নীলফামারীতে বন্যা, সড়ক হুমকিতে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস সড়কটি। গতকাল সোমবার সকালে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে রেড অ্যালার্ট (সর্বোচ্চ সতর্কতা) ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে।


পানি বাড়ায় জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে তিস্তার ডান তীর প্রধান বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুরচর, কিসামত ছাতনাই, ছোটখাতা, ঝাড়শিংহেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ি, ছাতুনামা, একতারচর, ভাসানীর চর, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও জলঢাকা উপজেলার হলদিবাড়ী, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারীর বিস্তীর্ণ এলাকা।
ডিমলার ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি গতকাল বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত মাটির বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসী বাঁশ পুঁতে ও বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওই এলাকার মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
বাড়িঘর হারিয়ে কয়েকটি ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছিলেন বাইশপুকুর গ্রামের জাফদ্দি মামুদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫০)। এ সময় তিনি বলেন, ‘হামার সব শেষ হয়া গেইছে, হামাক বাঁচাও।’ একই গ্রামের জহুরা বেগম (৩০) বলেন, ‘বন্যায় বাড়িঘর হারিয়ে বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছি। নিজে কী খাব, ছেলেমেয়েদের কী খাওয়াব?’
খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ারা বেগম জানান, বাইশপুকুর গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
খালিশা চাপানী ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। বাইশপুকুরে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে আরও দুই সহস্রাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়বে।
ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, রোববারের পর সোমবারও পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। অনেকে কোমরসম পানির নিচে বসবাস করছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, তাঁর ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো (৪৪টি) স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন মণ্ডল বলেন, রোববার বিকেল পাঁচটায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকেলের দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সোমবার দুপুরে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এটা হয়েছে। এ অবস্থা আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.