রাজনীতি-পাকিস্তান কানেকশন! by মইনুল ইসলাম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যদি ভারতবিরোধী মৌলবাদী সন্ত্রাসীরাও অবাধে ব্যবহারের সুযোগ পায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর পাকিস্তানি দালাল রাজনীতিকদের দখলদারির কারণে, তাহলে ভারত নিশ্চুপ থাকবে_ এটা কি যৌক্তিক চিন্তা হতে পারে? এটা ঠিক যে, ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-ঋণে এ দেশের জনগণের বন্ধুত্ব অর্জন করেছে।


কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের শাসনাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে আমরা যদি বারবার পাকিস্তানের নিশানবরদারের অবস্থানে স্থাপন করি তাহলে ভারতের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক আমরা কীভাবে প্রত্যাশাও করতে পারি?

মার্চ মাস বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ঘোষণার মাস। আর এই মাসেই শোরগোল উঠল একটি খবর নিয়ে_ ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিজয় ঠেকানোর জন্য আইএসআই বিএনপিকে নাকি পাঁচ কোটি রুপি গোপন অর্থ সহায়তা প্রদান করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের খ্যাতনামা সংবাদপত্র খালিজ টাইমসের খবরটাকে 'বানোয়াট, নির্জলা মিথ্যাচার, চরিত্রহননের অপপ্রয়াস' ইত্যাকার বিশেষণের জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য চলেছে প্রচার-প্রোপাগান্ডা। যারা বাংলাদেশের গত ৪১ বছরের রাজনীতিতে আইএসআইয়ের ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপ ও সাবোটাজের ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তাদের কাছে এ খবরটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই খালিজ টাইমসের ৩ মার্চ প্রকাশিত খবর যদি সত্যি সত্যিই 'অসত্য' হয় তাহলে ওই ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের অভিযোগে বিএনপি ও খালেদা জিয়া অবিলম্বে ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ প্রেরণ এবং মামলা করতে পারেন। বিএনপির নেতারা ওই কথিত সাংবাদিক 'ভারতীয় এবং হিন্দু' বলে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে নিজেদের জঘন্য সাম্প্রদায়িক মনমানসিকতার নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন, যা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির অতি পরিচিত ট্রেড মার্ক। কিন্তু ওই খবরটির প্রকৃত উৎস তো পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সাংবাদিক জনৈক আফজল খান_ এই খবরটা তারা একেবারেই গায়েব করে দিয়েছেন!
পাঁচ কোটি রুপি ২০১২ সালের বিএনপির জন্য নাকি একেবারেই নস্যি, কিন্তু ১৯৯১ সালের বিএনপির জন্য ওই পরিমাণ অর্থ মোটেও অকিঞ্চিৎকর ছিল না। কারণ, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ এই দুই মেয়াদের বেধড়ক দুর্নীতি ও লুটপাট বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে শত শত কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে নিঃসন্দেহে। অতএব, বিএনপির একজন 'তরুণ' সংসদ সদস্য যেভাবে পাঁচ কোটি রুপিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন তার মরতবা বুঝতে হলে তার নিজের তখনকার অবস্থা ও এখনকার অবস্থা তুলনা করার আহ্বান জানাব। আসল প্রশ্ন হলো, ওই পাঁচ কোটি রুপি যদি বিএনপিকে দেওয়ার খবরটা 'সত্যি' হয় তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি করার নৈতিক এবং আইনগত অধিকার আদৌ থাকে কি? এই অপরাধ তো রাষ্ট্রদ্রোহ এবং জাতিদ্রোহেরই শামিল। তাই সরকারেরও এ মুহূর্তের করণীয় হলো, অভিযোগটির সত্যাসত্য যাচাই করে যথাযোগ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটা শুধুই দলীয় রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ির বিষয় নয়, এখানে দেশদ্রোহের ইস্যু জড়িত রয়েছে।
