তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন-কাদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার শেষে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি হেলালউদ্দিন ও এসআই আলম বাদশার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কাদেরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করেছে।


বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে গতকাল দাখিল করা প্রতিবেদনে কাদেরের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে উলি্লখিত দুজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করা যেতে পারে বলেও অভিমত দেওয়া হয়েছে। ৪০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে কাদেরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, ছিনতাইকারীকে পুলিশ ধরার পর মারধরের ঘটনা ঘটতেই পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আশীষ রঞ্জন দাস প্রতিবেদনটি দিয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে আইন মন্ত্রণালয় তাঁকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গঠনের সময় তিনি যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-২) ছিলেন। তাঁর দেওয়া প্রতিবেদন গতকাল আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো : কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় যে অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সেই অপরাধে আদৌ সংশ্লিষ্ট কি না সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পুলিশ সদস্যের প্রতি নির্দেশনা জারি করা; কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতসহ প্রচলিত আইনে যে নির্দেশনা রয়েছে তা যথাযথভাবে পালনের জন্য পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে সব পুলিশ সদস্যের প্রতি প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করা; কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আদৌ জড়িত কি না এর প্রাথমিক প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া এবং পুলিশের সব ধরনের মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অবশ্যই সত্য ঘটনাকে অবলম্বন করেই মামলা করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেইে সত্য ঘটনাকে আড়াল করে মিথ্যা বক্তব্য সাজিয়ে কেউ যেন মামলা না করতে পারে সে বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা জারি করা।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, আবদুল কাদেরকে সন্দেহবশত আটক করা হয় এবং একজন দুর্বৃত্তের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। আবদুল কাদেরের বক্তব্য এবং তাঁর পরিচয়ের বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান না করেই সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই কার্যক্রমে পুলিশের দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অন্যায়ভাবে একজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
এদিকে একই দিন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সুয়োমোটো রুল জারি করেন। এ ছাড়া ওই দিন কাদেরকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ বিভাগের তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে আদালত একজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

No comments

Powered by Blogger.