এ নৃশংস হত্যার বিচার হতে হবে

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাত দিন নিদারুণ যন্ত্রণায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৬ এপ্রিল হেরে গেছেন আতর আলী। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আবারও বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয়ের একটি করুণ চিত্র রেখে গেল আমাদের সামনে। এ পৃথিবীতে মানুষের আগমন যেমন অবধারিত হয়ে আছে,


তেমনি এখন পর্যন্ত পৃথিবী থেকে বিদায়ও অবধারিত। কিন্তু আতর আলীর বিদায় শুধু অস্বাভাবিকই নয়, সমাজে বসবাসকারী একটি অংশের প্রতিশোধস্পৃহা কতটা নিষ্ঠুর, আইনের প্রতি কতটা অবমাননা এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তারই বহিঃপ্রকাশ। ৯ এপ্রিল যশোর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে শেখহাটি গ্রামের ৪৫ বছর বয়স্ক রাজমিস্ত্রি আতর আলী তাঁর ক্ষেতের ধান খাওয়ার কারণে নিয়মমাফিক একটি গরু খোঁয়াড়ে দেন। দুর্ভাগ্যবশত গরুটির মালিক গ্রামের একজন প্রভাবশালী। গরু খোঁয়াড়ে দেওয়ার 'অপরাধে' একদল লোক আতর আলীকে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে আহত করে, তারপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দড়ি পুড়ে গেলে মুমূর্ষু আতর আলী জ্বলন্ত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী এক বাড়ির উঠোনে গিয়ে আছড়ে পড়েন। অতঃপর ঢাকা মেডিক্যালে নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ ও মৃত্যু। এ যেন আফ্রিকার অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের নিষ্ঠুরতারই আরেক চিত্র আধুনিক বাংলাদেশে! আরো অবাক করা বিষয় হলো, ১১ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হলেও এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অধিকন্তু আতর আলীর পরিবার জানিয়েছে, আসামিরা তাদের হুমকি দিচ্ছে। তাঁর পরিবার দাবি করেছে, আসামিরা সরকারে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমরা জানি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা, অভিযুক্ত এক বা একাধিক ব্যক্তিকে বিচারের সম্মুখীন করার দায়িত্ব সরকারের নির্বাহী বিভাগের। সরকারের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, এই গ্রেপ্তার না হওয়ার ব্যর্থতার দায় তারা এড়াবে কী করে? এমন নৃশংস অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার না হলে সরকারের ওপর মানুষের আস্থা কমতে বাধ্য_এ কথা খোদ সরকারকেই বুঝতে হবে। আরো একটি কথা সরকারে নেতৃত্বদানকারী দলকে বুঝতে হবে, আতর আলীকে হত্যাকারীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক পরিচয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলে তাদের আনুগত্য হয়তো দলের প্রতি বাড়বে, কিন্তু সারা দেশে তার অনেকগুণ সমর্থন অদৃশ্য হয়ে যাবে।
আতর আলী হত্যার মতো জঘন্য একটি হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হলে সমাজে নৃশংস ঘটনা বাড়তেই থাকবে। প্রকারান্তরে উৎসাহী করা হবে পৈশাচিক কর্মকাণ্ডকে। আমরা আশা করি, সরকারের শীর্ষমহল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.