বিষয়টির সুরাহা এ জন্যই প্রয়োজন যে, বাংলাদেশের রাজনীতি গত ৪১ বছর ধরেই এই 'পাকিস্তান-ভারত সিনড্রোমে' আটকে রয়েছে, যেখান থেকে অচিরেই আমরা মুক্তি চাই। পাকিস্তানি প্রেতাত্মা এখনও বাংলাদেশের যেসব রাজনৈতিক দল এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তি ও মহলের কাঁধে ভর করে গত ৪১ বছর ধরে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সর্বোপরি সমাজকে মধ্যযুগীয় গোমরাহির পঙ্কে নিমজ্জিত করে চলেছে, তাদের সঙ্গে একটা চূড়ান্ত ফয়সালা করতেই হবে। পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং তাদের সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট এখনও বাংলাদেশের আরেকটি মিনি পাকিস্তান বানানোর খায়েশ পরিত্যাগ করেনি বলেই ধারণা করা হয়। ১৯৭৫ সালের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকেও আবার পাকিস্তান-পছন্দ রাজনীতির করাল গ্রাসে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছিল_ এটা এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়া ক্যান্টনমেন্টে বসে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির প্রত্যক্ষ মদদে কেনাবেচার রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির জন্ম দেওয়ায় তার কেনাবেচা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জালে ধরা পড়েছিল প্রধানত স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম ও দক্ষিণপন্থি পাকিস্তান-প্রেমিক নেতাকর্মীরা এবং চীনপন্থি বাম রাজনীতি ও যাদু মিয়ার ভাসানীপন্থি রাজনীতির সুবিধা-শিকারিরা। বিএনপি যেহেতু এ দেশের 'আওয়ামী লীগ ঠেকাও' রাজনীতির প্রধান প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে, তাই আওয়ামীবিদ্বেষী কিংবা আওয়ামী লীগ পরিত্যাগকারী (কিংবা কোনো কারণে আওয়ামী লীগে ঠাঁই না পাওয়া) রাজনীতিকদের প্রধান গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। অতএব বিএনপিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বেশ কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হলেও বিএনপি তার জন্ম থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করার ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে। আমরা যারা ওই ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী তাদের কাছে বিএনপিকে তাই মুসলিম লীগের বাংলাদেশি সংস্করণই মনে হবে সারাজীবন। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ, ২ মার্চ, ৩ মার্চ, ৭ মার্চ_এগুলোর কোনোই গুরুত্ব নেই। ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর সকালে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় একটা সাইক্লোস্টাইল করা লিফলেটে আমি নিজেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার খবরটা পড়লাম, কিন্তু বিএনপি ওই ঘোষণার অস্তিত্বই স্বীকার করতে নারাজ! চট্টগ্রাম বেতারে প্রচারিত এমএ হান্নানের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ওই ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরেই পঠিত হয়েছিল, কিন্তু আমার শোনার সৌভাগ্য হয়নি। বিকেলের মধ্যেই সারা চট্টগ্রাম শহরে খবর ছড়িয়ে পড়ল বেতারের ওই ঘোষণা। তাই আমাদের রেডিওটা অন করে রাখা হলো। ফলে ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় আবুল কাশেম সন্দ্বীপের কণ্ঠে প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পুরোটাই নিজের কানে শুনেছি। 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের' ওই সন্ধ্যাকালীন অধিবেশনটি প্রায় আধঘণ্টা চালু ছিল, পুরোটাই শুনেছি। পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ বাবর কামানের গোলা ছুড়তে শুরু করার পর বেতার তরঙ্গটা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমাদের রেডিওটা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। তাই পরদিন ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় প্রচারিত মেজর জিয়াউর রহমানের দু'দুটি ঘোষণাও নিজের কানেই শুনেছি। প্রথমটা নিজের নামে ঘোষণা, পরেরটা বঙ্গবন্ধুর নামে। অথচ জিয়ার মৃত্যুর পর আশির দশকের কোনো এক সময় থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি প্রচার করতে শুরু করল, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চেই নাকি চট্টগ্রাম বেতার থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এই নির্জলা মিথ্যাটা জিয়া এবং তার দলের বুদ্ধিজীবী ও নেতাকর্মীরা আজও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দরকষাকষির প্রধান অস্ত্র হিসেবে; যেহেতু আওয়ামী লীগ নাকি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়ার প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দিচ্ছে না, তাই তারা নাকি এই মিথ্যার বেসাতিটা চালিয়েই যাবেন। মাঝখানে আরেকজন স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত সেক্টর কমান্ডার কিছুদিনের জন্য 'ড্রামতত্ত্বের' অবতারণা করেছিলেন। কিন্তু ওই