ধর্ষিতার পরীক্ষা-ঘুষের অঙ্কে রিপোর্ট পাল্টায়!

ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নিয়ে পরে আসামি পক্ষ ঘুষের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক)। বুধবার সমকালে 'ধর্ষিতার পরীক্ষা : ঘুষ নিয়ে যা করলেন রামেকের চিকিৎসক' শিরোনামে


প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের টাকা লেনদেনের ঘটনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রমাণ করা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনা এ দেশে ওপেন সিক্রেট। তবে ধর্ষণের মতো একটা গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘুষের বিনিময়ে রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনা মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির প্রকাশ এবং এটা আমাদের সামষ্টিক জীবনে নৈতিকতার মান যে নিম্নগামী তারই ইঙ্গিতবাহী। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক চাপে পড়ে জনপ্রতিনিধির সামনে ভিকটিমের পিতার কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি সত্যি সত্যিই ভিকটিমের পক্ষে রিপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। যেহেতু আসামি পক্ষ ভিকটিমের পক্ষে প্রদত্ত অর্থের চেয়েও বেশি অঙ্কের অর্থ ঘুষ হিসেবে প্রদান করে, তাই রিপোর্টটি আসামির অনুকূলেই হয়েছে বলে অভিযোগ। পুনরায় ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ওই চিকিৎসকের প্রদত্ত রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। সময় পেরিয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকলে চিকিৎসক সাফাই গাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে তিনি ভিকটিমের লোকজনের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে অর্থ গ্রহণের দায় এড়াতে পারবেন না। ওই চিকিৎসক যদি আসামি পক্ষের কাছ থেকে সত্যি সত্যি অর্থ নিয়ে থাকেন তবে সেটা পুলিশি জেরার মাধ্যমে প্রমাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ধর্ষণের ঘটনায় ঘুষের বিনিময়ে একজন চিকিৎসক আসামির পক্ষে রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগে। ঘটনাটি নিন্দনীয় এবং গুরুতর পেশাগত অপরাধ। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উচিত ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোকে সব ব্যক্তিগত লাভালাভের ঊধর্ে্ব কি রাখা যায় না?

No comments

Powered by Blogger.