বরকতময় রাত by মো. কামরুজ্জামান সোহাগ

শবেবরাত এক বরকতময় রাত, যা আল্লাহর নৈকট্য-সানি্নধ্য লাভের এক বিরাট উপায়। আল্লাহতায়ালা এ রাতকে লাইলাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত বলে ঘোষণা করেছেন। মুফাসসিরিনে কেরামের অধিকাংশই এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বলে উল্লেখ করেছেন।


আল্লাহ পাক বলেন, 'আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে নিশ্চয় আমি সতর্ককারী এ রাতে আমার আদেশক্রমে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ৩-৪)।
এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ আয়াতে বরকতের রাত্রি বলে শবেবরাত অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে বোঝানো হয়েছে। এ রাতে সারা বছরের বিষয়াবলি স্থির (চূড়ান্ত) করা হয়। অর্থাৎ জন্মগ্রহণকারী ও মৃত্যুবরণকারীদের সময় ও রিজিকের ফয়সালা করা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় শাবানের মধ্যবর্তী রাতে আল্লাহতায়ালা সব বিষয় ফয়সালা করেন এবং সেগুলো শবেকদরে অধিকারীদের কাছে সম্পন্ন করে থাকেন। (তাফসিরে খাজেন খণ্ড-৬ পৃ. নং-১৮৮)। শবেবরাতের ফজিলত ও মর্যাদা অপরিসীম। এ রাতে গুনাহগুলো থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং পাপের অশুভ পরিণাম থেকে রেহাই পাওয়া যায়। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, 'যখন শাবানের ১৫ রাত আসে তখন তোমরা ওই রাতে জাগ্রত থেকে মহান আল্লাহপাকের ইবাদত-বন্দেগি করবে ও দিনের বেলায় রোজা রাখবে। কেননা শবেবরাতের রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানে তাশরিফ আনেন। আর বান্দাদের ডেকে ডেকে বলতে থাকেন ক্ষমা, প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। রিজিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি রিজিক দিয়ে দেব। রোগাক্রান্ত কেউ আছ কি? রোগ মুক্তির প্রার্থনা করলে, আমি শেফা দান করব। এ ধরনের যে কোনো কর্মের হাজত থাকলে আমার কাছে দোয়া কর আমি তোমাদের হাজত পূর্ণ করে দেব। (তিরমিজি শরিফ)।
শবেবরাত রাতে ভারসাম্যপূর্ণ আমলের কথা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা নির্ভরযোগ্য রিওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিত। হজরত মু'আম বিনে জাবাল (সা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন_ আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
 

No comments

Powered by Blogger.