
কিন্তু এ ব্যাপারে দুজনের কাছ থেকে কথা আদায় করে নেওয়া যাচ্ছিল না। ‘জনৈক’ আর ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ সূত্রগুলোর বরাতে খবর দিয়েই তুষ্ট থাকতে হচ্ছিল গুজুবে ট্যাবলয়েডগুলোকে। অনেক দুঁদে পাপারাজ্জিও এ ব্যাপারে ফেল মেরে গেছেন।
আসলে ফেল্প্স নিজেই চাচ্ছিলেন না এ নিয়ে বেশি শোরগোল হোক। লন্ডন অলিম্পিক তাঁর জন্য ছিল বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। এ সময় পুরো মনোযোগ তিনি ধরে রাখতে চেয়েছেন। বিশেষ করে সেই গাঁজা-কাণ্ডের পর বড় শিক্ষা হয়ে গেছে তাঁর। ভালো করেই জানেন, এ সময় ‘ক’ বললেও গুজুবে পত্রিকাগুলো লিখে দেবে ‘কলিকাতা’।
অলিম্পিক শেষ, মিশনও শেষ। ১৮টি স্বর্ণসহ সব মিলিয়ে ২২টি পদক নিয়ে সর্বকালের সফলতম অলিম্পিয়ানের ইতিহাসও গড়া হয়েছে। তার পরও ফেল্প্স মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। এখন তো আর মনোযোগের দোহাই পাড়া যাচ্ছে না। তবে স্বীকার করতে দোষ কী? ভালোবাসা কি কোনো পাপ!
মুখে স্বীকার করেননি, তবে পরোক্ষে যেন ঘোষণাটি দিয়েই দিলেন এই ২৭ বছর বয়সী। গত সোমবার লন্ডনে তাঁর সাঁতার পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পিডোর একটা প্রচারণা অনুষ্ঠান ছিল। সেটারই লাল গালিচায় রোজিকে বাহুলগ্ন করে ছবি তুলেছেন ফেল্প্স। যেন পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চান, ‘দেখো, এই হচ্ছে সেই মেয়ে, ১৮টি অলিম্পিক সোনা জয়ের মতোই যার হূদয় জয় করাও আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ!’
ফেল্পেসর কাছের এক সূত্র জানিয়েছে, লন্ডনে আরও সপ্তাহ তিনেক থাকবেন এই জুটি। মধুচন্দ্রিমার মহড়া দেবেন। ঘুরে বেড়াবেন দর্শনীয় স্থানগুলো। প্রেমের ব্যাপারে প্যারিসই হয়তো তীর্থভূমি; কিন্তু রোমিও-জুলিয়েটের জন্ম তো এই ব্রিটেনেই।
অবশ্য সহসাই বিয়ের ‘মিডলে’তে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা ফেল্পেসর নেই। গত ২০টি বছর সাঁতারকে উজাড় করে দিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত সাধ পূরণের সুযোগ মিলেছে সামান্যই। এবার সেই সব অপূর্ণ ইচ্ছাই পূরণ করতে চান বাল্টিমোর বুলেট।
বয়স মাত্র ২৭। এই বয়সে বেশির ভাগ তরুণ মাত্রই ক্যারিয়ার শুরু করে, অনেকের সেই সৌভাগ্য হয় না। আর সেই বয়সেই কি না ফেল্প্সকে বিদায় জানাতে হচ্ছে নিজের ক্যারিয়ারকেই। সামনে দীর্ঘ সময় পড়ে আছে। হাত-পা গুটিয়ে তো আর বসে থাকা যায় না। তখন যে সময় পাড়ি দেবে কচ্ছপের পিঠে চেপে।
স্বাভাবিকভাবেই ফেল্প্সকে কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত হতেই হবে। ভবিষ্যতে কী করবেন, এ ব্যাপারে ফেল্প্স এখনো মন স্থির করেননি। তবে আপাতত দুটো সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে—নিজের গড়া দাতব্য সংস্থা মাইকেল ফেল্প্স ফাউন্ডেশন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আর? শেষ করবেন পড়াশোনা। কোচ বব বোম্যানের কারণে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও কোনো ডিগ্রি নেওয়া হয়নি তাঁর!
২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে আটে-আটটি সোনা জেতার পর স্পিডো তাঁকে বোনাস হিসেবে দিয়েছিল ১০ লাখ ডলার। সেই টাকা দিয়েই ফেল্প্স ফাউন্ডেশন গড়েছেন।
এ তো নিকট ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। এর পর? ভবিষ্যতের মুঠোয় কী লুকিয়ে আছে কে জানে। তবে সম্ভাব্য যে কাজগুলোতে ফেল্প্সকে দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে আছে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাভাষ্য দেওয়া; মোটিভেশনাল স্পিকার (অন্যদের উদ্দীপ্ত করতে বক্তব্য দেওয়া) হিসেবে কাজ করা; ভ্রমণ যেহেতু ভালোবাসেন, করতে পারেন একটা ট্রাভেল শো; অংশ নিতে পারেন কোনো রিয়্যালিটি অনুষ্ঠানে; আসতে পারেন সাঁতার কোচিংয়ে; নামতে পারেন ব্যবসায়; এমনকি রাজনীতিতেও!
অনেক কথাই বলা হচ্ছে। তবে দেড় ডজন সোনা জেতা ফেল্প্স এখন কী করবেন, এর সবচেয়ে ভালো উত্তর দিয়েছেন একজন, ‘সোনার ব্যবসা করলেই তো পারেন!’

No comments

Powered by Blogger.