প্রতিবেশী : ভারতীয় সরকার ও সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষা-ইরম শর্মিলা চানুর ১১ বছরের অনশন by শামস্ বিশ্বাস

ভারতে দুর্নীতি রোধের জন্য শক্তিশালী লোকপালের দাবিতে গান্ধীবাদী আন্না হাজারের মাসছয়েক ধরে দফায় দফায় ১১ দিন অনশন নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। সেটা শেষ হতে না হতেই প্রচারমাধ্যমে আসে আরেক অনশনের সংবাদ_২০০২ সালের সংখ্যালঘু নিধনের প্রশ্রয়দাতা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনশন 'শান্তি, একতা ও সামাজিক সম্প্রীতি' বৃদ্ধির জন্য! এমন লোকদেখানো অনশনের ভিড়ে আরেক গান্ধীবাদী ইরম শর্মিলা চানু যে টানা ১১


বছর ধরে মণিপুর রাজ্যের নিরাপত্তাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে অনশন করছেন, তা কিন্তু করপোরেট নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের কাছে উপেক্ষিত।
এ বছর ৫ এপ্রিল থেকে জন লোকপাল আইনের দাবিতে অনশন শুরু করেন আন্না হাজারে। প্রথম দিন থেকেই গোটা ভারতের সংবাদমাধ্যমের কাছে আন্নার 'টিআরপি' তুঙ্গে। পাশে ছিলেন কিরণ বেদী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, স্বামী অগি্নবেশ, বাবা রামদেব, স্বামী রবিশঙ্কর, মেধা পাটকর প্রমুখ সেলিব্রেটির মুখ। প্রথম দফায় ৯৮ ঘণ্টার অনশনেই ভারতজুড়ে সাড়ে ছয় লাখ অনুগামী পেয়ে যান তিনি। বিশ্বজুড়ে পান লাখ লাখ সমর্থন। প্রধানমন্ত্রীকে লোকপালের আওতার বাইরে রাখার বিরোধিতা করে জুন মাস থেকে ফের আন্দোলন। ১৬ আগস্ট অনশন শুরু করার পরই গ্রেপ্তার হন আন্না। সব মিলিয়ে অনশনের মেয়াদ ১১ দিন। তাতেই ভারতজোড়া সমর্থনলাভে 'টিম আন্না' ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেছে। গণমাধ্যম থেকে টুইটার-ফেইসবুক ভরে যায় আন্নার সমর্থনে বলিউড তারকাদের ছবি আর মন্তব্যে।
আন্নার অনশন ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, জন লোকপাল বিল সংসদে পাস করার দাবিতে। আর মোদিরটা গুজরাটি সংকীর্ণ পরিসরে সীমিত না থেকে ভারতভাগ্যবিধাতা হওয়ার রাজনৈতিক উচ্চাশায়। অনশন মোদির মতো রাজনীতিকের জন্য একটা কৌশল। আন্না হাজারের অনশনে যে নৈতিকতা ছিল, মোদির ক্ষেত্রে তা কি বিন্দুমাত্র বিদ্যমান? অনশনকে যিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি গ্রহণযোগ্য প্রকরণে পরিণত করেছিলেন, সেই মহাত্মা গান্ধী একই সঙ্গে এটাকে আত্মশুদ্ধির উপায় রূপেও প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী ছিলেন। বস্তুত তিনি নিজে অনশনে বসার সময় আত্মশুদ্ধি বা চিত্তশুদ্ধির আধ্যা@ি@@@কতাকে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই পরিপুষ্ট করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁরই অসহযোগ আন্দোলনে নেমে জনতা পুলিশ চৌকি আক্রমণ করে পুলিশ হত্যা করলে তিনি পত্রপাঠ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। মণিপুর-দুহিতা ইরম শর্মিলা চানু 'সশস্ত্রবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন' প্রত্যাহারের দাবিতে ১১ বছর ধরে যে অনশনে অবিচল, তার মধ্যেও সেই প্রবল নৈতিকতার জোর আছে। তিনি এত দিনে জেনে গেছেন, ভারত সরকার তাঁর দাবি মানবে না। কিন্তু সে জন্য তাঁর আমরণ অনশন মাঝপথে শেষ করেননি। আন্না হাজারে ও ইরম শর্মিলা চানুর অনশনে বিভেদ কোথায়_সেই প্রশ্ন উঠছে গণতন্ত্রকামী-বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে।
