ইতি-নেতি-তিউনিসিয়া, মিসরের পর কি গোটা মধ্যপ্রাচ্য? by মাসুদা ভাট্টি

টানা তৃতীয় সপ্তাহে পা দিল মিসরের স্বাধীনতা (তাহরির) স্কয়ারের গণবিক্ষোভ। এখনো দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেননি এবং বিক্ষোভকারীরাও স্কয়ার ছেড়ে যায়নি। প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, কারা এই বিক্ষোভকারী? কে তাদের নেতা? প্রথম প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, গোটা মিসরই বিক্ষোভজ্বরে আক্রান্ত। ২৫ জানুয়ারি এ বিক্ষোভের শুরুটা ছিল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর।


ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এই উত্তর-আধুনিক বিপ্লব নিয়ে অনেকেই আপ্লুত। বিশেষ করে আরববিশ্বে যে একনায়কতন্ত্র পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সব দেশেরই মুক্তিকামী মানুষ আশাবাদী হতে শুরু করেছে। মিসরের এ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্পষ্টতই তিউনিসিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেইসবুক, টুইটার ও মোবাইল ফোনসেটের মাধ্যমে যে বার্তাটি মিসরবাসী, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বেকার ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিল, এর মূল বক্তব্যটিই ছিল এ রকম_'তিউনিসিয়ার দিকে তাকাও বন্ধু, ওরা পারলে আমরাও পারব। আমাদেরও সময় এসেছে এই পচা-গলা রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার, তা যদি শান্তিপূর্ণভাবে হয় ভালো, না-হলে আমাদেরও বিকল্প পথ দেখতে হবে।' তিউনিসিয়ার বিক্ষোভের পর মিসরের বিক্ষোভকারীরা যাতে পুলিশ বা সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হাতে নির্যাতিত না হতে পারে সে জন্য বিক্ষোভকালীন আচরণবিধিও ইন্টারনেটেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাথাঢাকা জ্যাকেট ও টিয়ারগ্যাস থেকে বাঁচার জন্য চাদর, যাতে সহজে দৌড়ে সরে পড়া যায় সে জন্য কেডস পরার মতো মৌলিক বিষয়গুলোর উল্লেখ ছিল। এমনকি বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ ছিল, কারণ এমনও তো হতে পারে যে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাদা পোশাকে লুকিয়ে আছে সরকারের পুলিশ কিংবা গুপ্ত বাহিনীর সদস্যদের কেউ থাকতে পারে। সরকার প্রথমেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়; কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তরুণ শিক্ষিত প্রজন্ম তখন রাস্তায় নেমে পড়েছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে,তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বয়স্করাও।
তাহলে বিক্ষোভে বাধাদানকারী কারা? এরা আসলে তারাই, যারা প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের আমলে সুবিধাভোগী শ্রেণী। যারা এখনো মনে করছে যে প্রেসিডেন্ট যদি এ যাত্রায় টিকে যায় তাহলে তাদের মাথায় তুলে নাচবেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি করবেন। ২০০৮ সালেই ওয়ার্ল্ড ভ্যালুস সার্ভে নামের একটি সংস্থা মিসরবাসীর ওপর একটি জরিপ চালায় এবং তাতে প্রথম প্রশ্নটিই ছিল তাদের মধ্যে কেউ জীবনে একবারও কোনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে কি না? মাত্র আট শতাংশ মিসরবাসীর উত্তর যা ছিল তাতে প্রতীয়মান হয়েছিল, এই বিক্ষোভকারীদের মাত্র আট শতাংশের আগে কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। বলাই বাহুল্য, এরা মিসরের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নিবেদিত কর্মী বা সমর্থক। মিসরের মতো রাষ্ট্রে যেখানে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ প্রায় নিষিদ্ধই বলতে হবে, সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আসলে নেই। এখানে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই যে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী এককভাবে এ গণবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ লেখায় প্রথম যে দুটি প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার দ্বিতীয়টির উত্তর হচ্ছে_বিগত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মুবারকের দলকে পার্লামেন্ট শক্তিশালী করার জন্য ৮০ শতাংশ ভোট পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এর আগে থেকেই বিরোধীদলীয় নেতাকে আটক রাখা হয়েছিল তিন বছরেরও অধিক কাল। এতে মিসরীয় সমাজব্যবস্থার খুব যে হেরফের হয়েছে এর প্রমাণ নেই। কারণ ৩০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট