বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী শুরু-শ্রমিকদের যথাযথ সুবিধা দিতে অর্থমন্ত্রীর আহ্বান

দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প খাতের শ্রমিকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গত তিন দশকে দেশের সামগ্রিক বস্ত্র খাত এমন একটা পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, যা নিয়ে জাতি গর্বিত। এ জন্য উদ্যোক্তা ও শ্রমিক—উভয়েরই বড় ধরনের অবদান আছে।


মুহিত বলেন, শ্রমিকেরাই এ শিল্পের প্রধান হাতিয়ার। আর তাই তাঁদের যত্ন নেওয়া শিল্পপতিদের দায়িত্ব।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চার দিনের বস্ত্র ও পোশাক খাতের যন্ত্রপাতির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং হংকংয়ের ইয়র্কার্স ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস কোম্পানি যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বস্ত্র ও পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার খুব শিগগির আরও চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করবে। এর ফলে দেশীয় উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, গ্যাসের অভাবে অনেক স্পিনিং কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। অথচ অনেক দিন আগে এগুলো স্থাপন করা হয়েছে। তিনি শিল্প খাতের গ্যাসসংকট দূর করতে দ্রুত একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন।
সভাপতির ভাষণে বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন বলেন, বস্ত্র খাতের কারখানাগুলো এখন রপ্তানিমুখী নিট পোশাকশিল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাঁচামাল ও ওভেন পোশাকশিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাঁচামাল জোগান দিচ্ছে। ফলে এই মিলগুলো প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক ও আমদানি-পরিপূরক শিল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিটিএমএর সভাপতি বলেন, দেশের ভেতর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, অন্য দেশ থেকে তুলা, সুতা ও কাপড় আমদানি এবং দেশীয় কারখানাগুলোয় জমে থাকা বিপুল পরিমাণ সুতা-কাপড় এই শিল্পে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব, বিশেষত ইউরোপের আর্থিক সংকট ও এর প্রভাবে ইউরোপে চাহিদা কমে যাওয়া দেশের প্রাথমিক বস্ত্র খাতের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রদর্শনী সম্পর্কে বিটিএমএর সভাপতি আরও বলেন, বস্ত্র খাতের যে আধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হচ্ছে, তার সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পরিচয় ঘটানো ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে ২০০৪ সাল থেকে বিটিএমএ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে।
নবমবারের মতো এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের ৮০০ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ২০টি স্টল থাকবে। রোববার পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, জাপান, কোরিয়া, জার্মানি, আমেরিকা, ব্রিটেন, স্পেনসহ ৩১টি দেশের আট শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। গত বছর ৬০০টি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল।

No comments

Powered by Blogger.