মানুষ কেন মিথ্যা বলে? by ফাহিমা আক্তার সুমি

আচ্ছা, মানুষ মিথ্যা বলে কেন? কেউ হয়তো পরিস্থিতির শিকার হয়ে মিথ্যা বলেন। আবার কেউ অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিথ্যা বলেন। কেউ কেউ প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে মিথ্যা বলেই যান। কারও স্বভাব মিথ্যা বলা। কেউবা অভাবে মিথ্যা বলেন। যে কারণেই মিথ্যা বলা হউক না কেন-সকলেই জানেন মিথ্যা বলা অন্যায়, মিথ্যা বলা পাপ। তারপরও জেনে শোনে মিথ্যা বলা হচ্ছে অহরহ। এখানেই প্রশ্ন, কেন এই মিথ্যা বলা? সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ওয়েব সিরিজ মহানগর-এ ওসি হারুনের মুখে শোনা যায়- সকল সত্যই সত্য। কিন্তু সকল মিথ্যা মিথ্যা নয়। এখানে অবশ্য সত্য- মিথ্যার দ্বন্দ্বের একটি রেশ টানা হয়েছে।

যাই হোক, মিথ্যা আসলে মিথ্যাই। শিশুকালেই সকল সন্তানদের পরিবার থেকে শিক্ষা দেয়া হয়- মিথ্যা বলা মহাপাপ। এক সময় লেখাপড়া শুরু হতো আদর্শলিপি দিয়ে। যেখানে মিথ্যা বলা মহাপাপ- এ বচনটি সবার মুখস্থ ছিল। আর এখন সবক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের হাওয়ায় শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ কখনো ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, কখনো দুষ্টমির ছলে মিথ্যার আশ্রয় নেন। আবার কখনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বা রাজনীতির ময়দানে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অনেক রাজনীতিক মিথ্যার বেসাতি করেন। স্বজনদের সান্ত¡না দিতে মিথ্যা বলতে হয়। প্রতারকরাও বিভিন্ন প্রতারণার জন্য মিথ্যার ফাঁদ পাতে। অনেকে মিথ্যা বলে নিজেকে খুব চালাক ভাবেন। মিথ্যা বলে অন্যকে ঠকাতে পারলে এক ধরনের আনন্দ ও তৃপ্তি পান। এক্ষেত্রে সবসময় মিথ্যা বলা এক ধরনের মানসিক সমস্যাও বলা যায়। অনেকে আবার অবচেতন মনে বার বার মিথ্যাটা বলে আসে। পারিবারিক বা সামাজিক কারণে কারও কারও ছোটবেলা থেকেই মিথ্যা বলার বদ অভ্যাস গড়ে ওঠে। অনেকে আবার সবার কাছে নিজেকে যোগ্য, দক্ষ, স্মার্ট, সৎ ও ভালো হিসাবে প্রকাশ করতে সত্য-মিথ্যার মিলে কথা বলে। নিজের হীনম্মন্যতাকে চাপা দেয়ার জন্য মিথ্যা বলে অনেকে। অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধ প্রতিষ্ঠিত করতেও আশ্রয় নেয় মিথ্যার। নিজের গোপন কথা গোপন রাখতে মিথ্যা বলা হয়। আবার কখনো যেকোনো সম্পর্ক সহজ করতে মিথ্যা বলে থাকে অনেকে। মিথ্যার এই অভ্যাসগুলো অনেকে সহজে ছাড়তে পারে না। কেউ অতীতে খারাপ কিছু করে থাকলে তা লুকানোর জন্যও মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে কিছু মানুষের মিথ্যা বলা মুদ্রা দোষে পরিণত হয়েছে। মিথ্যা বলে পাপ, অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি সব করছে। আর এ মিথ্যা প্রকাশ্যে অবলীলায় বলছে মানুষ। এমনকি মিথ্যার মাধ্যমে খুনের মতো ঘটনাও ঘটছে। অনেকে মিথ্যা বলে নিজের স্থানটাকে ধরে রাখতে চায়। মিথ্যা বলায় ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, সব পর্যায়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাইফা রহমান। রাজধানীর তেজতুরি বাজারের একটি হোস্টেলে থাকেন। বাবা-মা, ভাইবোন থাকেন কিশোরগঞ্জে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল মানুষ মিথ্যা বলে কেন? সোজা কথায় জাইফা বলেন, আমি নিজেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রতিদিন কিছু না কিছু মিথ্যা বলছি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেন জানি মিথ্যা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মিথ্যা বলে থাকি। তবে জাইফা জোর গলায় বলেন, আমি মিথ্যাবাদী পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই না। আমি তো ইচ্ছা করেই সবসময় মিথ্যা বলি তা নয়। হুট করে কোনো পরিস্থিতিতে আমাকে কোনো না কোনো মিথ্যা বলতে হয়। অনেক সময় মিথ্যা বলার পরে চিন্তা হয়। নিজেও মেনে নিতে পারি না।

