বিনে পয়সার গ্যাস-রোধ করতে হবে সব ধরনের অপচয়

সারা দেশেই গ্যাসের ঘাটতি। পাইপলাইনে যেখানে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেখানে গ্যাস অপ্রতুল। এই গ্যাসের ঘাটতি কবে দূর হবে, কেউ জানে না। রাজধানী ঢাকায় নতুন করে গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার চাহিদা অনেক। গ্যাস সংযোগের অভাবে আবাসন শিল্পে বিরাজ করছে স্থবিরতা। সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না।


বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ওদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের দামও আকাশছোঁয়া। গ্যাস সমস্যার সমাধান কবে হতে পারে, এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। বর্তমান সরকারের আমলে গ্যাসের উৎপাদন প্রতিদিন ২৮ কোটি ঘনফুট বাড়লেও প্রতিদিনের ঘাটতি ৫০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গ্যাস সংকট মোকাবিলা করতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বত্র যখন এই অবস্থা, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন গ্রামে বিনে পয়সার গ্যাসে গড়ে উঠেছে ২৫টি কারখানা। এসব চুড়ি, চিমনি ও বেকারি কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে কারখানা মালিকদের নিজেদের উদ্যোগে। এই গ্যাস সংযোগ একদিকে যেমন অবৈধ, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু দিনের পর দিন এসব গ্রামে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে।
একসময় শোনা যেত, বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে। সেই গ্যাস এখন ঘাটতির দিকে। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাসের উৎপাদন বাড়লেও একটি মাত্র নতুন কূপ এসেছে উৎপাদনে। পুরনো কূপগুলোর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। যখন সারা দেশেই গ্যাসের সংকট, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি গ্রামের মানুষ গ্যাস ব্যবহার করছে বিনে পয়সায়। এসব এলাকায় মাটি ফুঁড়ে গ্যাস উঠছে। গ্যাস উঠছে টিউবওয়েল দিয়ে। সেই গ্যাস লাগানো হচ্ছে গৃহস্থালির কাজে। পাশাপাশি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে কারখানার কাজের জন্য। ওই সব গ্রামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কারখানা। সেই কারখানায় টিউওয়েলের পাইপের সঙ্গে ছোট পাইপ লাগিয়ে গ্যাস টেনে ব্যবহার করা হচ্ছে কারখানার কাজে। এসব গ্রামের লোকজন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা গ্যাস গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করছে কয়েক বছর আগে থেকেই। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের ৩ নম্বর কূপে সমস্যা দেখা দিয়েছিল ২০০৩ সালে। এরপর ২০০৬ সাল থেকে ওই সব এলাকায় মাটি ফুঁড়ে গ্যাস উঠতে থাকে। গ্যাস উঠতে থাকে টিউবওয়েলের পাইপ দিয়ে। সেই গ্যাস তখন থেকেই এলাকার মানুষ এই গ্যাস ব্যবহার করছে। এই গ্যাস ব্যবহার অবৈধ। শুধু তা-ই নয়, রীতিমতো বিপজ্জনকও। মাটির নিচ থেকে গ্যাস আহরণের একটি নিয়ম আছে। একটি নির্দিষ্ট চাপে ও তাপে এই গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামগুলোয় যে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে, তাতে কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। শুধু যে ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি তা নয়, ওই সব গ্রামের মাটি ফুঁড়ে যে গ্যাস বের হচ্ছে, সেই গ্যাসও এলাকায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এর আগে বেশ কয়েকবার ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। পুড়ে গেছে ঘরবাড়ি। কিন্তু তার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন টনক নড়ছে না।
যে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবে দেশের আবাসন শিল্প প্রায় স্থবির হয়ে আছে, নতুন করে শিল্প স্থাপন করা যাচ্ছে না, সেই প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হচ্ছে সবার চোখের সামনেই। অথচ দেখেও যেন দেখার কেউ নেই। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গ্যাসের এই অবৈধ ব্যবহার ও অপচয় রোধ করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই সব এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাটাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

No comments

Powered by Blogger.