২০০০ সালের ১ নভেম্বর একদল উগ্রপন্থী মণিপুরের একটি সেনাছাউনিতে বোমা হামলা চালায়। ঘটনার পর প্রতিশোধস্পৃহায় উন্মত্ত অসম রাইফেলসের (সেনাবাহিনী) একদল জোয়ান মালম বাসস্ট্যান্ডে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলায় নিহত হয় ১০ নিরীহ গ্রামবাসী। এই নৃশংস ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা মণিপুর। 'আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট' (অঋঝচঅ) বা 'আফস্পা' নামের এককালে আইনের রক্ষাকবচে কিছুই হয় না দোষী ভারতীয় সেনাসদস্যদের। ভারত সরকার মণিপুরসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে 'আফস্পা' বলবৎ করে ১৯৮০ সালে। এই অ্যাক্টের বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই যেকোনো লোককে তল্লাশি, গ্রেপ্তার, কিংবা গুলি করে হত্যা করতে পারে। সেনাবাহিনীর এই সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিকব্যবস্থা নিতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। অ্যাক্ট চালু হওয়ার পরই ভারতের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর তৎপরতা অনেক বেড়ে যায়। সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের দোহাই দিয়ে চালু হওয়া সেনা অভিযানে নিরীহ মানুষও হামলার শিকার হয়। ১৯৫৮ সালে আইনটির জোরে মণিপুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হত্যা, অত্যাচার, অপহরণ, ধর্ষণ সব কিছুকেই জায়েজ করে রাষ্ট্র নামের দৈত্য। জনরোষের সামনে পড়ে সরকার বারবার তদন্ত কমিশন বসিয়েছে। অপরাধ প্রমাণও হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো অপরাধী সেনা বা অফিসারের শাস্তি হয়নি।
১৪ মার্চ, ১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া ইরম চি নন্দ ও ইরম অংবি চাখির কন্যা নিজের বাড়ির কাছে বাসস্ট্যান্ডে সেনাবাহিনীর দ্বারা ১০ জন মানুষ খুন হতে দেখে চুপ থাকতে পারেন না। মণিপুরের লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত ২৮ বছর বয়সী তরুণী ইরম শর্মিলা চানু 'আফস্পা' বাতিলের দাবিতে ২০০০ সালের ২ নভেম্বর অনশন শুরু করেন। প্রতিবাদ শুরুর পরই ৬ নভেম্বর আত্মহত্যা চেষ্টার অভিযোগে মণিপুরের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আত্মহত্যার চেষ্টা ভারতের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড। প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট ভারতীয় আইন অনুযায়ী শর্মিলাকে একবার ছেড়ে দেওয়া হয়। ফের কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। আইনের এই প্রহসন চলছে ১১ বছর ধরে। ২০০৬ সালে ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনি তৎক্ষণাৎ গোপনে দিলি্ল গিয়ে রাজঘাটে গান্ধীর সমাধি পরিদর্শন করলেন। এর পরই যন্তর-মন্তরে গিয়ে ফের অনশন শুরু করে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নিয়ে যাওয়া হলো। তাঁর ভাই ইরম সিংহজিৎ সিং দিলি্ল হাইকোর্টে এই গ্রেপ্তার চ্যালেঞ্জ করেন। ২৮ নভেম্বর শর্মিলা তাঁর নাকের নল খুলে ফেলেন। কিন্তু আবার তাঁকে খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। ইরম শর্মিলা চানুকে বাঁচিয়ে রাখতে ভারত সরকার তাঁর নাকে ঢুকিয়ে রেখেছে নল। সেই নল দিয়ে তাঁকে তরল খাদ্য দেওয়া হয় জোর করে। তাঁকে জেলের হাসপাতালে পাঠিয়ে নেজাল ড্রিপের মাধ্যমে খাওয়ানো শুরু হয়। জেলে বন্দি থাকলে এটাই এখনো রুটিন বছর চলি্লশের চানুর। গত ১১ বছর এ রকমই চলছে। তখন থেকেই ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু হাসপাতালের একটি আইসোলেটেড কেবিন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। অনশনে থাকাকালে তাঁর মুখে এক দানা খাদ্যও যায়নি, ঠোঁট, জিভ, তালু পায়নি এক বিন্দু জলের স্পর্শ। দাঁত মাজা মানে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নেওয়া, শুষ্ক ঠোঁট স্পিরিট দিয়ে মোছেন, যাতে এক বিন্দু লালাও গলা দিয়ে না যায়।