মূল কথা- সত্যের বিপরীতই মিথ্যা। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে তাকে মিথ্যাবাদী বলা যেতে পারে। সাধারণত মিথ্যা শব্দটি একটি নেতিবাচক অর্থ বহন করে। কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, ইসলামে মিথ্যার সামান্যতম আশ্রয় বা সুযোগ নেই। এটা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গর্হিত। শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, সকল ধর্মেই মিথ্যা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। মিথ্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।  

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড ওয়াইজম্যান বলেছেন, প্রতিদিন জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মিথ্যা বলে। আমরা মিথ্যা বলায় বেশ ভালো, মিথ্যা শনাক্তকরণ বেশ বাজে। এক জরিপে দেখা গেছে যে, পাঁচ শতাংশ মানুষ দাবি করেছে যে, তারা কখনোই মিথ্যা বলেনি।

এই বিষয়ে কথা হয় ফার্মগেটের ফল ব্যবসায়ী রাকিবের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে কারণে-অকারণে মিথ্যা বলতে হয়। আবার দেখা যায় ব্যবসার সুবিধা লাভের জন্য কমবেশি মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। একজন টাকা পাবে। তাকে কখনো কখনো মিথ্যা বলে সামলে রাখতে হয়। এদিকে হাতে টাকা থাকলেও চিন্তা করতে হয় এই টাকা দিয়ে আবার নতুন কিছু মাল আনতে পারি কিনা। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবসময় সত্য বলা যায় না। এতে অসুবিধাও হয়।

রিকশাচালক ইকবাল হোসেন বলেন, আমার বাড়ি গাজীপুর। তিন বছর ধরে ঘর ছেড়েছি। আমি রাজনীতি করি। এলাকায় নেতাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতাম। তাতেই আমাকে হয়রানি করা হয়। এরপর ঢাকায় চলে আসি। আমি কোথায় আছি? কি করি এলাকার কেউ জানতে চাইলে সত্য বলতে পারি না। আমাকে মিথ্যা বলতে হয়। আমি ঢাকায় রিকশা চালাই এটাও কেউ জানে না। এই মিথ্যাগুলো তো আমি ইচ্ছা করে বলছি না। এগুলো তো নিজেকে রক্ষা করার জন্য বলতে হচ্ছে।

