শিল্পকলা প্রগতির পৰে, লড়ে অপশক্তির বিরম্নদ্ধে- শিল্পী কিবরিয়ার জন্মদিন উপলৰে কর্মশালা by সৈয়দ সোহরাব

ক্যানভাসে সবুজ আর হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। তার মাঝ থেকে ভেসে উঠেছে এক রমণীর অবয়ব। শরীরে শাড়ি জড়ানো, তবে সত্মন দু'টি উন্মুক্ত। চুল খোলা। মনোযোগ দিয়ে দেখলে মনে হয় সদ্য স্নান সেরে হেঁটে যাচ্ছে এ রমণী। দেশের খ্যাতিমান বর্ষীয়ান শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলৰে আয়োজিত কর্মশালায় খুব নিবিষ্ট মনে এ ছবিটি অাঁকছিলেন স্পেন প্রবাসী শিল্পী শহীদ কবীর।


কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, এটি একটি বসত্মির মেয়ের ছবি অাঁকছি। মেয়েটিকে আমি অনেক দেখেছি, তবে চিনি না। তাঁর নামও জানি না। এখন কোথায় থাকে সেটাও জানি না। গত বছর যখন দেশে আসি তখন মোহাম্মদপুরের আদাবরের একটি বাড়িতে থাকতাম, তার পাশেই ছিল একটি বসত্মি। তিন তলার জানালা থেকে প্রতিদিনই মেয়েটিকে আমি দেখতাম। তাঁর দেহের গড়ন ছিল বেশ চমৎকার। অনেকটা ভারতীয় নায়িকা নার্গিসের মতো। দীর্ঘাঙ্গী এতো সুন্দর, সুডোল দেহ খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু এবার এসে মেয়েটিকে আর দেখলাম না। কারণ বসত্মিটি আর সেখানে নেই, ভেঙ্গে মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। তবে মেয়েটিকে স্মৃতি থেকে ফেলতে পারছি না। স্মৃতি হাতড়িয়েই তুলে আনতে চেষ্টা করছি ক্যানভাসে। এ্যাক্রিলিকে অাঁকা ছবিটির একটি টাইটেলও ঠিক করেছি আমি, আর তা হলো বসত্মির রাণী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আসলেই উজ্জ্বল রং ব্যবহার করি। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃতিই এমন, তখন তুলিতে উঠে আসে উজ্জ্বল রংগুলোই। ব্রাইট রং ব্যবহার করা খুবই কঠিন, এ ছবিটির লে-আউট আগেই করা ছিল বলে সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্পীর সৃজনশীলতা কখনও তাঁর (শিল্পীর) মনমতো হয় না, ৬০ ভাগ হলেই শিল্পীরা সন্তুষ্ট হয়। এ ছবিটির ৰেত্রে আমিও সন্তুষ্ট।
শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলৰে নবীন ও প্রবীণ ১০১ শিল্পীর এই কর্মশালা শুরম্ন হয়েছে বছরের প্রথম দিন শুক্রবার থেকে। শনিবার ছিল এই কর্মশালার সমাপনী দিন। ঢাকা আর্ট সেন্টার আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন ভারত থেকে আগত বিশ্ব ভারতীর অধ্যাপক ইমেরিটাস শিল্পী কেজি সুব্রাৰানিয়াম। জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন অধ্যাপক রফিকুন নবী ও আর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। উলেস্নখ্য, এই কর্মশালার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঢাকা আর্ট সেন্টারেরও যাত্রা শুরম্ন হলো। উদ্বোধনী সকালে সুব্রাৰানিয়াম বলেন, নানা মাধ্যমের সৃজনশীল মানুষের মেলামেশার উপযুক্ত স্থান হিসেবে এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এই আর্ট সেন্টার গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, শিল্পকলা হলো প্রগতির ও সুন্দরের পৰের শক্তি। শিল্পকলা ধমর্ীয় মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদসহ সকল অপশক্তির বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে।
ট্রাস্টি মেম্বার মোসত্মাক আহমেদ ঢাকা আর্ট সেন্টার প্রসঙ্গে বলেন, এটি শুধু চিত্রশিল্পীদের সেন্টার নয়, চলচ্চিত্র শিল্পী, নাটক, কবি, সাহিত্যিক অর্থাৎ সৃজনশীল ব্যক্তিদের সেন্টার হিসেবে এটিকে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রিসার্চ সেন্টার থাকবে আর্কাইভ থাকবে। দেশী-বিদেশী বিখ্যাত শিল্পীদের প্রোফাইল থাকবে। দেশী-বিদেশী শিল্পীরা এখানে গবেষণা করতে পারবেন। তরম্নণ শিল্পীরা এখন তেমন সুযোগ পান না, তাদের উৎসাহ দিতেই তাদের কাজের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে এখানে। অর্থাৎ সৃজনশীলতার ৰেত্র হিসেবেই একে গড়ে তোলা হবে আমাদের ট্রাস্টির পৰ থেকে। তিনি আরও বলেন, দু'দিনব্যাপী এই কর্মশালার ১২৫টি ছবি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে, ছবি বিক্রির সমুদয় অর্থ ঢাকা আর্ট সেন্টারের ফান্ডে যাবে। এসব অর্থ শিল্পীর কল্যাণে ও প্রয়োজনেই ব্যয় করা হবে।
কর্মশালার দু'দিনই ঢাকা আর্ট সেন্টারে শিল্পীদের আসা-যাওয়া অব্যাহত ছিল। ঢাকা ও সারাদেশ থেকে আগত শিল্পীরা নিজেদের শিল্প ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন, মিলিত হয়েছেন একে অন্যের সঙ্গে। এঁকেছেন ছবি। কর্মশালায় অংশ নেয়া শিল্পীদের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো হাশেম খান, অলোকেশ ঘোষ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, বীরেন সোম, শহীদ কবীর, জামাল আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.