বন্দি বিনিময়ের চুক্তি ইতিবাচক’



স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পাদিত বন্দি বিনিময় চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে আমাদেরও লাভ হতে পারে।
ফৌজদারী অপরাধ এমনকি খুন করে কেউ পালিয়ে ভারতে গেলে তাদের খুঁজে বের করা অনেক কঠিন। সেক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে চুক্তি থাকাটা ভাল। ভারতের আরও একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তি রয়েছে। বৃটেন, আমেরিকার সঙ্গেও চুক্তি রয়েছে। সেসব দেশে অপরাধী আশ্রয় নিলে তাদের বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে চুক্তিতে। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইমতিয়াজ বলেন, চুক্তি কিভাবে ব্যবহার করবো তার উপর নির্ভর করে এটি কতটা লাভজনক অথবা আদৌ এটা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে কি না। সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হলো উলফাকে নিয়ে আমাদের অবস্থান কি? উলফার নেতাদের যদি আমরা আশ্রয় দেই তাতে তো আমাদের কোন লাভ নেই। তারাতো বাঙালী বিরোধী। তাদেরকে এদেশে আশ্রয় দেয়াটাও ছিল ৭১’র আগের রাজনীতি। এবং সেটাও একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সুতরাং উলফা নেতাদের ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেয়াই বরং নিরাপদ।
ভিসা সহজীকরণ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল গ্রাউন্ডে সহজ ভিসা দেয়ার কথা বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের সম্মানজনক ভিসা এবং ছাত্রদের জন্য এক বছরের শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভিসার যে সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে তা আমাদের জন্য লাভজনক। এতে আমাদের ভাল অগ্রগতি হতে পারে। অন্যান্য দেশে তো আরও অগ্রগতি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়াদির এ বিশ্লেষক বলেন, যেসব চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অলাভজনক ছিল সেগুলো করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদের দূর্বলতা ছিল। তিস্তা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশেরও কোন সমস্যা ছিল না, দিল্লীরও কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু দিল্লীর সঙ্গে পশ্চিম বঙ্গের বৈরী সম্পর্কের কারণেই বিষয়টি আটকে গিয়েছে। আমি মনে করি, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ সমস্যা সমাধান হবে না। কিন্তু আমাদের নীতি নির্ধারকদের দুর্বলতা এটা যে, তারা ভারতের রাজনীতি না বুঝেই জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.