শর্মিলা অনশন শুরু করার পর মণিপুরের শহরাঞ্চলের কিছু অংশে 'আফস্পা' শিথিল করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এই কালো আইনকে কিছুটা সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ব্যস, ওই পর্যন্তই! ভারতীয় প্রচারমাধ্যম আর সরকারের কাছে শর্মিলার অনশন আন্দোলন নয়, শর্মিলার অনশন মানে শুধুই আত্মহত্যার চেষ্টা! 'আত্মহত্যার চেষ্টা'র অপরাধে যতবারই সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, সরকারিভাবে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। যে কয় দিন 'মুক্ত' থাকেন, নল-টল খুলে ফেলে ফিরে যান অনশনের পুরনো ধাঁচে। ফলে দু-একদিনের মধ্যেই ফের গ্রেপ্তার। আবার হাসপাতাল। 'অনশন অপরাধ'-এর এই আবর্ত থেকে কিছুতেই আর বেরোতে পারেন না শর্মিলা। আন্নার ক্ষতির আশঙ্কায় যেমন উদ্বিগ্ন ছিল ভারত সরকার, যেভাবে চার দিনের কারাদণ্ড দিয়েও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তেমনটা শর্মিলার ক্ষেত্রে হয় না। আন্নার দাবি মেনে নেওয়া হলেও শর্মিলার দাবি মানা হয় না।
আন্না-মোদির অনশন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক প্রচার মানবাধিকারকর্মীদের হতাশ করেছে। চানুর ভাই তথা মানবাধিকারকর্মী সিংহজিৎ সিং বলেছেন, 'আমাদের মনে হচ্ছে, আমরা, মানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ সব সময় উপেক্ষিত ও বৈষম্যের শিকার। আন্নার অনশনে বাকি ভারত ও প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট করেছে। আন্নার অনশন যেখানে সংবাদপত্রগুলোর শিরোনামে, তখনো উপেক্ষিত আমাদের শর্মিলার ১১ বছরের লড়াই।'
শর্মিলার এ ধরনের চোয়ালচাপা লড়াই প্রায় আড়ালে থেকে যাওয়ায় ক্ষোভ গোপন করেনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এমনই এক সংগঠনের এক কর্মী বলেছেন, ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো কখনোই চানুর লড়াইয়ের স্বীকৃতি দেয়নি। এ ব্যাপারে ভারতীয় জনগণের মনোভাব খুবই দুঃখজনক।
অরুন্ধতী রায় মনে করেন, আন্নাকে ঘিরে এই 'আন্দোলন' এক উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, যে উগ্র জাতীয়তাবাদ উত্তর-পূর্বের কোনো মহিলার আন্দোলনকে গ্রহণ করবে না। ভারতের ক্রিকেট বিশ্বকাপে জয় বা পোখরানে সাফল্যের পরে বা সংরক্ষণবিরোধী সমাবেশেও একই ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া থাকে। অনশন বলতে, তার মানে, ইরম শর্মিলার অনশনকে বোঝায় না। শুধু সন্দেহের বশে মানুষ মারতে সেনাবাহিনীকে ছাড়পত্র দিয়েছে যে আইন, সেই আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে ১১ বছর ধরে অনশন চালাচ্ছেন তিনি।
