কালের আয়নায়-পাকিস্তানের 'পরমাণু বোমার জনক' কাদির খানের অবাস্তব ও অসংলগ্ন কথাবার্তা by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

কাদির খান নিজে একজন পাকিস্তানি হয়েও এ সত্যটা বুঝতে পারেননি যে, কেবল পরমাণু বোমা দ্বারাই কোনো দেশ তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না; যদি স্বাধীনতা রক্ষায় তার দুর্জয় সাহস, পেছনে ঐক্যবদ্ধ দেশবাসীর সমর্থন না থাকে


পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী এবং 'ইসলামি নুক' তৈরির গুরু ড. আবদুল কাদির খান সম্প্রতি নিউজ উইক কাগজে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এই নিবন্ধে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা একজন পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বহীন মন্তব্য হতে পারে; কিন্তু একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর মন্তব্য হতে পারে না। তিনি তার নিবন্ধে লিখেছেন, '১৯৭১ সালে যদি পাকিস্তানের হাতে পরমাণু বোমা থাকত তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারত না।' তার দ্বিতীয় মন্তব্য, 'লিবিয়ার গাদ্দাফি এবং ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের মতো নেতাদের হাতে যদি পরমাণু বোমা থাকত, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তা চালানোর সাহস পেত না।'
বিজ্ঞানী ড. কাদির খানের দ্বিতীয় মন্তব্যটি হাইপোথেটিকাল। এটা নিয়েই আগে আলোচনা করি। ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো দেশের হাতে ছোটখাটো অ্যাটম বোমা থাকলেই মহাশক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রসহ আরও নানা মারণাস্ত্রের অধিকারী আমেরিকাকে এই দেশগুলো কতটা সামাল দিতে পারত তা বিতর্কসাপেক্ষ। উত্তর কোরিয়া পরমাণু বোমা তৈরির মতো অবস্থায় পেঁৗছলেও আমেরিকা বারবার হুমকি-ধমকি দেওয়া ছাড়া দেশটির ওপর যে এখনও হামলা চালায়নি, তার প্রধান কারণ উত্তর কোরিয়ার পেছনে নয়াচীন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে, এমনকি পাকিস্তানেও যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আমেরিকা একতরফা বর্বর হামলা চালিয়ে যেতে পারছে তার কারণ কী? পাকিস্তানের হাতে তো পরমাণু বোমা আছে। তাহলে আমেরিকা কী করে এত সহজে (যেখানে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বড় অংশ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এখন মোটেই আমেরিকার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন নয়) দেশটিকে 'অকুপাইড কান্ট্রি'তে পরিণত করে?
কাদির খান নিজেও তো জানেন, তিনি এখন আর একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক নন। যদি হতেন, তাহলে ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু বোমা তৈরির তথ্য সরবরাহের মার্কিনি অভিযোগে এবং মার্কিনি নির্দেশে তিনি নিজের দেশে কারাবন্দি হওয়াসহ নানা নির্যাতন ভোগ করতেন না। মজার ব্যাপার এই যে, আমেরিকা চায়নি ভারতও নিউক্লিয়ার বোমা বানিয়ে নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হোক। আমেরিকার বিভিন্ন প্রশাসন নানাভাবে ভারতকে হুমকি দেখিয়ে, সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যদান বন্ধ করার ভয় প্রদর্শন করে চেষ্টা করেছে দেশটিকে পরমাণু বোমা বানানো থেকে বিরত রাখতে।
আমেরিকার এই হুমকি-ধমকি অগ্রাহ্য করে ভারত বোমা বানিয়েছে এবং এই বোমা তৈরির যিনি প্রধান কারিগর সেই পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কালামকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে বসিয়েছিল। পাকিস্তানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী করতে গিয়ে যেখানে বিজ্ঞানী ড. কাদির খানকে আমেরিকার রোষে পড়ে জেলভোগ ছাড়াও নানা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, সেখানে ভারতীয় পরমাণু বোমার কারিগর সারাদেশ কর্তৃক নন্দিত ও পুরস্কৃত হয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আমেরিকা তার বিরুদ্ধে অন্য দেশে পরমাণু তথ্য পাচারের অভিযোগ তোলার সাহস পায়নি।
এখানেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য। পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার জন্য আমেরিকা ধমক দিয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশকেই। ভারত ধমক শোনেনি। ধমক অগ্রাহ্য করে বোমা বানিয়েছে। আমেরিকা এখন দেশটিকে শাস্তি দেওয়ার বদলে মিত্র সেজে কোলে তুলে নিয়েছে, নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হতে সমর্থন জুগিয়েছে, সর্বোপরি ভারতের সঙ্গে অসামরিক চুক্তি নাম দিয়ে একটি পরমাণু সংক্রান্ত সহযোগিতার চুক্তিও করে ফেলেছে।
অন্যদিকে আমেরিকার পরোক্ষ তদারকি ও প্রশ্রয়ের মধ্যে পরমাণু বোমা বানিয়েও পাকিস্তান এখন আমেরিকার কাছে দুয়োরানী এবং আমেরিকার হুকুম মান্য করে তাদের 'পরমাণু বোমার জনক' বলে খ্যাত বিজ্ঞানী কাদির খানকেও জেলে ঢোকাতে হয়েছিল। অনেকে সন্দেহ করেন, পাকিস্তানের পরমাণু বোমাগুলোরও নিয়ন্ত্রণ এখন দেশটিতে ঘাঁটি গেড়ে বসা মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষের হাতে। পাকিস্তান এখন নামে স্বাধীন দেশ; বাস্তবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর 'অকুপাইড জাপানের' মতো একটি অধিকৃত দেশ।
ভারত স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করে একই সঙ্গে পরমাণু বোমার অধিকারী এবং আমেরিকার মিত্র হতে পেরেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পরপরই আমেরিকার কাছে নানা সুযোগ-সুবিধার লোভে এই স্বাধীনতা বন্ধক রেখে আজ ওই দেশটির মিত্র দেশ বলে পরিচিত হলেও আসলে হুকুমের দাস। আমেরিকান সৈন্য শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তান সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের ওপর। বরং মার্কিনি হুকুমে পাকিস্তানের সৈন্যরা পাকিস্তানের জনগণের ওপর বোমা-কামানের হামলা চালায়, মসজিদ ধ্বংস করে।
মার্কিন সৈন্যরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যখন কোনো সামরিক অপারেশন চালায়, তখন পাকিস্তান সরকারের কোনো অনুমতি নেয় না। এমনকি তাদের জানায়ও না। প্রমাণ লাদেন হত্যা অভিযান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিত্রবাহিনীর অংশ হিসেবে ভারতীয় সৈন্য কিছুদিন বাংলাদেশের মাটিতে অবস্থান করছিল। সেটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে আমেরিকা বলেছিল, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তারা স্বীকৃতি দিতে পারে না। কারণ, দেশটিতে বিদেশি (ভারতীয়) সৈন্য আছে। এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানে আমেরিকান সৈন্যের উপস্থিতি এবং সন্ত্রাস দমনের নামে দেশটির জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ পরিচালনা করা থেকে পাকিস্তানকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে গণ্য করা চলে না, তাহলে সে প্রশ্নের জবাব কী হবে?
একজন পশ্চিমা সাংবাদিকই লিখেছেন, আমেরিকার ছোট অঙ্গরাজ্য লিটল আরাকানসের যে স্বাধিকার আছে এবং রাজ্যটির গভর্নরের যে ক্ষমতা ও মর্যাদা আছে তা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এবং এই দুই দেশের প্রেসিডেন্ট জারদারি ও কারজাইয়ের নেই। আমেরিকা কী চোখে পাকিস্তানকে দেখে তার প্রমাণ, ওয়াশিংটন যে ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতার চুক্তি দিলি্লর সঙ্গে করেছে, সে ধরনের চুক্তি ইসলামাবাদের সঙ্গেও করার জন্য পাকিস্তান যে অনুরোধ করেছিল, আমেরিকা সেই অনুরোধ গ্রাহ্য করেনি। এতেই প্রমাণ হয় আমেরিকা ভারতকে দিয়েছে মিঞার সম্মান, আর পাকিস্তানকে দিয়েছে দাসত্বের লাঞ্ছনা। পরমাণু বোমা দেশটির স্বাধীনতা ও মর্যাদা কোনোটাই রক্ষা করতে পারেনি।
পরমাণু বিজ্ঞানী কাদির খান নিজে একজন পাকিস্তানি হয়েও এ সত্যটা বুঝতে পারেননি যে, কেবল পরমাণু বোমা দ্বারাই কোনো দেশ তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না; যদি স্বাধীনতা রক্ষায় তার দুর্জয় সাহস, পেছনে ঐক্যবদ্ধ দেশবাসীর সমর্থন এবং সুষ্ঠু কার্যক্রম না থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে লিবিয়া, ইরাক প্রভৃতি দেশের হাতে অনেক কম শক্তিশালী পরমাণু বোমা বা অনেক শক্তিশালী মারণাস্ত্র থাকলেওবা কী হতো? তা কি তাদের আসল শত্রু আমেরিকা বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতো, না ব্যবহৃত হতো তাদের স্বধর্মের ও স্বজাতির অন্তর্ভুক্ত অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই?
