ইলিয়াসের স্ত্রীকে 'বিধবা' বলে বিতর্ক তুললেন মন্নুজান

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর তাঁর স্ত্রীকে বিধবা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তিনি ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীরের প্রতি আহ্বান জানান ইলিয়াস আলীর খুনি কে, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য।


মহান মে দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী ইলিয়াসের স্ত্রীর উদ্দেশে এ পরামর্শ দেন।
গত ১৭ এপ্রিল বনানী থেকে নিখোঁজ হন এম ইলিয়াস আলী। এখনো তাঁর কোনো সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। এ অবস্থায় মন্নুজান সুফিয়ান ইলিয়াসের ভাগ্য সম্পর্কে এমন মন্তব্য করায় তা নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবারের আলোচনা সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আপনার (ইলিয়াসের স্ত্রী) স্বামী কোথায়, স্বামীর প্রকৃত খুনি কে, সেটা আপনার মনও জানে। আপনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিষয়টি খুলে বলুন।'
ইলিয়াসের স্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, 'ইলিয়াস আলীর স্ত্রী, বিধবা স্ত্রী। আপনি টিভির সামনে যখন কথা বলেন, আমি আপনাকে উপলব্ধি করি। আপনার মনের মধ্যে যে কথাগুলো, যা আপনি বলতে পারেন না। আপনিও জানেন আপনার স্বামীকে কারা অপহরণ করেছে, আজকে কোথায়...জীবিত আছে, নাকি মৃত আমি জানি না। আল্লাহই জানেন। আর যারা এ কাজটা করেছে তারাই জানে।'
তবে আওয়ামী লীগ এ ঘটনায় জড়িত নয় এমন ইঙ্গিত করে মন্নুজান বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। তিনি এ কাজ কোনো দিন করতে পারেন না।' পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'খালেদা জিয়ার ধমকে তাহসিনা রুশদীরের মুখ যে বন্ধ হয়ে গেছে, আমি যখন টিভিতে তাঁর ছবি দেখি, এটা কিন্তু আমি উপলব্ধি করতে পারি।'
প্রমিতন্ত্রী ওই বক্তব্য দেওয়ার সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাসহ উপস্থিত সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরে ক্ষতাসীন দলের অফিস, আড্ডাসহ সব জায়গায় এবং সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয় মন্নুজানের ওই মন্তব্য।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশ্বমন্দার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা ও প্রযুক্তি প্রয়োগের সামর্থ্য অর্জনের জন্য শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আজ দেশের উৎপাদন খাতকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি প্রয়োগের সামর্থ্য অর্জনে আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'
শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প ও কলকারখানা টিকে থাকলে শ্রমিক, মালিক ও দেশ বাঁচবে। একটি উন্নত, আধুনিক ও শ্রমিকবান্ধব শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর আন্দ্রে বগুই।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব মিকেইল শিপার, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম ফজলুল হক। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন ট্রেড ইউনিয়ন ও ফ্যাক্টরি রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম এবং মে দিবস মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

No comments

Powered by Blogger.