উপেক্ষার শিকার ভারী শিল্পউপেক্ষার শিকার ভারী শিল্প

ক্ষুদ্র শিল্পে দেশ অনেকটা এগিয়ে গেলেও ভারী শিল্পে এখনো চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন দেখা যায় না। অথচ আমাদের দেশে ভারী শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারী শিল্প বিকাশের পথে রয়েছে নানা বাধা। সেই বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশে ভারী শিল্প বিকশিত হতে পারছে না।


সরকারি মালিকানাধীন ভারী শিল্প লোকসান গুনছে। ব্যক্তিপর্যায়ে ভারী শিল্প গড়ে তোলার সক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রয়েছে সঠিক নির্দেশনা ও প্রণোদনার অভাব। ভারী শিল্প স্থাপনের বড় বাধা অবকাঠামো। একই সঙ্গে সরকারের নীতিমালায়ও ভারী শিল্প বিকাশের জন্য সহায়ক কোনো পথ খোলা নেই।
মানতেই হবে, দ্রুত শিল্পায়নের জন্য ক্ষুদ্র শিল্প থেকে ভারী শিল্পে উত্তরণ ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। দেশে ব্যক্তি খাতে এরই মধ্যে ভারী শিল্প গঠনের সক্ষমতা সৃষ্টি হলেও, সে খাতকে সঠিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে না। রয়েছে নানা বাধাবিপত্তি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সমস্যার বাইরেও রয়েছে, সরকারি নীতি-সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অভাব, জমির দুষ্প্রাপ্যতা। জটিল বিধিবিধানের বেড়াজালেও আটকে আছে ভারী শিল্পের বিকাশ। সরকারের শিল্পনীতিতে ভারী শিল্প বলতে কিছু নেই। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ভারী শিল্পের জন্য রয়েছে আলাদা নীতিমালা, সরকারের আলাদা দপ্তর। এত প্রতিকূলতা কাটিয়েও দেশে ব্যক্তি-উদ্যোগে ভারী শিল্প গড়ে উঠছে। অবকাঠামোর দুর্বলতা, বিধিবিধানের বাহুল্য, জমির দুষ্প্রাপ্যতা, অর্থায়ন সংকটের মতো কঠিন সমস্যার পাহাড় ঠেলে ব্যক্তি-উদ্যোগে প্রসারিত হচ্ছে ভারী শিল্প। ভারী শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এ নিশ্চয়তা ছাড়া ভারী শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চলমান সংকটের পাশাপাশি দুর্বল অবকাঠামো দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিও চাপের মুখে পড়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পেঁৗছাচ্ছে না।
শিল্পে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি হয়েছিল সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক_শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা। বেসরকারি ব্যাংকের প্রসার ঘটার আগ পর্যন্ত দেশে ব্যক্তি খাতের শিল্পায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল এ দুটি প্রতিষ্ঠান। আজকের অনেক বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রারম্ভিক পুঁজির জোগান দিয়েছিল রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংক দুটি। কিন্তু অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিপুল পরিমাণ কুঋণের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি নিজেরাই অর্থ সংকটে পড়ে। দুই বছর আগে দুটি ব্যাংক একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড গঠিত হলেও ব্যাংকটিকে বৃহৎ কিংবা ভারী শিল্পে অর্থায়নের উপযোগী করতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
উপেক্ষার শিকার ভারী শিল্পকে দেশের আর্থিক উন্নয়নের স্বার্থেই প্রসার ঘটাতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভারী শিল্পের বিকাশ প্রয়োজন। দেশে ব্যক্তি খাতের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধার পাশাপাশি সবার আগে অবকাঠামোগত সুবিধা দিতে হবে। ভারী শিল্পের যে সম্ভাবনা দেশে সৃষ্টি হয়েছে, তা অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.