একুশ শতক- ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নতুন বছরের প্রত্যাশা by মোসত্মফা জব্বার

কালচক্রে আরও একটি নতুন ইংরেজী বছর এলো। বিশ্বায়নের ফলে নিজেদের নতুন বর্ষ ম্লান হয়েছে বলেই হয়ত বিশ্বজুড়ে পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটা ইংরেজী নতুন বছর অনুসারেই হয়ে থাকে। আমাদের হিসাব নিকাশটাও চৈত্র-বৈশাখে এখন আর হয়না, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই হয়ে থাকে।


ডিসেম্বরের শেষে আমাদের হিসাব থাকে বছর জুড়ে কি পেলাম, আর কি পেলাম না সেটি নিয়ে। জানুয়ারির শুরুতে সেটি হয়ে যায় নতুন প্রত্যাশার আলোতে উজ্জ্বল। বছরটা যেমনই কাটুক প্রত্যাশা কখনও ছোট হয় না। আমরা এখানে বিদায়ী বছরের প্রেেিতই নতুন বছরের প্রত্যাশার কথা বলতে চাই।
বাংলাদেশের জন্য ২০০৯ সাল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। আবার নতুন বছর বা ২০১০ সালও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। সবচেয়ে বড় কারণ, এটি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বছর। এই বছরটি নতুন সরকারেরও দ্বিতীয় বছর। প্রথম বছরের প্রস্তুতির পর দ্বিতীয় বছরে দেশের সকল মানুষই এই সরকারের কাছে প্রস্তুতির পরের স্তর, যাকে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বলব, সেটি পেতে চাইছে। এই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সেটির বাস্তবায়নের স্পষ্ট নমুনা এখন মানুষ দেখতে চাইবে এই নতুন বছরে। এছাড়া নতুন বছরের প্রথম ছয় মাস হচ্ছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অর্ধেক সময়। এই সময়ে সরকার তার বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক কাজ শুরু করবে সেটিই প্রত্যাশিত। তৃতীয়ত ২০১০ সালে আমাদেরকে বিগত বছরের ব্যর্থতার দায়ভার থেকে মুক্ত হতে হবে_ সেজন্য একটু তলিয়ে দেখতে হবে অতীতে আমরা কি কি ভুল করেছি। এই প্রেেিতই নতুন বছরের প্রত্যাশার কথা বলার আগে বিগত বা বিদায়ী বছরের সাফল্য ব্যর্থতার প্রতি সামান্য নজর দেয়া যেতে পারে। খুব বড় জায়গা নয় বলে সকল সাফল্য বা ব্যর্থতার কথা এখানে তুলে ধরা যাবে না।
গত বছরে সরকারের দিক থেকে নীতি ও সহায়তা েেত্র বেশ কয়েকটি মাইলফলক কাজ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা অনুমোদন, ডিজিটাল স্বার কতর্ৃপ প্রতিষ্ঠা করা, বাংলা ভাষা প্রমিতকরণের জন্য কমিটি গঠন, ডিজিটাল কমার্স বাস্তবায়নের জন্য অনলাইন লেনদেন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মোবাইল ব্যাংকিং চালু করার জন্য অনুমোদন দান, আইপি টেলিফোনির লাইসেন্স প্রদান ইত্যাদি। সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন সেল (এটি এখন সাপোর্ট টু ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে), কম্পিউটার কাউন্সিল এবং পিআইডি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে বেশ কিছু সেমিনারের আয়োজনও করেছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি এবং ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পিআইডি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে। সরকারের আর কোন সংগঠন বা বেসরকারী আর কোন সংস্থা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে তেমন কোন সরব উপস্থিতির প্রকাশ করেনি। বছরের একেবারে শেষ প্রান্তে ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯ পরিকল্পনা কমিশন আয়োজন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা। রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে নীরব ছিল। বিরোধী দল ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে খোঁচার পর খোঁচা দিয়েছে। মহাজোটের শরিকরা পারতপ েডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণ করেনি। এমনকি খোদ আওয়ামী লীগ বা তার কোন অঙ্গ সংগঠন ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কি বোঝায়, তার জন্য একটি সেমিনারের আয়োজনও করেনি।
বিশেষত বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি বছর জুড়ে নানা আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশের প েজনমত তৈরির কাজ করেছে। একটি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। দেশে ওয়াইম্যাক্স চালু করা এবং মোবাইলসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারী খাতের প্রচেষ্টায় মাইলফলক কিছু না থাকলেও বেশ নড়াচড়া অনুভব করা যায়। কিন্তু এক কথায় এটি বলতেই হবে যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়নে বেসরকারী খাত এবং সরকারকে যতটা সক্রিয় থাকবে বলে আমরা আশা করেছিলাম নানা কারণে তা আমরা দেখতে পাইনি।
