বিদেশে শীতলপাটির চাহিদা

রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকাভুক্ত করা হোক দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নিভৃত পল্লীর শ্রমজীবী, সৃজনশীল মানুষও যে ব্যাপক অবদান রাখতে পারেন, যদি সে রকম সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা যায়, এরই সাক্ষ্য মিলেছে গত ২৮ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এটি একটি সুসংবাদ। 'শীতলপাটির বিদেশযাত্রা'


শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শীতলপাটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে; কিন্তু সরকারিভাবে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বীকৃতি না পাওয়ায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শীতলপাটি রপ্তানি শুরু হয়নি।
এ দেশে শীতলপাটির কদর বহু পুরনো। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তো বটেই, মানুষের আরাম-স্বস্তির ক্ষেত্রেও একসময় এর ব্যবহার ও কদর দুটিই ছিল ব্যাপক। সময়ের পরিক্রমায় শীতলপাটির জায়গা অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়লেও এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো রয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা ব্যাপক; কিন্তু প্রতিবন্ধকতা হলো রপ্তানি পণ্য হিসেবে এখনো শীতলপাটি স্বীকৃতি পায়নি। ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে বিদেশের বাজারে এ দেশের শীতলপাটি যাচ্ছে বটে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয় হয়ে উঠবে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পিতৃপুরুষের পেশার সূত্রে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে কিছু মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এখনো এ পেশা ধরে রেখেছেন। বংশানুক্রমিক ধারায় তাঁরা এ পেশায় যুক্ত থাকলেও যথাযথ বাজারজাতকরণের অভাবে তাঁদের সৃজনশীলতার আলো সেভাবে ছড়াতে পারছে না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে সরকারের নানা রকম অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি রয়েছে বটে; কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর প্রতিফলন তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না। পাটি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় জোগানদার হতে পারে, যদি সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বিপুল কর্মহীনের এই দেশে এ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে সামাজিক দৃশ্যপটও অনেকটাই পাল্টে যাবে। দরকার ব্যবস্থা ভালো করা। ব্যবস্থা ভালো করতে পারলে অবস্থা এমনিতেই পাল্টে যাবে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি দরকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। শীতলপাটি উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের সহজলভ্যতাও জরুরি। উৎপাদনকারীদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করার পাশাপাশি সুদের হার যতটা কম নির্ধারণ করা যায় ততই মঙ্গল। এই শিল্পের অগ্রগতির পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, সব কিছু অপসারণ করতে হবে দ্রুত। সরকারের অতিদরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পাটিশিল্পীদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় তা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

No comments

Powered by Blogger.