আফসানা মৌ বলেন, আমরা সবাই কমবেশি মিথ্যা বলি অপরাধ ঢাকার জন্য। কমবেশি ছোট ছোট অপরাধ করা হয়। আর এই অপরাধের দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাঝে মাঝে মিথ্যা বলা হয়। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো প্রিয় মানুষদের কষ্ট বা উদ্বেগ থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা বলা হয়। আমার মনে হয় সঙ্গী, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার আমার যেকোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে তার মানসিক শান্তির জন্য অনেক সময় বাড়িয়ে মিথ্যা কথা বলতে হয়। এসব মিথ্যা কথাগুলো আসলে না বলে আর কোনো উপায় থাকে না। 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মানবজমিনকে বলেন, মিথ্যায় যদি আর্থিক লাভ হয় তাহলে সাধারণত মিথ্যা বলে মানুষ। যারা সেই সমাজকে বিশ্বাস করে যেখানে মিথ্যার কোনো আর্থিক মূল্য নেই। আমরা সেই আদর্শে বিশ্বাস করি। সত্য-মিথ্যার রহস্য এখানে। যারা পুঁজিবাদে বিশ্বাস করে, লোভী তারা মিথ্যা বলার পরে লোভ হয়। নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য মিথ্যা বলে। কিন্তু যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা মিথ্যা বললে এখানে কোনো আর্থিক সুবিধা হয় না। এখন প্রচলিত রাজনীতি যারা বড় বড় রাজনীতি সত্য বলে দাবি করে তারা মিথ্যাচারের মধ্যে আছে। অতীত ও বর্তমানের রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এখনকার রাজনীতিকে আমি রাজনীতি বলি না- এটা এক ধরনের ব্যবসা। ব্যবসায়ীক বিবেচনা থেকে রাজনৈতিক লেবাস গায়ে জড়িয়ে তারা সেই বাবসায়ীক সুবিধা করতে চায়। অনেকে মিথ্যা বলে বলে নিজের স্থানটাকে ধরে রাখতে চায়। সেই ব্যক্তি এক্সপার্ট পলিটিশিয়ান যে নাকি মিথ্যাচারে এক্সপার্ট এবং মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে। এবং এটা করে কারণ এটা দিয়ে তার আর্থিক লাভ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মানবজমিনের যুগ্ম সম্পাদক শামীমুল হক বলেন, মানুষ মিথ্যা বলে কেন? এর উত্তর দেয়ার আগে বলে নেই, মিথ্যা বলা মহাপাপ। সকল ধর্মই মিথ্যাকে না বলেছে। তারপরও মানুষ মিথ্যা বলে। আর এ মিথ্যা বলার প্রধান কারণ মনে হয়-স্বার্থ।  নিজের স্বার্থের জন্য মিথ্যা বলে মানুষ। বর্তমান সময়ে কিছু মানুষের মিথ্যা বলা মুদ্রা দোষে পরিণত হয়েছে। মিথ্যা বলে পাপ, অন্যায়, অনিয়ম সবকিছু করছে। আর এ মিথ্যা প্রকাশ্যে অবলীলায় বলছে মানুষ। আপনি দেখবেন, ঢাকায় রাস্তায়  আপনার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া ব্যক্তি ফোনে বলছেন, আমি এখন কুমিল্লায়। চার পাঁচদিন পরে ঢাকায় আসবো। আপনি তার কথা শুনছেন। মিথ্যা কথা বলছেন তাও বুঝছেন। ওই ব্যক্তিও জেনে শুনেই মিথ্যা বলছেন। তার মানে প্রকাশ্যে এই মিথ্যা বলাকে তিনি দোষের কিছু মনে করছেন না। তবে, সত্য হলো মিথ্যা একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। সমাজে অশান্তি তৈরি করে। একটি মিথ্যায় সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। মিথ্যা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, সত্য মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। ভুল করে কারও কাছে স্বীকার করে নিলে সহজেই ক্ষমা পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, শুরু থেকেই একজন শিশুকে সত্যের কথা বলবে, সৎ পথে চলবে এই শিক্ষা দিয়েই কিন্তু বড় করা হয়। কিন্তু সেই শিশু বড় হয়ে দেখে আদর্শ সেই বাণীগুলো দিয়ে সমাজে অনেক সময় সে পেরে উঠে না, খাপ খাওয়াতে পারে না- তখন তাকে বিকল্প উপায় ভাবতে হয়। আর সেই বিকল্প উপায়টাই হলো মিথ্যা। মিথ্যা দিয়ে বিপদ থেকে বাঁচা যায়, মিথ্যা বলে নিজের স্বার্থ হাসিল করা যায়, মিথ্যা বলে নানা ধরনের অভাব-অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় বা মিথ্যা বলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। আমাদের দেশে সকল শ্রেণির মানুষই মিথ্যা বলছে। রাজনীতি, ব্যবসায়ী বা অন্যান্য পেশাগত ব্যক্তি যারা তারা সত্য দিয়ে আসলে টিকে থাকতে পারবেন কিনা? যখনই তিনি টিকে থাকতে পারবেন না মনে করেন তখনই ওই ব্যক্তি মিথ্যার আশ্রয় নেয় বা সত্য গোপন করে।  তিনি বলেন, যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকেন তারা যখন মিথ্যা বলেন বা অর্ধ সত্য বলেন বা সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ করে কথা বলেন সেটি আসলে সমাজ, জাতির যে ইতিবাচক প্রভাবের জায়গাটা বা মানুষকে সঠিক তথ্যটি পাওয়ার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে এর মধ্য থেকে সমাজ, রাষ্ট্র বির্নিমাণে মানুষের যে অঙ্গীকার বা একত্র হওয়া বা তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক যে প্রক্রিয়ার জায়গাটি কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে মিথ্যা ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে গুজব তৈরি হয়। এই গুজবকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এমনকি মানুষ খুনেরও শিকার হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান বলেন, নিজের প্রতি যখন আত্মবিশ্বাস কম থাকে, বাস্তবতাকে যখন ফেস করতে পারে না তখনই মানুষ মিথ্যা বলে। এই মিথ্যা বলার প্রভাবটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যত মিথ্যা বলবে সেটি একসময় তার কাছে কোনো ব্যাপারই মনে হবে না। তখন কারণে-অকারণে কথায় কথায় সে মিথ্যা বলবে। একসময় এটি তার ব্রেনে সেট হয়ে যায়। এর প্রসারতা দিন দিন বাড়তে থাকে। মিথ্যা কথা বলা মানুষগুলোর বিবেকটাও তখন ঠিকভাবে কাজ করে না। 

