যাত্রীবেশ by জাহিরুল ইসলাম

গণপরিবহনে যথেচ্ছ ভাড়া আদায় ঢাকা শহরের নিয়মিত চিত্র। ভাড়া নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে বাসের হেলপার কিংবা কন্ডাক্টরদের হাতাহাতির দৃশ্যও পুরনো। শুধু কি হাতাহাতি? বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলার পর যাত্রীর করুণ মৃত্যু_ এমন ঘটনারও সাক্ষী এই নগরী।


কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, নির্মম ঘটনাগুলো আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটনার দু'একদিন পর আর কেউ মনেও রাখে না। ফলে হয়েছে কি_ বেড়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকে দৌরাত্ম্য।
গত কয়েকদিনের কথাই ধরা যাক। ভাড়া বাড়ানো নিয়ে সরকার ও মালিক পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছিল। বুধবার প্রজ্ঞাপন জারির পর বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবহনের বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারিভাবে ভাড়া কার্যকর করার আগে বেশি হারে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের হয়রানি না করারও অনুরোধ করা হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। সরকারের নির্দেশ পরিবহন মালিকরা তো শোনেইনি বরং উল্টো রাতারাতি ঢাকা শহরের সব লোকাল বাস সিটিং হয়ে গেছে। সিটিং নাম দিয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যথেচ্ছ ভাড়া আদায় করলে রুট পারমিট বাতিলের সরকারি ঘোষণাকেও তোয়াক্কা করেনি কেউ।
শুধু এবারই নয়। পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর কথা উঠলে প্রত্যেকবারই এমন ঘটনা ঘটে। দেখা যায়, যে পরিমাণ ভাড়া বাড়ে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ আদায় করা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে ভাড়া ও পথের দূরত্ব সংবলিত চার্ট বাসে টাঙানোর কথা থাকলেও ঢাকা শহরের খুব কম বাসেই তা দেখা যায়। আবার কিছু বাসে চার্ট টাঙানো থাকলেও একই রুটের একটি বাসের সঙ্গে অন্যটির গরমিল থাকে। তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে প্রতিবছর পরিবহন ভাড়া বাড়ছে ঠিকই, সে অনুপাতে যাত্রীসেবার মান বাড়ছে না। কমছে না যাত্রীর দুর্ভোগ।
গত পরশু অনলাইনে সমকালের পাঠকের কাছে প্রশ্ন ছিল, বাসে যথেচ্ছ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে_ এ দায় কি সরকার এড়াতে পারে? তাতে ৯৪.৮৩% পাঠক মতামত দিয়েছিলেন_ না। অর্থাৎ পাঠকের উত্তরে এটা পরিষ্কার, গণপরিবহনে যথেচ্ছ ভাড়া আদায়ে সরকারেরও দায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ এমনটা মনে করলেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন বা করেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলে জনদুর্ভোগ দূর করতে তারা হয়তো সচেষ্ট হতেন।
বৃহস্পতিবার নতুন হার কার্যকর হওয়ার দিন ভাড়া আদায়ের চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করতে যাত্রীবেশে একটি পাবলিক বাসে উঠেছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। বেশি ভাড়া আদায়ের কয়েকটি ঘটনা তিনি হাতেনাতেই ধরে ফেলেন। প্রতিমন্ত্রী নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, যাত্রী হয়রানির মাত্রা কত চরমে পেঁৗছেছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন তিনি। কর্তাব্যক্তিরা এভাবে মাঝে মধ্যে যাত্রীবেশে গণপরিবহনের অবস্থা পরিদর্শনে বের হলে আমাদের যন্ত্রণা যেমন সহজে উপলব্ধি করতে পারতেন, তেমনি তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাও সচেতন হতো। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবেশী সরেজমিন পরিদর্শন কি অব্যাহত থাকবে?
zahirul.du@gmail.com
 

No comments

Powered by Blogger.