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে তো একমাত্র পরমাণু অস্ত্র ছাড়া সব রকমের মারণাস্ত্র (কেমিক্যাল উইপনসহ) দ্বারা সজ্জিত করেছিল আমেরিকাই। প্রয়োজনে সেই অস্ত্র কি সাদ্দাম আমেরিকা বা গোটা আরব জগতের শত্রু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পেরছেন? না, ব্যবহার করতে চেয়েছেন? না, পারেননি এবং চাননি। আমেরিকার স্বার্থে এবং কুবুদ্ধিতেই প্রতিবেশী আরেকটি মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আট বছর ধরে যুদ্ধ করে সব অস্ত্র খুইয়েছেন এবং আমেরিকানদের হাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন। পেট্রো ডলারের বিরাট মজুদের অধিকারী সৌদি আরব। তার যুদ্ধাস্ত্র কেনার প্রকাশ্য ও গোপন বাজেট চোখ ধাঁধানোর মতো। কিন্তু সেই অস্ত্র আরবদের কমন এনেমি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কখনও ব্যবহৃত হয়নি, কখনও ব্যবহৃত হবে সে সম্ভাবনাও নেই। তবে সেই অস্ত্র প্রতিবেশী আরেকটি আরব এবং মুসলিম দেশ ইরাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে প্রথম গালফ যুদ্ধের সময়। সৌদি আরব ছিল আমেরিকার যুদ্ধ সহযোগী।
আরও উদাহরণ দেওয়া বাহুল্য। পাকিস্তানের বিজ্ঞানী ড. কাদির খান কী করে এতটা নিশ্চিত হলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম দেশের হাতে নিউক্লিয়ার আর্মস থাকলে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানের বর্বর তাণ্ডব চালাতে সাহস পেত না। সাদ্দামের পরমাণু বোমা যে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে প্রতিরোধ করার বদলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতো না বা গাদ্দাফির বোমা যে মিসর বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হতো না তার গ্যারান্টি ছিল কোথায়? আর এই ধরনের আত্মঘাতী যুদ্ধের উস্কানিদাতা হয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েল তখন দূরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিত এবং এই যুদ্ধের ফসল কুড়াত।
পরমাণু অস্ত্র নয়; মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও যদি মার্কিন তাঁবেদার ও চরম প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী মার্কিন সহায়তাতেই দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় না থাকত এবং সেখানে থাকত গণসমর্থনপুষ্ট দেশপ্রেমিক সরকারের অস্তিত্ব এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মার্কিন-ইসরায়েলের আঁতাতের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারত, তাহলে পরমাণু অস্ত্র ছাড়াই এই দেশগুলো পরমাণু অস্ত্রধারী আমেরিকা বা অন্য কোনো মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্রগুলোর আগ্রাসন ব্যর্থ করে দিতে পারত।
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের অভাব, গণবিরোধী শাসকদের ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতার স্বার্থে সাম্রাজ্যবাদী শত্রুকে প্রতিরোধের বদলে সেই শত্রুর কাছে নতশির থাকা এবং নিজেদের মধ্যে আত্মঘাতী কোন্দল মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকাল ধরে কখনও ব্রিটিশ, কখনও ফরাসি, কখনও আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদীদের অবাধ তেল লুণ্ঠন এবং আধিপত্য বিস্তার করে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। অবোধ বালকের হাতে বন্দুক দিলে যা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই গণবিরোধী, আত্মকলহে লিপ্ত শাসকদের হাতে পরমাণু বোমা থাকলেও তা হতো। পরমাণু বিজ্ঞানী ড. কাদির খান এই সত্যটা সম্ভবত বুঝতে পারেননি।