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, হাদিসে আছে মিথ্যা বলা মহাপাপ। এবং এমন একটি বিষয় যে মিথ্যা বললে একটি দুর্গন্ধ আছে সেই দুর্গন্ধটা ফেরেশতারা অনুভব করতে পারেন। সেটির কারণে ফেরেশতারা অনেক দূরে চলে যায়। বড় যে গুনাহ বা পাপ আছে তার মধ্যে এটি একটি। মিথ্যা থেকে অবশ্যই সবাইকে দূরে থাকা দরকার। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক সব ধরনের ক্ষতি মিথ্যা বলা। মিথ্যা না বলা একজন মুমিনের বিশেষত্ব। মিথ্যাবাদীকে সৃষ্টিকর্তাও পছন্দ করেন না।

ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী শান্তিকরা নন্দজী (কিশোর মহারাজ) বলেন, মিথ্যা বলা কোনো ধর্ম সমর্থন করে না।  প্রত্যেকটি ধর্মেই মিথ্যা বলা পাপ। যারা মিথ্যা বলে তাদের বিবেক জাগ্রত হয়নি। যখন বিবেক জাগ্রত হয় তখন বুঝতে পারে। যারা বলছে মিথ্যা বলো না তারাই মিথ্যা বলছে। আগে নিজের বিবেকটাকে জাগ্রত করতে হবে। মানুষ আত্মসাৎ করছে, এটি সে জেনেশুনেই করছে। বাবা তার সন্তানকে বিশ্বাস করছে না, সন্তান তার বাবাকে বিশ্বাস করছে না। আগে তো এইসব ছিল না। এর থেকে রেহাই পাওয়ার একটাই উপায় ছোটবেলা থেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। পারিবারিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং নৈতিক আচরণ তাকে বুঝানো।


No comments

Powered by Blogger.