ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক-যানবাহন চলছে ঢিমেতালে by সাব্বিরুল ইসলাম সাবু

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনা রোধে তিনি তিন মাসের মধ্যে ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক প্রশস্ত ও জিআই পাইপ দিয়ে ডিভাইডার নির্মাণের নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাসেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।


১২ মে ফের পরিদর্শনে এসে তিনি জুন মাসের মধ্যে বাঁক প্রশস্তের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উন্নয়নের এই চিত্র দেখে গাড়িচালক, মালিক, যাত্রীরা সবাই এখন হতাশ।
আগামী বর্ষার আগে এ কাজ আদৌ শেষ হবে কি না, এ নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা মুখে বলছেন জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বলছেন, বরাদ্দ না পেলে কাজের গতি দ্রুত করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে গতবারের মতো এবারও বর্ষায় রাস্তাঘাটে বিড়ম্বনার শেষ থাকবে না।
সর্বশেষ ১২ মে পরিদর্শনে এসে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের এক হাত নেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী আসার আগে কাজ দ্রুতগতিতে চলে। আর মন্ত্রী চলে গেলেই শ্লথ হয়ে যায়। গত তিন দিন সরেজমিনে ঘুরে মন্ত্রীর কথার সত্যতা পেয়েছেন কালের কণ্ঠের এই প্রতিনিধি। যে ১১টি বাঁক প্রশস্ত করা হচ্ছে এর কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা সড়কের ঢুলিভিটা থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত মোট ১১টি বাঁক প্রশস্তের কাজ চলছে। এ জন্য প্রায় ১৮ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে।
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনাস্থল জোকা বাঁক প্রশস্তের কাজ করছে মেসার্স রফিকুল ইসলাম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, কেবল মৌখিক নির্দেশে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তিনি কাজ শুরু করেন। অথচ টেন্ডার হয়েছে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। তিনি জানান, টেন্ডার হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকার। অর্ধেকের বেশি কাজ হলেও এ পর্যন্ত কোনো বিল তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, গোলড়া বাঁকে অরেকজন ঠিকাদারও তাঁর মতোই মৌখিক অর্ডারে কাজ শুরু করেছেন। তিনিও টাকার অভাবে বাকি কাজ শেষ করতে পারছেন না।
জাগির ব্রিজের কাছে বাঁক প্রশস্তকরণ শুরু হয়েছে মাসখানেক আগে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ কাজ শেষ হতে কমপক্ষে তিন মাস লাগবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন অবশ্য জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে ঠিকাদারদের বিল দিতে না পারলে কাজের গতি শ্লথ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

No comments

Powered by Blogger.