ভুয়া তত্ত্বটা শুধুই হাসির খোরাক হয়ে যাওয়ায় তিনি তার তত্ত্বটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি। ফলে ওই তত্ত্বটা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই। ভাগ্যিস! কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়াকে এক টেলিভিশন প্রোগ্রামে মনের ভুলে প্রথমে ২৭ মার্চ জিয়ার ঘোষণার কথা বলে পরমুহূর্তেই আবার নিজেকে শুধরে নিয়ে ২৬ মার্চের পুরনো রেকর্ডটাতেই ফিরে যেতে দেখলাম। একদিকে খালেদা জিয়া বলে চলেছেন, আওয়ামী লীগ অতীত নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটিতে ব্যস্ত, আবার অন্যদিকে নিজেই বিকৃত ইতিহাস আঁকড়ে ধরে রাখবেন_ এটা তো সমঝোতার পথ হতে পারে না। যেহেতু পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের নায়কদের কাছ থেকে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের আগাম খবর জেনেও জিয়া খবরটা চেপে গিয়েছিলেন, তাই ওই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দায়ভার তার ওপরও বর্তায়_ এ ব্যাপারটা শেখ হাসিনার মনে সারাজীবন গেড়ে বসে থাকবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার বৈরী সম্পর্কের মূল কারণটা এখানেই নিহিত বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
কিন্তু জন্মলগ্ন থেকেই 'আওয়ামী লীগ ঠেকাও' রাজনীতির মূল পতাকাবাহী হতে গিয়ে বিএনপি যেভাবে পাকিস্তানের স্বার্থের নিশানবরদার হয়ে রয়েছে, সেটা কোনো যুক্তিতেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। পাকিস্তান এখন আর বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ নয়, ভারত ও মিয়ানমার আমাদের ভৌগোলিক প্রতিবেশী। বিএনপি-জামায়াত যতই স্বপ্ন দেখুক, এই দুই প্রতিবেশীর একই কাতারে পাকিস্তানকে আর বসানো যাবে না। বিশেষত, ভারতের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তির সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে শত্রুতা করে বাংলাদেশ রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক কী ফায়দা অর্জন করতে পারবে তা বোঝা যাচ্ছে না।
২০০৪ সালে দশ ট্রাক অস্ত্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ উলফার জন্য বাংলাদেশের ডিজিএফআই ও এনএসআইর প্রত্যক্ষ মদদে চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে পাচারের ব্যবস্থা হয়েছিল_ এ অভিযোগটি এখন সরকারি পক্ষের চার্জশিটেই স্বীকৃত। ডিজিএফআইয়ের তদানীন্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রুমী ওই মামলায় সাক্ষ্য দিলেন, খালেদা জিয়া পুরো ব্যাপারটাই জানতেন। উলফার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সম্পর্কটা তো প্রমাণিত সত্য। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াচ্ছে? পাকিস্তান-ভারতের প্রক্সি যুদ্ধে খালেদা জিয়া ও নিজামী বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রকে সরাসরি জড়িয়ে ফেললেন? উলফা নেতারা বাংলাদেশকে অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহার করেছেন বহুদিন যাবৎ_ অরবিন্দ রাজখোয়ার স্বীকারোক্তিতে তাও প্রমাণিত হয়ে গেছে। বিএনপি-জামায়াত প্রতিবেশী ভারতকে যতই অপছন্দ করুক কিংবা ভারতকে আধিপত্যবাদী বলে ভারত-বিরোধিতার জিগির তুলুক, এহেন সাম্প্রদায়িকতাবাদী রাজনীতি তাদের পাকিস্তানের স্বার্থে বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র অপব্যবহারের অধিকার প্রদান করে না_ এই কথাটা সাফ সাফ জানিয়ে দিতে চাই বিএনপি-জামায়াতকে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যদি ভারতবিরোধী মৌলবাদী সন্ত্রাসীরাও অবাধে ব্যবহারের সুযোগ পায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর পাকিস্তানি দালাল রাজনীতিকদের দখলদারির কারণে, তাহলে ভারত নিশ্চুপ থাকবে_ এটা কি যৌক্তিক চিন্তা হতে পারে? এটা ঠিক যে, ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-ঋণে এ দেশের জনগণের বন্ধুত্ব অর্জন করেছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের শাসনাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে আমরা যদি বারবার পাকিস্তানের নিশানবরদারের অবস্থানে স্থাপন করি, তাহলে ভারতের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক আমরা কীভাবে প্রত্যাশাও করতে পারি?

ড. মইনুল ইসলাম : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি

No comments

Powered by Blogger.