আমরাও একমত

কবিরা অনেক গুরুগম্ভীর কথা বলেন। আমরা আমাদের স্বল্পজ্ঞানে সেসব কথার মর্মার্থ বুঝতে পারি না। ফলে অনেক সময় তাঁদের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করতে পারি না। কিন্তু এখন যে কথাগুলো উল্লেখ করা হবে, সেগুলোর সঙ্গে আমরা একমত।


কেন এবং কীভাবে একমত, তা-ই জানাচ্ছেন ইকবাল খন্দকার
১.
ঠিকই তো আছে। সুরঞ্জনা কেন ওইখানে যাবে? সুরঞ্জনার মতো একটা মেয়ের হুট করে কোথাও চলে যাওয়া উচিত নয়। যুবকের সঙ্গে যদি জরুরি কোনো কথা থেকে থাকে, সেই কথা যে ওইখানে গিয়ে বলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। সুরঞ্জনা যদি নিয়মিত টিভি দেখে এবং পত্রিকা পড়ে, তাহলে তার জানার কথা এখন মোবাইলের কলরেট খুবই কম। এক টাকা হলে কয়েক মিনিট কথা বলা যায়। যুবকের সাথে কথা বলার এতই যদি ইচ্ছে হয়, মোবাইল ফোনে ১০ টাকা ফ্লেক্সিলোড করে ঘরে বসে কথা বলে নিলেই হয়। কথা বলার জন্য সশরীরে ওইখানে যাওয়ার তো কোনো মানেই হয় না।
২.
‘ওইখানে’ মানে নরমাল কোনো জায়গা। যদি প্রসিদ্ধ কোনো জায়গা হতো, তাহলে ‘ওইখানে’ না বলে সরাসরি সেই জায়গাটার নাম উল্লেখ করা হতো। যেমন—বড় কোনো রেস্টুরেন্টের নাম। যেসব রেস্টুরেন্টের নামের সঙ্গে সবাই পরিচিত। কবি যদি বলতেন—সুরঞ্জনা, অমুক রেস্টুরেন্টে যেয়ো নাকো তুমি, তাহলে হয়তো আমরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করতাম না। কারণ, সুরঞ্জনা যুবকের সঙ্গে কথা বলতে রেস্টুরেন্টে যেতেই পারে। যেহেতু রেস্টুরেন্টের কথা না বলে নরমাল কোনো জায়গা তথা ‘ওইখানে’র কথা বলা হয়েছে, অতএব আমরা কবির নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে একমত। অর্থাৎ সুরঞ্জনা যেখানে-সেখানে যাবে না, এটাই ফাইনাল।
৩.
যুবক যেখানে বলবে, সুরঞ্জনা যদি সেখানেই যায়, তাহলেই এটা যেচে কথা বলার শামিল হয়ে যায়। সুরঞ্জনা কি এতই সস্তা হয়ে গেছে যে সে যুবকের সঙ্গে যেচে গিয়ে কথা বলবে? না, এটা হতে পারে না। সুরঞ্জনা নয়, বরং যুবকই সুরঞ্জনার সঙ্গে যেচে কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকবে। কারণ, বাস্তবে তা-ই ঘটে। ছেলেরাই বেশি উদগ্রীব থাকে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। অতএব কবি যা বলেছেন, একদম উচিত বলেছেন। সুরঞ্জনা কোথাও যাবে না। যুবকই তার সঙ্গে কথা বলার জন্য বাড়ির আশপাশে এসে ঘুরঘুর করবে। তবু সুরঞ্জনা তার সঙ্গে কথা বলবে কি বলবে না, এটা একান্তই তার মর্জি।
৪.
‘বলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে’। এই কথায় কোথায় যেন বিশেষ একটা আভাস পাওয়া যায়। কিসের আভাস, জানেন? বিয়েশাদির। যেহেতু এখানে বিয়েশাদির আভাস বিদ্যমান, অতএব সুরঞ্জনাকে কবি নিষেধ করতেই পারেন, যাতে যুবকের সঙ্গে কথা না বলে। কারণ, বিয়েশাদির ব্যাপারে যুবকের সঙ্গে কথা বলা মোটেই ঠিক না। সে যদি বিয়ে করতেই চায়, তাহলে বাড়িতে গিয়ে মুরব্বিদের পাঠাক। সুরঞ্জনার পক্ষের মুরব্বি আর যুবকের পক্ষের মুরব্বিদের মধ্যে কথা হোক। বিয়েশাদি হচ্ছে সারা জীবনের ব্যাপার। তাই মুরব্বিদের কথা বলতেই হবে। শুধু সুরঞ্জনা আর যুবকের মধ্যে কথা হলে এই বিয়ে না-ও টিকতে পারে।
৫.
‘ওই যুবকের সাথে’ যেহেতু বলা হয়েছে, তার মানে যুবকটি অপরিচিত কিংবা স্বল্প পরিচিত। যদি পুরোপুরি পরিচিত হতো, তাহলে ওই যুবক না বলে সরাসরি যুবকের নাম বলা হতো। কারণ, কেবল পরিচিত মানুষের নামই আমাদের জানা থাকে। তো, যেহেতু যুবকটি অপরিচিত অথবা স্বল্প পরিচিত, অতএব তার সঙ্গে সুরঞ্জনার কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, আজকাল অপরিচিত যুবকদের বিশ্বাস করা যায় না। কখন যে কথা বলার ছলে গোপন ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলে ফেলবে, আবার সেই ছবি কম্পিউটারে কাটছাঁট করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে, বলা মুশকিল।

No comments

Powered by Blogger.