পৃথক মন্ত্রণালয় করুন, উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিন-উপেক্ষিত রেলওয়ে

মহাজোট সরকার রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও গত দুই বছরে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটির উন্নয়নে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ যখন নির্ভরযোগ্য যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে রেলওয়ের উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি নিচ্ছে, তখন আমাদের নীতিনির্ধারকেরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন।


এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এই সংস্থাটির হাতে যে বিশাল সম্পত্তি আছে, তার সদ্ব্যবহার করেও রেলওয়ের উন্নয়নে কর্মসূচি নেওয়া যায়। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে একটার পর একটা লাইন ও স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও রেলওয়ের যাত্রীসংখ্যা ও আয়—দুটোই বেড়েছে। ২০০৮ সালে রেলওয়ে যাত্রী পরিবহন করেছিল পাঁচ কোটি ৩০ লাখ এবং ২০১০ সালে এসে তা উন্নীত হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকায়। কিন্তু এই খাতটির প্রতি সরকারের মনোযোগ আছে, তার প্রমাণ নেই। ঠিক সময়ে ট্রেন ছাড়ে না, গন্তব্যেও পৌঁছে না। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসবের জন্য কর্তৃপক্ষ লোকবলের অভাব এবং কোচ-ইঞ্জিন সমস্যার দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো সরকারের সদিচ্ছার অভাব। বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে রেলওয়ে আজ বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় পাতালট্রেন, উড়ালট্রেনের নতুন নতুন পরিকল্পনা রূপকথার গল্প বলেই প্রতীয়মান হয়।
রেলওয়ে নিয়ে অতীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। বেসরকারি পরিবহনমালিকদের চাপে বিভিন্ন রেলওয়ে লাইন বন্ধ করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতেও কর্তৃপক্ষ দ্বিধা করেনি। এখন খোলাখুলি বলতে হবে, তারা এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাখতে চায় কি না? চাইলে রেলওয়ের উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ১৪ হাজার কোটি টাকার ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন পেলেও কাজ শুরু না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। সরকার অনেক অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ বরাদ্দ করছে। আর অর্থের অভাবে রেলওয়ের উন্নয়ন আটকে থাকবে, তা মানা যায় না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি বরাবর কম মনোযোগ পেয়ে আসছে। সে ক্ষেত্রে আলাদা রেলওয়ে মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এর আধুনিকায়ন, লাইন সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর বিকল্প নেই।

No comments

Powered by Blogger.