সেইসব কারণেই পুরো বছরের শেষ প্রান্তে এসে এটি অনুভব করা যায় যে, সরকারের প থেকে ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তেমন কোন বড় বা মাইলফলক ধরনের কাজ করা হয়নি। সরকার যে কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করতে পারত সেটি হচ্ছে সরকারের কাজ করার পদ্ধতি ডিজিটাল করা। কিন্তু সেই কাজে সরকার চিন্তা-ভাবনাও করেনি। সরকারের তথ্য ডিজিটাল করা বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাযোগ করা বিষয়ে সরকারের অগ্রগতি প্রায় নেই বলা যায়। সরকারের ওয়েবসাইট বা সরকারী দলের ওয়েবসাইট একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী সরকারের ভাবনার প্রতিফলন ঘটায় না। এগুলো আপডেটেড নয়। এমনকি সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার কোন দলিলপত্র প্রকাশ করেনি। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা দিয়ে সরকার দেশটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় তার কোন স্পষ্ট বিবরণ এখনও জনগণের কাছে নেই। আমরা সরকারের মানুষ না হয়েও আমাদের বিবেচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প তৈরি করেছি। কিন্তু সেই রূপকল্পের কতটা সরকার গ্রহণ করেছে বা কতটা গ্রহণ করছে না এবং কোন পথে সরকার তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে চায় সেটি ২০০৯ সালে পাওয়া যায়নি। ২০০৯ সালে সরকার আইসিটি নীতিমালা গ্রহণ করে সেটি বাস্তবায়নের জন্য বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর মনিটরিং করার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু সেই মন্ত্রণালয় বাড়তি হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নতুন কোন পদপে নিয়েছে বা তার প্রচলিত কাজের বাইরে এক পাও চলতে চাইছে তেমনটি আমি দেখতে পাইনি। অন্য কোন মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কোন উদ্যোগ নিয়েছে সেটিও আমি দেখিনি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সচিবালয় নেই_ নেই কোন ফোকাল পয়েন্ট। এমনকি কোন পরিকল্পনার কথা আমরা জানি না। পরিকল্পনা কমিশন ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে সবচেয়ে নীরব ছিল। আইসিটি টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিষদের সভায় কোন মন্ত্রণালয় কোন কাজ করেছে তার হিসাব নেবার একটি প্রচেষ্টার বিষয় আমরা ল্য করেছিলাম। কিন্তু যেহেতু এই সংস্থাটিই কার্যকর হয়নি সেহেতু এই টাস্কফোর্সের কার্যকর ভূমিকার প্রতিফলন আমি দেখিনি।
শিা েেত্র নতুন সরকার নতুন শিা কমিটি করে তার প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। সেখানে দিন বদলের সনদ অনুসারে বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিা চালু করার কথা বলেছে। অথচ সেটি কেমন করে হবে তার কোন পরিকল্পনার কথা আমরা জানিনা। ২০১১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে কম্পিউটার শিাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কম্পিউটার বিতরণ, পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত এবং শিক প্রশিণের প্রতি ২০০৯ সালে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। শিা নীতিতে ডিজিটাল শিাব্যবস্থা নিয়ে কোন কার্যকর চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন নেই। কিন্তু সরকারকে এই বিষয়ে ২০০৯ সালে তেমন কোন কাজ করতে দেখিনি আমরা। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি শিা বা শিায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে সরকারের কোন চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ ঘটেনি। এমনকি বছরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ইন্টারনেটে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক পাওয়াও হয়ে ওঠেনি।
নীতি ও আইনগত যেসব সহায়তার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হয়ত ধীরে ধীরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে_ কিন্তু বাস্তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজের দিক থেকে সরকারের তেমন কোন অগ্রগতি বৃহৎভাবে দৃশ্যমান নয়।
যাহোক, আমরা যা চেয়েছিলাম তার পুরোটা বাস্তবায়িত হবে সেটিও আসলে কখনও আমরা ভাবিনা। আসলে চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল হয়ে ওঠে না বলেই আমরা হয়ত না পাওয়ার বিষয়গুলো অনেক বেশি উল্লেখ করি। যা করার সুযোগ থাকে তা করা না হলেও আমাদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি বলতে হয়। তবে একটি বিষয় আমি অবশ্যই বলতে পারি যে, ২০০৯ সালের সাথে এর পূর্ববর্তী সাত বছরের তুলনা করা যাবেনা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আইসিটি খাত ছিল সম্পূর্ণভাবে স্থবির। সেই সময়ে এই খাতে কাজের চাইতে অকাজ হয়েছে বেশি। এই খাতের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সকল েেত্রই সেই সরকার সিল মেরে রেখে দিয়েছিল। সেই সময়ে সাবমেরিন কেবল সংযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগানোর কোন পরিকল্পনা ছিলনা। ২০০৬ সালে আইসিটি এ্যাক্ট পাস হলেও সেটি কার্যকর করা যায়নি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইসিটির দিকে তাকায়ইনি । ২০০৮ সালে ফখরুদ্দীনের সরকার কিছুটা সক্রিয় হলেও পূর্ববর্তী সময়ের স্থবিরতাকে সচল করা সম্ভব হয়নি। তারই প্রেেিত ২০০৯ সালে নতুন সরকার মরিচা পড়া, জং ধরা এই খাতকে কিছুটা সক্রিয় করেছে, সেটি নিঃসন্দেহে বলা যায়।