মুবারক একইভাবে ক্ষমতায় আছেন। এর আগে মাত্র ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রকে হটিয়ে সামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সেটিও ছিল রক্তপাতের ভেতর দিয়ে। এর আগে দীর্ঘ প্রায় ১৫০ বছর মিসরের ক্ষমতাসীন রাজবংশ দোর্দণ্ডপ্রতাপে দেশটি শাসন করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, বিগত দুই শতকে মিসরে আসলে তেমন কোনো গণবিক্ষোভের প্রমাণ নেই। তাহলে হঠাৎ এ গণবিক্ষোভের ঘটনা কী করে ঘটে গেল? এর উত্তরে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে তিনটি প্রধান কারণ নিরূপণ করেছেন বিশ্লেষকরা_এক. তিউনিসিয়ার গণবিক্ষোভের সাফল্য; দুই. একনায়কতন্ত্রের হাতে বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত জনগণের ক্ষোভ মূলত একীভূত করেছে তিউনিসিয়ার এ ঘটনা; তিন. আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, যা একীভূত ক্ষোভকে গণবিক্ষোভের মঞ্চে এনেছে। সরকার যখনই ইন্টারনেট বন্ধ করেছে, জনগণ তখন আরো ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধীনতা স্কয়ারে এসেছে বাকস্বাধীনতা, বঞ্চনা, নির্বাচন আর বেঁচে থাকার মতো মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের নাগরিক-জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। স্মর্তব্য, প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৯ সালের ৪ জুন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বত্তৃদ্ধতায় এ কথা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে বিশ্বের প্রত্যেক নাগরিকের 'ফ্রিডম, জাস্টিস অ্যান্ড ডিগনিটি'র মতো 'সামগ্রিক মূল্যবোধ'-এর ন্যায্য অধিকার রয়েছে। এসব থেকে বঞ্চিত রাখার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। মিসরবাসীকে কি তবে ওবামা পথ দেখালেন বিপ্লবের?
দুই. ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সরাসরি কথা বলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সঙ্গে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ওয়াশিংটন ডিসির ওভাল হাউস থেকে ফোন আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটি আসলে কিভাবে চলবে এবং তার গতিপথ কেমন হবে। এটা সাদামাটা কথা। এর বাইরে অনেক নিগূঢ় সত্য রয়েছে, যা এখানে আলোচনার প্রয়োজন নেই। গত ৩০ বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট মুবারক এ রকম ফোন অনেক পেয়েছেন। তিনি নিশ্চয় এতে অভ্যস্ত। কিন্তু ওভাল হাউস বলছে, সেদিনের ওবামা-মুবারক কথোপকথন ছিল 'উত্তপ্ত'। প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রেসিডেন্ট মুবারককে পদত্যাগ করতে বলেছেন এবং সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অনুরোধ জানিয়েছেন_এই তথ্য গণমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায়। কিন্তু মুবারক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর করব ঠিক আছে, কার কাছে? তিনি যুক্তি দেখান, ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলে মিসরের চরম ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখল করবে এবং এর ফলে আরবে শান্তি বিনষ্ট হবে, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের করা শান্তিচুক্তি তারা নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দেবে। এই একই যুক্তিতে বিগত সালগুলোতে মার্কিন প্রভাব সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট মুবারক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতা, ভোটের অধিকার এবং ৩০ বছরে মোট ছয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মিসরে হোসনি মুবারককে হঠানো সম্ভব হয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। তিনি থেকে গেছেন অটুট আর দিনে দিনে আরো কঠোর হয়েছেন মিসরবাসীর ওপর। যে কারণে তাদের মনে মার্কিনবিরোধিতা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রেই। যদিও মিসরের ইতিহাসে ক্লিওপেট্রার পর থেকে গামাল আবদেল নাসেরের সময় পর্যন্ত বিদেশিদের শাসন ও প্রভাব সম্পূর্ণ বজায় ছিল। রানি ক্লিওপেট্রাকে দু-দুজন রোমান শাসকের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে হয়েছে মিসরের ক্ষমতা মিসরীয়দের হাতে রাখতে। শেষ পর্যন্ত তিনি যখন তা পারেননি তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মুবারকের অবস্থা তো আসলে সে রকম নয়। তবে প্রশ্ন হলো, তাঁকে যেতে হবে ঠিকই, কিন্তু কিভাবে? কার হাতে ক্ষমতা দিয়ে? শেষ পর্যন্ত মিসরের কী হবে?
