মাদক মামলায় ৭৯ বছর জেল-দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তিই কাম্য

মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় দুজনের ৭৯ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো সাত বছর করে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মাদক মামলায় এ দেশে এটাই সর্বোচ্চ সাজার নজির।


আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ ইয়াবা তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় ইয়াবা সম্রাট হিসেবে খ্যাত আমিন হুদা ও তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর র‌্যাব গুলশানের একটি বাড়ি থেকে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ৪৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা বড়ি এবং ইয়াবা বড়ি তৈরির উপাদান ও যন্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। এসব ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। দুটি মামলায় ছয়টি ধারায় আসামিদের প্রত্যেককে মোট ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি মামলায় সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর কারাদণ্ড। কারাবিধি অনুযায়ী, একটি মামলার সাজা কার্যকর হলে অন্যটির সাজা স্থগিত থাকবে।
বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় সর্বনাশা মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসায়ীদের একটি বিশাল চক্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে মাদকের প্রভাবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ চরম হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এই মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ করতে হবে সামাজিক ও আইনগতভাবে। এদের মুনাফার দিকে তাকিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তাদের ব্যক্তিগত মুনাফা দেশের সমৃদ্ধি আনবে না। তাই মাদক ব্যবসায়ীদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশ ও ভবিষ্যতের নাগরিকদের কথা ভেবে এদের জন্য আরো কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি কিছুটা হলেও সমাজে স্বস্তি আনতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.