টিপাইমুখ বাঁধ দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির নজির-প্রধান ম. ইনামুল হক, পানিসম্পদ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী

টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা ভারতের বরাক নদের অববাহিকার মাছসহ জলজপ্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হবে। ভারতের এই উদ্যোগ মণিপুর, মিজোরাম ও কাছাড় এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ ও পরিবেশের জন্য সমূহ ক্ষতিকর। টিপাইমুখ ড্যাম প্রকল্প মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিধায় মণিপুর, মিজোরাম ও আসামের সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে মানবাধিকারকর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁরা


বলছেন, টিপাইমুখ ড্যাম প্রকল্পের ক্ষেত্রে ডড়ৎষফ ঈড়সসরংংরড়হ ড়হ উধসং নীতিমালা মানা হচ্ছে না, যেখানে কোনো ড্যাম নির্মাণের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খোলা মতামত নেওয়ার কথা বলা আছে। তাঁরা এনএইচপিসির সমালোচনা করে বলেন, এই সংস্থা মধ্যপ্রদেশের ইন্দিরা সাগর ও ওমকারেশ্বর, হিমাচল প্রদেশের চামেরা ১ ও ২, মণিপুরের লোকতাক, ঝাড়খণ্ডের কোয়েল কারো, অরুণাচল প্রদেশের নিম্ন সুবর্ণসিঁড়ি ইত্যাদি প্রকল্পে বাস্তুচ্যুত মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন করেনি, পরিবেশ ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনাতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ভারত সফরে গেলে ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে লিখিত ৫১ দফা যৌথ ইশতেহার ঘোষণা হয়। এতে ৩১ দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অঙ্গীকার করেন_টিপাইমুখে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। চলতি বছর যৌথ ইশতেহার ঘোষণায় ২১ নম্বর দফায় টিপাইমুখ প্রসঙ্গে একই অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ ভারত নেবে না বলে সাংবাদিকদের কাছে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মনমোহন সিং। টিপাইমুখ বাঁধ সরকারের নিশ্চুপ ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে আমাদের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই আলোচনা ছাড়াই ভারত এটা করতে পেরেছে। টিপাইমুখ বিষয়ে আমাদের পক্ষ শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপনেও রয়েছে যথেষ্ট ব্যর্থতা। টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে আমাদের সিলেটের হাওর অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ফসল উৎপাদন বন্ধ হবে। এতে আমরা শুধু সিলেটেই প্রতিবছর অন্তত এক হাজার কোটি টাকার বোরো ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হব।

No comments

Powered by Blogger.