তিন. খুব সংক্ষেপে বললে এ কথা বলতেই হয়, মিসরে যখন থেকে রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই রাজনীতি গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে মসজিদে। কারণ একমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয়ের ওপরই একনায়কতন্ত্র কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। মানুষ তখন রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় খুঁজেছে ধর্মের কাছে। ফলে সন্দেহ নেই, মিসরে ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতেই পারে। কিন্তু তাতে যদি জনগণের সমর্থন থাকে তাহলে তাকে ঠেকানোর অর্থ হচ্ছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা, যা এত দিন ধরে প্রেসিডেন্ট মুবারক করে এসেছেন। আবার কট্টর ইসলামপন্থীরা যদি ক্ষমতা গ্রহণ করে ধর্মের নামে ইরানের মতো মানুষকে শোষণ করতে শুরু করে তবে অচিরেই মানুষ তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মুবারকের সাদৃশ্য খুঁজে পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই; এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, মিসরীয়দের মনে এ ভয় অনেক বেশি প্রকট। ২০১০ সালে পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ মানুষই মিসরে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে আগ্রহী, যা বিদেশি প্রভাবমুক্ত এবং ভেঙেপড়া রাষ্ট্র-কাঠামোকে খুব দ্রুত খাড়া করতে সক্ষম। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট মুবারকের অর্থনৈতিক রিফর্মকে কেউ কেউ এ ব্যাপারে ভালো নজরে দেখতে শুরু করেছেন এখনই। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ কথাও বলতে চাইছেন_তখনই একটি শাসনব্যবস্থায় ধস নামে, যখন তা নিজেই নিজেকে সংশোধন করতে শুরু করে এবং হোসনি মুবারক সে কাজটিই শুরু করেছিলেন। এগুলো আসলে রাজনৈতিক তত্ত্ব, সাধারণ মানুষের কাছে এর গুরুত্ব খুবই কম। সাধারণ মানুষের চাহিদাও সাধারণ এবং সোজাসাপ্টা। মিসরের মানুষ এ সোজাসাপ্টা দাবি নিয়েই রাজপথে নেমেছে, একই সঙ্গে আরববিশ্বের আরো অনেক দেশেই শোনা যাচ্ছে বিক্ষোভের পাঁয়তারা। এরই মধ্যে আলজেরিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ইয়েমেনের দীর্ঘকালীন শাসকরা জনবিক্ষোভের আভাস পেয়ে রাতারাতি গণতান্ত্রিক বনে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানো থেকে শুরু করে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবের মতো কট্টরপন্থী রাষ্ট্রেও উঠছে গণতন্ত্রের হাওয়া। এর মানে কি মধ্যপ্রাচ্যেও গণতান্ত্রিক বিবেকের আশাবাদী হওয়ার পথ খোলাসা হচ্ছে? বেশ কয়েক বছর আগে আমার এক নিবন্ধে আমি মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হলে বিশ্বশান্তির জন্য তা কতটা উপকারী হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ সেখান থেকে ধার নিয়ে আবারও স্পষ্ট করেই বলতে চাই, মধ্যপ্রাচ্য আসলে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল, অন্ততপক্ষে রাজনৈতিকভাবে। ঢালাওভাবে পশ্চিমে এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডকে দায়ী করা হচ্ছে সন্ত্রাস, অস্থিরতা ইত্যাদি নেতিবাচক প্রপঞ্চ ছড়ানোর জন্য। একটি ভূখণ্ড বা তার সব অধিবাসীই খারাপ_এ রকম মানসিকতা শুভকর নয়। তবে এ রকম মানসিকতার গোড়ায় রয়েছে এ ভূখণ্ডের গণতন্ত্রহীনতা। ক্রমশ এই মেঘ কেটে গেলে হয়তো মধ্যপ্রাচ্য থেকেই একসময় বিশ্বশান্তির সুবাতাসও বইতে শুরু করবে। গণতন্ত্রও শান্তিরই কথা বলে; অপার পার্থিব শান্তি। তিউনিসিয়া, মিসর, আলজেরিয়ার ঘটনাবলি আসলে দীর্ঘ শান্তি প্রতিষ্ঠার সূচনারই বার্তাবাহী।

লেখক : সম্পাদক, একপক্ষ
editor@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.