২০১০ সালে আমরা প্রথমত অতীতের ব্যর্থতার পনুরাবৃত্তি দেখতে চাইনা। যে কাজগুলো ২০০৯ সালে হতে পারত সেই কাজগুলো ২০১০ সালেই করতে হবে। স্মরণ রাখা দরকার যে, ২০১০ সাল থেকে বারো বছরে আমরা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের ডিজিটাল রূপান্তরটি চাই। এজন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে একটি সঠিক পরিকল্পনা। আমরা ২০১০ সাল শুরু হবার ১০০ দিনের মাঝে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ১২ বছরের একটি পরিকল্পনা দেখতে চাই। যদিও বলা হতে পারে যে, সরকার এরই মাঝে একটি আইসিটি পলিসি প্রণয়ন করেছে তথাপি এটি মনে রাখা দরকার যে, তাতে ১০ বছরের পরিকল্পনা রয়েছে যা খুব সঙ্গতকারণেই ২০১৯ সালে শেষ হবে। আমি যদি অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের দেয়া বাজেট বক্তৃতা বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ অক্টোবরের ভাষণটি পাঠ করি তবে দেখা যাবে যে, আইসিটি নীতিমালায় দুটি ভাষণের সামান্যতম প্রতিফলনও নেই। আরও স্মরণ করা প্রয়োজন যে, সেটি প্রণয়ন করেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকারবিহীন একটি সরকারের অরাজনৈতিক একটি গোষ্ঠী। সেই গোষ্ঠী ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটিকেই গ্রহণ করেনি_ বরং বিরোধিতা করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশবিহীন নীতিমালাটিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দগুলো যোগ করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আমলারা। তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ কতটা বুঝে সেটি নিয়েই আমার সন্দেহ আছে। সরকার সেটিকে অন্তর্বর্তীকালীন পরিকল্পনা হিসেবে নিলেও ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে আমরা যা বলি বা সরকার যা বলে তার কোন প্রতিফলন আইসিটি নীতিমালায় নেই। বস্তুত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের কোন ধারণাই এই নীতিমালায় নেই। আমি মনে করি, নীতিমালার কর্মপরিকল্পনা অংশটুকুর আপডেট করার পাশাপাশি নীতিমালাকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সরকারকে জরুরী পদপে নিতে হবে।
২০১০ সালে সরকারকে তার নিজের কাজ করার পদ্ধতির পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ডিজিটাল ভূমি, ডিজিটাল আইনশৃক্মখলা, ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে কার্যকর পদপে নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পেঁৗছানোর কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। সরকারের কাজ করার ও যোগাযোগ করার েেত্র ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরণের কাজ আমাদের সকলকে ডিজিটাল যুগের স্বাদ নিতে সহায়তা করবে। শিা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য সরকারকে আমরা ২০১০ সালে অত্যন্ত সক্রিয় দেখতে চাই। ২০১১ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য ২০১০ সালেই সরকারকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আমরা ল্য করেছি যে, সরকার ২০০৯ সালে শিা প্রতিষ্ঠানকে কম্পিউটার ল্যাব সজ্জিত করার কাজ মাত্র ১২৮টি প্রতিষ্ঠানে সীমিত রেখেছে। দেশের ২৮ হাজার শিা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ১২৮টি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা মোটেই কোন উল্লেখযোগ্য কাজ নয়। এইসব প্রতিষ্ঠানে শিক নিয়োগ করার েেত্রও ২০১০ সালে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর আগে সরকার শিা প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার কম্পিউটার বিতরণ করেছে। কিন্তু সেই ১৭ হাজার কম্পিউটার শিা ব্যবস্থায় কোন অবদান রাখতে পারেনি। সরকারকে এজন্য একটি কার্যকর উপায় বের করতে হবে। একই সাথে কেবল কম্পিউটার সরবরাহ না করে ডিজিটাল এডুকেশনাল কনটেন্ট তৈরির জন্যও ২০১০ সালে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমরা ২০১০ সালে মোবাইলে থ্রিজি নেটওয়ার্ক কার্যকর দেখতে চাই। আমরা চাই ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইদথ সরকার ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করুক। জনগণ সেই ব্যান্ডউইদথ যেন ৫০০ টাকায় পেতে পারে। আমরা ডিজিটাল কমার্সের যুগে ২০১০ সালেই পেঁৗছাতে চাই। ২০১০ সালে আমরা জেলা, উপজেলা ও গ্রামপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ দেখতে চাই।

ঢাকা, ০১ জানুয়ারি ২০১০ লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা ই-মেইল : বলর্্রটতটনটঠঠটরআথবটধফ.ডমব, ওয়েবপেজ : ষষষ.ঠধনমহণপল্রদণ.ভর্ণ

No comments

Powered by Blogger.