পদ্মা সেতু ও প্রবাসীরা

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য প্রবাসীদের বেশি করে রেমিটেন্স পাঠানোর কথাও বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শনিবার লন্ডনে তাঁর সম্মানে পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনিস্টার হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ আহ্বান জানান।


প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পদ্মাসেতু নির্মাণের জন্য টোল আদায় বা চাঁদা তোলার দরকার নেই। বরং আপনারা দেশে বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠান।’
বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ঋণচুক্তি বাতিল করার পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের প্রতি ইঙ্গিত করে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারও কাছে মাথা নত নয়, আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমরা পরনির্ভরশীল হব না, কারও মুখাপেক্ষী হব না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ এখন দেশের মানুষেরও চাওয়া। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এ ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহী। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত অনেক প্রবাসী রয়েছেন যাঁরা পদ্মাসেতু নির্মাণে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এ ব্যাপারে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। গণমাধ্যমের কাছে অনেক প্রবাসী তাঁদের ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেছেন, সরকার চাইলে আমরা অর্থ বিনিয়োগ করব। তবে কিভাবে এ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে তার জন্য প্রয়োজন একটি প্রস্তাবনা। সিলেটের গোলাপগঞ্জের এক প্রবাসীর অভিমত, আমরা যুক্তরাজ্য থেকে অর্থ পাঠিয়ে দেশে সুন্দর সুন্দর ভবন নির্মাণ করতে পারলে পদ্মাসেতু নির্মাণেও বিনিয়োগ করতে পারব। প্রবাসীদের এই বক্তব্যে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এখন এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। অনেক রক্ত আর ত্যাগতিতিক্ষার বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই হচ্ছে আজকের কর্তব্য।
বিশ্বব্যাংক শুধু ঋণচুক্তি বাতিলই করেনি। তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে তারা স্পষ্টতই এদেশের মানুষকে অপমান করেছে। অথচ বিশ্বব্যাংক একটি ব্যাংক। তারা ঋণ দেয় এবং সুদে-আসলে তা আবার উঠিয়ে নেয়। কাজেই তাদের আচরণ হওয়া উচিত ব্যাংকের মতো; কোন ত্রাতা বা নির্দেশকের নয়। এ কথা ঠিক, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনার জন্য উন্নয়নসহযোগী দেশের ওপর আমাদের এখনও নির্ভরশীলতা রয়েছে। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে উন্নয়নসহযোগীরা একটি স্বাধীন দেশের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৬ সালে। এবারের ২০১২-১৩ অর্থবছরের যে বাজেট সেখানে বার্ষিক উন্নয়ন খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেখান থেকে পদ্মা সেতুর জন্য অর্থ সাশ্রয় করা হবে। বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে যে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেখান থেকেও ২৪ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো কিছুটা কৃচ্ছ্র সাধন ও ত্যাগ স্বীকার করলে এ সাশ্রয়ী অর্থ দিয়েই সেতুর নির্মাণ কাজে ব্যয় করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তা জাতিকে আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর্যাবোধ সৃষ্টির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

No comments

Powered by Blogger.