ডেসটিনির এমএলএম ব্যবসা-বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখতে হবে

বিষয়টি বহুল আলোচিত। গত কয়েক দিনে সংবাদমাধ্যমে ডেসটিনি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি নতুন করে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এই কম্পানির অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যেতে পারে, বিষয়টিকে খাটো করে দেখা যাবে না।


পত্রপত্রিকায় ডেসটিনির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন, এমন অনেকের উদ্ধৃতিও রয়েছে প্রকাশিত খবরে।
অতীতে অনেক বম্পানির নাম শোনা গেছে, যারা এমএলএম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনেক কম্পানি গ্রাহকদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এখনো দেশে ডেসটিনি ছাড়া অনেক কম্পানি এ ধরনের ব্যবসা করছে। এসব কম্পানির খবর মাঝেমধ্যে সংবাদমাধ্যমে আসে। কিন্তু তার পরও মানুষ কেন এই ব্যবসার দিকে ঝোঁকে? সহজে যা অনুমান করা যায়, তা হলো- সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজে প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। দেশে যখন বেকারত্ব বাড়ে, ব্যবসায় মন্দা যায়, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের মতো করে বিনিয়োগের জায়গা খোঁজে। এই সুযোগ কেউ নিতে পারে। কিন্তু ডেসটিনির মতো একটি প্রতিষ্ঠান এক দিনে বিস্তৃত হয়নি। ডেসটিনির মতো আরো অনেক কম্পানি এখানে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছেন অনেকে। এই বিনিয়োগের নেপথ্যে কোনো প্রলোভন কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সবার আগে যে বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে, তা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা। ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠান দেশে ব্যবসা করবে- তা দেখার কেউ নেই এটা হতে পারে না। এ ধরনের ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাবে না, তা-ও নয়; কিন্তু আমাদের এখানে কি এই ধরনের ব্যবসাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কোনো চেষ্টা হয়েছে? গত বছরের শেষার্ধে শোনা গিয়েছিল, এ ধরনের ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আইন করা হবে। আইনের খসড়াও তৈরি করা হয়েছিল।
ডেসটিনি নিয়ে প্রকাশিত খবরে অনেক অভিযোগ। ডেসটিনি প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নিচ্ছে বলে প্রকাশিত খবরে অভিযোগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনেও সে কথা বলা হয়েছে। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত না হয়েও শেয়ার বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে। সব অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও প্রশ্ন উঠতে পারে, ডেসটিনি দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাতারাতি এ ব্যবসা করে ডেসটিনি টাকা তুলে নেয়নি। এত দিন কেন আইনের বাইরে রাখা হলো? মূল বিষয়টি হলো, ডেসটিনির অগণিত গ্রাহক। এর আগে যুবক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। ডেসটিনির এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর গ্রাহকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁদের এটা দেখার কথা, তাঁরা কেন এত দিন চুপ করে ছিলেন।
ডেসটিনি আইনের বাইরে কোনো কাজ করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। নেওয়া উচিত। কিন্তু সবার আগে দেখতে হবে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ। তাদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমন ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.