উত্তরবঙ্গে খাদ্যগুদাম-১৮ মাসে বছর!

উত্তরবঙ্গে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে ১৪০টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেও নির্ধারিত সময়ে এগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়নি। ফলে উত্তর জনপদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সরকারি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিপদ সৃষ্টি হয়েছে।


এ ব্যাপারে গত শনিবার সমকালের ১৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত 'উত্তরবঙ্গের ১৪০টি খাদ্যগুদাম ১৪ মাসেও নির্মাণ হয়নি' শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, বিলম্ব ছাড়াও গুদাম নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের আলামত রয়েছে। সম্প্রতি রংপুরের পীরগঞ্জে ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়লে ২০ শ্রমিক আহত হয়। অথচ কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এসব খাদ্যগুদাম সরকার তাড়াতাড়ি নির্মাণ করতে চেয়ে থাকবে। খাদ্যশস্যের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোর গুরুত্ব আমাদের ঠিকাদারদের কাছে তেমন নেই। তাদের কাছে লাভটাই বড়। এ কারণে জাতীয় স্বার্থও অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়। শুধু খাদ্যগুদাম নির্মাণের ক্ষেত্রেই যে এমনটা হয়েছে তা নয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থের চাইতে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ প্রাধান্য পেতে দেখা যায়। অথচ প্রতিটি কাজে পরিকল্পনা গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে প্রকল্পগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়িত হতে পারত এবং ওগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলও দিতে সক্ষম হতো। খাদ্যগুদাম নির্মাণ যেহেতু একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় তাই এ কাজটির নির্মাণ আদেশ দেওয়ার আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো অতীত কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কতটুকু এবং এরা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করার রেকর্ডধারী কি-না, সেসব হিসাবে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের এখানে যেহেতু অধিকাংশ কাজই রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে দেওয়া হয়, তাই এখানে প্রাক্-যোগ্যতার তুলনামূলক বিচার করার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়। এভাবেই ব্যক্তিস্বার্থের যূপকাষ্ঠে জাতীয় বা বৃহত্তর স্বার্থ বলি হয়ে যায়। খাদ্যগুদাম নির্মাণের সঙ্গে কৃষি, কৃষক, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বিধায় উত্তরবঙ্গের ১৪০টি খাদ্যগুদাম কেন নির্ধারিত ৯ মাসের স্থলে ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি এবং এ জন্য কারা দায়ী সরকারের তা তদন্ত করে দেখা উচিত। এগুলো নির্মাণে আর যাতে বিলম্ব না ঘটে সে বিষয়টিও সরকারের নিশ্চিত করা উচিত।
 

No comments

Powered by Blogger.