প্রতিবাদের নামে জাতীয় সম্পদ ধ্বংস কাম্য নয়-সিরাজগঞ্জের মর্মান্তিক ঘটনা

গত সোমবার সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা মর্মান্তিক। এটি নিছক দুর্ঘটনা হলেও জনসভার আয়োজকেরা এর দায় এড়াতে পারেন না। রেললাইন থেকে নিরাপদ দূরত্বেই জনসভার আয়োজন করা উচিত ছিল।


বাস বা অন্যান্য পরিবহনের মতো চাইলেই যে ট্রেন দ্রুত থামানো যায় না, সে কথাটি আয়োজকদের অজানা থাকার কথা নয়।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসভার মাইকের আওয়াজে ট্রেনের হুইসেল শোনা যায়নি। ফলে প্রাণ ঝরে গেল। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তবে দুর্ঘটনার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর ও লুটপাট করা এবং ট্রেনের চালক ও কর্মচারীদের মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনাও মেনে নেওয়া যায় না। ট্রেন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এতে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করলে দেশেরই ক্ষতি। যে দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত ছিল না, সেই দুর্ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র খোঁজা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে, সেটি ভেবে দেখার বিষয়। বিএনপির নেতারা কর্মীদের শান্ত রাখতে পারতেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। কিন্তু একে কেন্দ্র করে কারও ওপর রাজনৈতিক হয়রানি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেত্রী দুটি সভায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্ববিরোধী ও যুক্তিহীন। সিরাজগঞ্জের জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘এটি দুর্ঘটনা নয়, বিরোধী দলের জনসভা বানচাল করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে রেল দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।’ নাটোরের জনসভায় তাঁর দাবি ছিল, ‘সরকারের একটি এজেন্সি এই কাজ করেছে।’ আবার তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছেই দাবি জানিয়েছেন। এ ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে। নাটোরে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা যা করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কিন্তু তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে জানমালের ক্ষতি হয়।
সরকার ও বিরোধী দলের কাছে আমরা সংযম ও সহনশীলতাই আশা করি। কোনো পক্ষেরই এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা থাকার জন্য দেশ ও জনগণকে জিম্মি করা চলবে না। বিএনপির বিক্ষুব্ধ কর্মীদের হাতে যে জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হলো, তার দায় কে নেবে? জনসভাস্থলে আসতে গিয়ে যে ছয়জন ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলেন, তাঁদের পরিবার-পরিজনদের সহায়তায় কি এগিয়ে আসবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা সরকার? স্থানীয় বিএনপি জনসভাটি আয়োজন করেছিল নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদের স্মরণে। আমরা শহীদকে স্মরণ করব আত্মশুদ্ধির জন্য, আরও মানুষকে শহীদ করতে নয়। যে গণতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে তাঁরা জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন।

No comments

Powered by Blogger.