এই পাকিস্তানি অণুবিজ্ঞানীর সবচেয়ে অবিজ্ঞজনোচিত এবং সম্ভবত অবজ্ঞাপ্রসূত উক্তি হচ্ছে, '১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হাতে আণবিক বোমা থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারত না। এটা পাকিস্তানের মূর্খ সামরিক শাসকগোষ্ঠীর কারও মন্তব্য হতে পারে, কোনো জ্ঞানী পণ্ডিত বা বিজ্ঞানীর উক্তি হতে পারে না। একটা ঐক্যবদ্ধ জাতির স্বাধীনতার যুদ্ধ পরমাণু অস্ত্র দ্বারা ব্যর্থ করা যায় এই তথ্য বা প্রমাণ কাদির খান কোথায় পেলেন? আমেরিকা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষে পরমাণু বোমা মেরে তাদের যুদ্ধরত শত্রু জাপানকে শায়েস্তা করতে পেরেছে। কিন্তু পরমাণু বোমা হাতে থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনামের স্বাধীনতা যুদ্ধ ব্যর্থ করতে পেরেছে কি? নাকি পরমাণু অস্ত্র হাতে নিয়েই ভিয়েতনাম থেকে পরাজিত মূষিকের মতো পালাতে হয়েছিল?
একথা এখন বিশ্ববাসীর জানা, ভিয়েতনামে আমেরিকা প্রায় পরমাণু বোমার মতোই শক্তিশালী নাপাম বোমা ফেলে গোটা দেশটি প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিল। কেমিক্যাল বোমা ফেলে দেশটির পরিবেশ ও আবহাওয়া বিষাক্ত করে ফেলেছিল। তারপরও তারা স্বাধীনতাকামী ভিয়েতনামের মানুষের প্রতিরোধ ব্যর্থ করতে পারেনি। পরাজিত হয়ে সে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
ভিয়েতনামের আগে কোরীয় যুদ্ধে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান আণবিক বোমা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন। কোরিয়ার যুদ্ধেও পরমাণু বোমা কোনো কাজে লাগেনি। কোরিয়ান ও চীনাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে জেনারেল ম্যাক আর্থার যখন প্রায় পরাজিত হতে চলেছেন, তখন ভারতের সহায়তায় পানসুনজন বৈঠক করে আমেরিকা চূড়ান্ত পরাজয়ের গ্গ্নানি থেকে নিজেকে রক্ষা করে।
বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আণবিক অস্ত্রবাহী মার্কিন সপ্তম নৌবহর প্রচণ্ড হুমকি নিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তাতে কি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা ভয় পেয়েছিলেন, না বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকিয়ে রাখা গিয়েছিল?
পাকিস্তানের মোটামাথা সামরিক শাসকদের মতো দেশটির একজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানীও একই ধরনের অর্বাচীন কথাবার্তা বলবেন বা লিখবেন এটা আশা করা যায় না। দুনিয়ার একমাত্র সুপার পাওয়ার আমেরিকার হাতে এখন সর্বাধুনিক পরমাণু অস্ত্রসহ বিশ্ব ধ্বংস করার মতো ভয়াবহ মারণাস্ত্র রয়েছে। বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সে অস্ত্রের বর্বর ব্যবহারও তারা করছে। তারপরও এই মারণাস্ত্রের সাহায্যে মার্কিন সাম্রাজ্য কি বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে? টিকে থাকতে যে পারবে না এই সত্য বিজ্ঞানী কাদির খান না জানুন, বিশ্বের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ তা আজ জানে।
লন্ডন, ২০ মে, শুক্রবার, ২০১১
 

No comments

Powered by Blogger.