মণিপুরের 'হিউম্যান রাইটস অ্যালার্ট'-এর অধিকর্তা বাবলু লইতংবাম বলেন, 'আমরা আন্নার আন্দোলনের বিরোধী নই। কিন্তু শর্মিলা ১১ বছর ধরে একা যে আন্দোলন ও অনশন চালিয়েছেন, তাকে গোটা দেশ সম্মান জানায়নি। সংসদও শর্মিলার আন্দোলন নিয়ে চুপ।' আন্নার আন্দোলন নিয়ে এই 'মাতামাতিতে' ক্ষুব্ধ শর্মিলার ভাইও বলেন, 'ভারত সরকার আন্নাকে মাথায় তুলেছে। তাঁর শরীরের অবস্থা নিয়ে চিন্তিত সারা দেশ। তাঁর দলের লোকদের নামের ভারে বড় নেতারা হয়রান। বলিউডও আন্নার হয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু, মণিপুরের কথা গোটা দেশ মনেই রাখে না।' বাবলু অবশ্য মণিপুরের মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে আন্নার সমর্থনে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, আন্নার পাশাপাশি গোটা দেশ দয়া করে মণিপুরের এই মেয়েটির দিকেও চোখ ফেরাক। লোকপাল বিল যেমন প্রয়োজন, তেমনই মানবাধিকার রক্ষায় 'আফস্পা' প্রত্যাহারও গুরুত্বপূর্ণ। অসমের ছাত্র সংগঠন 'আসু'র উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যের মতে, ভারতের মূল ভূখণ্ডের মানুষ উত্তর-পূর্বের কথা মনেই রাখে না। সে জন্যই শর্মিলার মতো নেত্রী ১১ বছর অনশন করার পরও গুরুত্ব পান না।
শর্মিলার এই লাগাতার আন্দোলন মূলধারার মিডিয়া গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। এখন আন্না হাজারেদের আন্দোলন নিয়ে মিডিয়ার হৈচৈ সেই অভিযোগ সত্য প্রমাণ করছে। শর্মিলার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি 'জাস্ট পিস ফাউন্ডেশন'-এর ট্রাস্টি সদস্য বাবলু লয়তংবামের কথায়, 'উত্তর-পূর্বের কোনো ঘটনা মূল স্রোতের মিডিয়ার কাছে খবর হিসেবে সচরাচর গণ্য হয় না। পুরো আচরণটাই বিভেদ সৃষ্টিকারী এবং হতাশাজনক।'
ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শর্মিলা বলেছেন, 'ওটা (আন্না হাজারের আন্দোলন) যেন খানিকটা লোকদেখানো। আমরা কিভাবে দুর্নীতি দূর করব? আমার ক্ষেত্রে বলতে পারি, আমি সমাজটাকে বদলাতে চাওয়া এক সাধারণ মেয়ে। ওসব সোশ্যাল ওয়ার্কার, সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।'
শর্মিলার আন্দোলনকে উপেক্ষা আর তাঁর আন্দোলন নিয়ে হৈচৈয়ের অভিযোগ ওঠায় আন্না হাজারে মণিপুরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। শর্মিলার কাছে যাওয়ার কথা শুনিয়েছেন আন্নার মঞ্চে হাজির হওয়া বলিউড তারকা আমির খানও। শর্মিলার কথায়, 'আশা করি, আন্নাজি মণিপুরে আসতে পারবেন, তবে আমি তো জোর করতে পারি না।'
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সম্পর্কে শর্মিলার মন্তব্য, 'তাঁর নেতৃত্ব আমার পছন্দ নয়। তিনি কথা রাখেন না। এটা দুর্ভাগ্যের।' ২০০৬-এ আফস্পা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন মনমোহন সিং। কিন্তু এখনো তা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শর্মিলার আবেদন, 'দয়া করে আন্না হাজারের মতো আমাদের দিকেও নজর দিন। ঈশ্বরের মতো সবাইকে সমান চোখে দেখুন। আমি তাঁকে শুধু বলতে চাই, আপনার মনোভাব বদলান।'
এই ১০ বছরে ভারতীয় চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সেনাবাহিনীর বর্বরতা, শর্মিলা বা তাঁর আন্দোলনের কথা উচ্চারিত হয়নি বললেই চলে। এ বিষয়ে সংখ্যাগুরুর দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রের ব্যাপক মিল দেখা যায়। আত্মহত্যার প্রচেষ্টার অভিযোগে বারবার গ্রেপ্তার করা হয় শর্মিলাকে, আন্না হাজারের বেলায় তা হয়নি। টুপি-পাঞ্জাবি সজ্জিত ভদ্রলোক আন্নার সঙ্গে ফানেক-ইনাফি পরা শর্মিলার যে অনেক তফাত! এখানে মানুষের গুরুত্ব নির্ধারিত হয় ভোটের অঙ্কে। রাষ্ট্রে বাস করেও রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘু মানুষের দুর্দশার চিত্র সবখানেই তাই একই রকম।

No comments

Powered by Blogger.